আজঃ সোমবার ৪ মে, ২০২৬

ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপিত হওয়ায় মানুষ উপকৃত হবে-আবু সুফিয়ান এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত ডায়ালাইসিস সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আইসিইউতে ডায়ালাইসিস সেবার শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোঃ আবু সুফিয়ান। এর পর হাসপাতালের আয়োজনে সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ আবু সুফিয়ান এমপি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী বন্ধু আনামুল হক ইকবালের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে একটি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হবে-এটা আমাদের পরম পাওনা।

পর্যায়ক্রমে এ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য আলাদাভাবে ডায়ালাইসিস ইউনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতাল দু’টির সমস্যা পুঙ্খানুপঙ্খরূপে ফাইল আকারে নিয়েছি এবং এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি’র সাথেও হাসপাতালগুলোর সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। সমস্যা সমাধানসহ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে যত বরাদ্ধ লাগবে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরসন করবেন বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার চেহারা পাল্টে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, সরকারের উপর চাপিয়ে দিয়ে বা সরকারের দিকে চেয়ে থেকে আমরা সবকিছু করতে পারবো না। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আনামুল হক ইকবাল জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ডায়ালাইসিস সেবা সহযোগিতা দিয়ে বেসরকারীভাবে এগিয়ে এসেছেন। সরকার থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল চিকিৎসা সুবিধা ও অবকাঠামোগতভাবে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে। এগুলো আমাদেরকে খেয়াল রেখে বেসরকারী উদ্যোক্তা ও সমাজে ইকবাল ভাইয়ের মতো যারা মানবপ্রেমী আছেন তাদেরকে খোঁজ করব এবং হাসপাতালের সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তা সমাধানে উদ্যোগের পাশাপাশি জেনারেল হাসপাতালে আপাততঃ আগামী ৬ মাস ডায়ালাইসিস সরঞ্জামগুলো চালু রাখার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

এমপি আবু সুফিয়ান আরও বলেন, চিকিৎসাসেবায় মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে আছে। প্রাইভেট সেক্টরে যে সকল হাসপাতালগুলো গড়ে উঠেছে সেগুলোতে চিকিৎসা থাকলেও চিকিৎসা নিতে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা নেই। প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে অনেকে চিকিৎসার জন্য যায়, কিন্তু বের হওয়ার সময় সবকিছু দিয়ে নিঃস্ব হয়ে বের হতে হয়। আমরা এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই-যাতে আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে পারি। সরকারী হাসপাতালে গিয়ে মানুষ যাতে সেবাগুলো পায় সে ব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করবো। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন এমপি। চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেনের সভাপতিত্বে, এনেস্থেসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মৌমিতা দাশ ও সার্জারী ওয়ার্ডের রেজিস্টার ডা. সাকিব জিয়াউদ্দিন মোঃ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ডায়ালাইসিস সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনেস্থিসিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মইনুল আহসান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. এ.এস.এম ইফতেখারুল ইসলাম লিটন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ফার্মাসিস্ট আনামুল হক ইকবাল, হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. বিজন কুমার নাথ, আইসিইউ ইনচার্জ ও এনেস্থেসিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রাজদীপ বিশ্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, মহানগর বিএনপি নেতা ইব্রাহিম বাচ্চু, ইউনূস চৌধুরী হাকিম, আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড বিএনপি’র আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আলী নূর, বিশিষ্ট সমাজসেবক কায়সার আলী চৌধুরী প্রমূখ। হাসপাতালের সর্বস্তরের চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ার্ডের রেজিস্টার ডা. সাকিব জিয়াউদ্দিন মোঃ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ডায়ালাইসিস সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনেস্থিসিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মইনুল আহসান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. এ.এস.এম ইফতেখারুল ইসলাম লিটন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ফার্মাসিস্ট আনামুল হক ইকবাল, হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. বিজন কুমার নাথ, আইসিইউ ইনচার্জ ও এনেস্থেসিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রাজদীপ বিশ্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, মহানগর বিএনপি নেতা ইব্রাহিম বাচ্চু, ইউনূস চৌধুরী হাকিম, আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড বিএনপি’র আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আলী নূর, বিশিষ্ট সমাজসেবক কায়সার আলী চৌধুরী প্রমূখ। হাসপাতালের সর্বস্তরের চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ, ব্যাংকে তালা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের জমানো টাকা ফেরত ও ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা। রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখায় এ বিক্ষোভ হয়। এসময় একটি ব্যাংকের শাখাটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির এক ঊর্ধ্বতন গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলেন, হেয়ারকাট ছাড়া আমানত নবায়ন করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বিক্ষোভরত গ্রাহকদের দাবি, তাদের আমানতের ওপর মুনাফা কর্তন বা ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত চালু করার দাবি জানান তারা।

গ্রাহকেরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানতের ওপর মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। নানা অজুহাতে ব্যাংকগুলো আমানত ফেরত দিচ্ছে না, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। একীভূতকরণের পর ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ চলাকালে শাখা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে না পেয়ে ক্ষোভ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে তারা ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক গ্রাহক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানান তারা।

প্রায় এক ঘণ্টা পর শাখা ব্যবস্থাপক ঘটনাস্থলে এলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান এবং প্রয়োজনে চট্টগ্রামের সব ব্যাংকে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

চট্টগ্রামে রেলের সাতটি পাহাড়ে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানি এড়াতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে মাইকিং। প্রতিবছর ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য এ থেকে মাইকিং করা হয়। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ের পাহাড়গুলো সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেন।প্রতিবছর বর্ষা শুরুর আগে রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।তারপরও তারা আবার এই অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চলে আসে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ, সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে মাইকিং করেছি। বেলা ১১টা থেকে আমাদের লোকজন প্রতিটি পাহাড়ে মাইকিং করেছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা হয়েছে।এসব অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এসব পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন অনেক মানুষ।

দিন দিন এই অবৈধ বসতির সংখ্যা বাড়ছে। রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল পাহাড়ে। এখানে চার হাজার ৪৭৬টি পরিবার থাকে। ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে চট্টগ্রামে ভূমিধসের সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরপর রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাদের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু করে।

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে। এখানে চার হাজার ৪৭৬টি পরিবার থাকে। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় বসবাস ৪৩১টি পরিবারের।

লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। রেলওয়ের মালিকানাধীন ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরীর জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে।এছাড়া জেলার উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ বসতি বেড়েই চলছে। জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ে অসংখ্য অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ১২৭ জনের মৃত্যুর পর ৩৬ দফা সুপারিশ দিয়েছিল তদন্ত কমিটি। এর ১০ বছর পর ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যুর পর ৩৫ দফা সুপারিশের মধ্যেও একই ধরনের সুপারিশ ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হলে কিছু লোকজনকে সাময়িক সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কার্যত কোনো সুপারিশই বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১ নম্বর ঝিলে পাহাড়ধসে মারা গিয়েছিলেন একই পরিবারের দুজন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ