আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

আজ বিশ্ব শরনার্থী দিবস। দেশে দেশে যু্ূদ্ধ, জাতি গত দাঙ্গায় অশান্ত বিশ্ব

কিরন শর্মা

প্রত্যাবাসন নির্ভর মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছার ওপর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ বিশ্ব শরনার্থী দিবস। দেশে দেশে যু্ূদ্ধ বিগ্রহের কারণে এবং জাতি গত দাঙ্গায় বিশ্ব আজ অশান্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো আজ শান্তির অন্বেশায় ছুটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বিশ্বে শরনার্থীর সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি শরনার্থীর তুরস্কে। এখানে ৩৬ লক্ষ শরনার্থী রয়েছে। এরই মধ্যে ২ লক্ষ কমেছে তুরস্ক থেকে।

তুরস্ক সরকার এরই মধ্যে ইউএনএইচসিআরকে জানিয়েছে, শরনার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করতে নাপারলে তারা যেন শরনার্থীদের নিয়ে যায়।এরপরই স্থান হলো ইরানের। আফগানিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ইরানে ৩৪ লাখ এবং পাকিস্তানে কয়েক লাখ আফগান শরনার্থী রয়েছে। ভেনেজুয়েলান প্রায় ২৫ লাখ শরনার্থী প্রতিবেশী দেশে রয়েছে। মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রাণভয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে এর সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে।

এবছর বিশ্ব শরণার্থী দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হলো “শরণার্থীদের প্রতি সংহতি”।ইউএনএইচসিআর-এর বিশ্বব্যাপী সমন্বয়ে, এ বছরের মূল প্রতিপাদ্যটি শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করা। কুসংস্কারের বিরোধিতা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী যাতে গ্রহণযোগ্যতা, সমর্থন ও সম্মানের সাথে আচরণ পায় তা নিশ্চিত করার জন্য সহানুভূতির ঊর্ধ্বে উঠে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া।

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় শরনার্থী শিবিরে আশ্রিত ও স্থানীয়দের জন্য ইউএনএইচসিআর বরাদ্দ দিয়েছে ১৪ মিলিয়ন ডলার। এটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।২০ জুন হলো জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব শরণার্থী দিবস। প্রতি বছর বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের সেদেশে ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসলেও সেদেশের সরককার কার্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।আন্তর্জাতিক মহল বারবার মায়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সেদেশের সরকারি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ।
কার্য়ত কোন ফল আসনি।

বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের অমানবিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পালন করা হয় এদিবসটি। ২০০১ সালের ২০ জুন প্রথম এই দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের ৫০ তম অধিবেশনে।
বিশ্ব শরণার্থী দিবসে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সময়ে পদক্ষেপ এবং সহানুভূতির এক শক্তিশালী মানবিক আহ্বান। রেকর্ড সংখ্যক মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সহায়তা হুমকির মুখে থাকায়, এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় “শরণার্থীদের সাথে সংহতি” – জানানো। নিজ দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের সমর্থন করার জন্য অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে তাদের সাহস এবং স্থিতিস্থাপকতাকে সম্মান জানানোর, তাদের গল্প শোনার এবং বাস্তুচ্যুতির স্থায়ী সমাধানের পক্ষে কথা বলার একটি মুহূর্ত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়যে শরণার্থীদের স্বাগত জানানো সমাজকে শক্তিশালী করে।উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এবং এমন সম্প্রদায় তৈরি করে যেখানে সকলেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। নীতি পরিবর্তন এবং সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা থেকে শুরু করে শরণার্থীদের কণ্ঠস্বর ভাগ করে নেওয়ার মতো সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে শরণার্থীদের ভুলে যাওয়া হয় না।
শরণার্থীদের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রীভূত করা শরণার্থীদের ব্যক্তিগত গল্প শুনুন এবং তাদের সাথে ভাগাভাগি করুন, তাদের শক্তি, সাহস এবং বাস্তুচ্যুতির বাইরেও বহুমুখী পরিচয়ের স্বীকৃতি দিন।অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রদায় গড়ে তোলা স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন যেখানে শরণার্থীরা সংযোগ তৈরি করতে পারে।শান্তি ও সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করা নিরাপত্তা চাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করুন। সংঘাত নিরসনের পক্ষে কথা বলুন এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সমর্থন করুন।

যারা থাকেন এবং বিতরণ করেন তাদের পাশে দাঁড়ানো জাতিসংঘ এবং এর মানবিক কর্মীদের সমর্থন করুন যারা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও সেবা প্রদান করে চলেছেন, নিশ্চিত করুন যে জীবন রক্ষাকারী সাহায্য অভাবীদের কাছে পৌঁছায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুই প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪০ জন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে দুটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ২১টি পদের জন্য ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। উক্ত নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে সমিতির নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত তালিকায় দুটি প্যানেলের এই ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে দুই প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারণায় আদালত এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে।

সমন্বয় পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, সমন্বয় পূর্ণ প্যানেল দিয়েছিল। কিন্তু দুই সদস্যের মনোনয়নপত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়। বর্তমানে এই প্যানেলে সম্পাদকীয় ১০টি পদে ও সদস্যপদে নয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট উত্তম কুমার দত্ত বলেন, বর্তমানে সম্পাদকীয় ১০টি পদে প্রার্থী সংখ্যা ২০ ও নির্বাহী সদস্যপদের ১১ পদে প্রার্থী ২০ জন।
নির্বচন কর্মকর্তা এডভোকেট তারিক আহমেদ বলেন, মনোনয়নপত্রে সমর্থকের নাম ঠিকানা ও সমর্থক আইনজীবীর লিন নম্বর (আইনজীবী পরিচিতি নম্বর) সঠিক না থাকা এবং গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু ত্রুটির কারণে দুই সদস্যপদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল।

জানা গেছে, বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল আইনজীবী ঐক্য পরিষদ নামে যৌথ প্যানেল ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচারণায় মেতেছে। প্যানেল ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদও।
এদিকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী দাবি করা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সম্পাদকীয় ১০টি ও নির্বাহী সদস্যের ১১টির মধ্যে সবকটি পদে প্রার্থী দিয়েছে। অপরদিকে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করা আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সম্পাদকীয় ও নির্বাহী সদস্যপদের সবকটিতে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কিছু ত্রুটির কারণে নির্বাচন কমিশন নির্বাহী সদস্যপদের দু’জনের প্রার্থিতা বাতিল করে।
দুই প্যানেলসূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেলের নাম সাত্তার-হাসান-বারী প্যানেল এবং সমন্বয় পরিষদ রশীদ-জাবেদ-মাহতাব নামে প্যানেল ঘোষণা দিয়েছে। আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানলের এডভোকেট আব্দুস সাত্তার সভাপতি, মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক ও ফজলুল বারী সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের এডভোকেট মো. আব্দুর রশীদ সভাপতি, মো. ফখরুদ্দিন জাবেদ সাধারণ সম্পাদক ও মাহতাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঐক্য পরিষদের অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সিরাজ, সহ-সভাপতি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুছ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল বারী, অর্থসম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফি বিনতে মোতালেব, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল জব্বার, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মনজুর হোসেন।নির্বাহী সদস্য আছমা খানম, মো. শাহেদ হোসেন, এহছান উল্লাহ মানিক, মোহাম্মদ মোরশেদ, বিবি ফাতেমা, মেজবাহ উল আলম এমিন, মির্জা মো. ইকবাল, হেলাল উদ্দিন, মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী, রাহেলা গুলশান ডালিয়া ও মো. রোবায়তুল করিম।

সমন্বয় পরিষদের অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম, সহ-সভাপতি জামাল হোসেন, অর্থসম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ কাদের আলী শাহ আরমান, পাঠাগার সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফৌজিয়া আফরোজ, ক্রীড়া সম্পাদক এজেএম রাবেত হোসাইন, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক মো. রবিউল আলম। নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল মাওয়া কাজল, পারভীন আক্তার পাপিয়া, মোহাম্মদ শাহ মোয়াজ্জেম, মনির আহমেদ মামুন, কাজী শাহেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, মো. বাবুলুর রশীদ, শাহাদাত হোসেন ও মো. ইমরান উদ্দিন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ