আজঃ মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি (SAIDA Shinichi) এর সাথে মতবিনিময় কালে এ কথা বলেন তিনি। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব জনাব মোচিদা ইউতারো (MOCHIDA Yutaro) ও ফুজিমোতো সাওরি (FUJIMOTO Saori)।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে জাপানের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র তুলে ধরেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী।

এসময় স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে যে সমস্যাগুলো প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক এবং পরিবেশসম্মত না হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
“জাপান এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত। সেই জন্য আমরা আমাদের ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনার জন্য জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছি। এক্ষেত্রে জাইকাও দারুণ ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জাপান আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করুক।

চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে, বিশেষ করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরো নগরী জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেট্রোরেল নির্মাণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মতো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা, যেমন ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে জাপান আমাদের সহায়তা করতে পারে।

জবাবে রাষ্ট্রদূূত সাইদা শিনিচি বলেন, চট্টগ্রাম অত্যন্ত সম্ভাবনাময় নগরী। চট্টগ্রামের উন্নয়নে জাপানের সহায়তায় যেসব প্রকল্প চলছে তা চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে আরো নানা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে জাপান।
সভায় প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি এবং এক্ষেত্রে মান উন্নয়নে জাপান কী ধরনের সহায়তা করতে পারে তা তুলে ধরেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা অবকাঠামো তুলে ধরে শিক্ষার মান উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম এবং জাপানের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অফডকের মাধ্যমে পণ্য খালাসের প্রস্তাব চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ও সিসিটি পরিচালন সক্ষমতা বাড়বে দ্বিগুণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমদানি পণ্যের ৮০ শতাংশ ধীরে ধীরে বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফডকের মাধ্যমে খালাস করা হলে নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এর পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ১ দশমিক ৬ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানো, পণ্য খালাসের গতি বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে আমদানি পণ্যের ৮০ শতাংশ ধীরে ধীরে বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফডকের মাধ্যমে খালাসের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। বাণিজ্য সহজীকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (কঠোর নিয়মকানুন বা আইনি জটিলতা কমানো) উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে সংস্থাটি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯টি টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান প্রস্তাবটিকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আইসিডির ব্যবহার বাড়লে বন্দরের ওপর চাপ কমবে এবং জটও হ্রাস পাবে। আন্তর্জাতিকভাবে কাস্টমস-সংক্রান্ত অধিকাংশ কার্যক্রম মূল বন্দরের বাইরে সম্পন্ন হয়।

বিডার মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এর পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ১ দশমিক ৬ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কারণ এতে মূল বন্দরের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাত্র ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য বেসরকারি আইসিডির মাধ্যমে খালাসের অনুমতি দেয়। অথচ দেশের ২১টি অফডকের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিডা বলছে, আমদানি পণ্য খালাসের সীমিত সুযোগ বন্দরের কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে এবং আমদানি প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আমদানি ও রফতানি- উভয় কার্যক্রমের বড় অংশ অফডকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে অফডকগুলোর জন্য নিয়মিত ঝুঁকিভিত্তিক পর্যালোচনা ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দিয়েছে বিডা।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিচালন ব্যয় কমবে, পণ্য সরবরাহের সময় কমে আসবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এছাড়াও বিডা আরও প্রস্তাব দিয়েছে, কার্যকর ২৪ ঘণ্টা বন্দর পরিচালনা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং ও কাস্টমস সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে বন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চললেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবা এখনও মূলত অফিস সময় ও কর্মদিবসে সীমাবদ্ধ। ফলে এলসি প্রসেসিং, পেমেন্ট ক্লিয়ারেন্স এবং আমদানি-রফতানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে বিলম্ব হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সপ্তাহজুড়ে ব্যাংকিং সহায়তা চালু এবং অধিকাংশ কাস্টমস কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

বিডার মতে, সমন্বিত ২৪/৭ কার্যক্রম চালু হলে পণ্য খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, সামগ্রিক দক্ষতা বাড়বে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এছাড়া আধুনিক ও ইন্টারনেট-ভিত্তিক কাস্টমস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার- অ্যাসিকাডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যবহৃত সিস্টেমগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করারও প্রস্তাব দিয়েছে বিডা।এতে ব্যবসায়ীরা একবার তথ্য দিলেই তা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাগাভাগি হবে। ফলে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়া, বিলম্ব এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমে আসবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ