আজঃ রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি (SAIDA Shinichi) এর সাথে মতবিনিময় কালে এ কথা বলেন তিনি। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব জনাব মোচিদা ইউতারো (MOCHIDA Yutaro) ও ফুজিমোতো সাওরি (FUJIMOTO Saori)।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে জাপানের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র তুলে ধরেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী।

এসময় স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে যে সমস্যাগুলো প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক এবং পরিবেশসম্মত না হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
“জাপান এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত। সেই জন্য আমরা আমাদের ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনার জন্য জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছি। এক্ষেত্রে জাইকাও দারুণ ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জাপান আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করুক।

চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে, বিশেষ করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরো নগরী জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেট্রোরেল নির্মাণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মতো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা, যেমন ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে জাপান আমাদের সহায়তা করতে পারে।

জবাবে রাষ্ট্রদূূত সাইদা শিনিচি বলেন, চট্টগ্রাম অত্যন্ত সম্ভাবনাময় নগরী। চট্টগ্রামের উন্নয়নে জাপানের সহায়তায় যেসব প্রকল্প চলছে তা চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে আরো নানা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে জাপান।
সভায় প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি এবং এক্ষেত্রে মান উন্নয়নে জাপান কী ধরনের সহায়তা করতে পারে তা তুলে ধরেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা অবকাঠামো তুলে ধরে শিক্ষার মান উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম এবং জাপানের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৭১-এর ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করুন- বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন ফারুক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাজেট অধিবেশনের ১৬ তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন-৭১-এর ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করুন।বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, সমালোচনা অবশ্যই হবে, তবে তা যেন গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক হয়। তর্ক উত্থাপন করে সংসদকে উত্তপ্ত করতে চাই না। শুধু একটা কথা বলতে চাই, নিজের কথা নিজেরাই বিচার করেন, আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন?

জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানের দিকে তাকান। স্বাধীনতার একদিন আগে কারা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে? কারা বাংলাদেশকে বুদ্ধিশূন্য করতে চেয়েছিল—সেটা বিবেচনায় আনুন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার আহ্বান শুনে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না,বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন।বাজেট আলোচনায় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। স্বাধীনতা অর্জনের কারণেই আজ আমরা বাজেট দিচ্ছি। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়িয়ে দিন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের যথাযথ সম্মান জানানো উচিত। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অবদান কখনো ভুলে গেলে চলবে না।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, ইতিহাস নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করে সংসদকে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক রাখার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছিলেন এবং সেই গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘নর্ডিক পোলাক্স’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘নর্ডিক পোলাক্স’। সব ঠিক থাকলে আগামী ৬ জুলাই সেটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছাবে। ‘নর্ডিক পোলাক্স’ জাহাজটি বিদেশি কম্পানি থেকে ভাড়ায় নিয়ে তেল পরিবহন করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে গত সোমবার জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়। অর্থ্যাৎ ১২৮ দিন পর জাহাজটি তেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছবে। জাহাজটিতে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) রয়েছে।

চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর এই তেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) শোধন করে দেশব্যাপী সরবরাহ করা হবে।বিপিসি হয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের এই কাজটি তদারকি করছে সরকারি সংস্থা বিএসসি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমরা বসে থাকিনি। বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরবের ইয়ানবু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে জ্বালানি তেল পরিবহন করে আনা হচ্ছে। বিকল্প পথে আনা জ্বালানি তেল দিয়েই এখন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।

নর্ডিক পোলাক্স রাস তানুরা বন্দরে তেলবোঝাই করে ১ মার্চ। এরপর থেকে সেখানেই আটকে ছিল। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্পষ্ট করেন, দীর্ঘ কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টায় আমরা তেলসহ জাহাজটি দেশে আনছি। তবে এত দিন জাহাজটি অলস বসে থাকার কারণে যে বিপুল ডেমারেজ বা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, তা বিএসসি কিংবা বিপিসি বহন করবে না; এই ব্যয় চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহকারী সংস্থাই বহন করবে। আর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলেই কেবল আমরা ভবিষ্যতে আবার এই নিয়মিত রুটে তেল আনব।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ