আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

খুফিয়া’য় সমকামিতা নিয়ে সমালোচিত বাঁধন

স্টার আনন্দ প্রতিবেদক :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সাবেক লাক্স তারকা বাঁধন বলিউডে নিজের প্রথম ছবিতেই ‘সমকামিতায়’ সমালোচিত হয়েছেন। তিনি প্রথমবারের মতো বলিউডি ছবিতে অভিনয় করলে বাংলাদেশী এই অভিনেত্রীর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ওয়েব ফিল্ম ‘খুফিয়া’র মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছে। ছবিটি মুক্তির পর বাঁধনের অভিনয় যেমন কিছুটা প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি কিছু কারণে বেশ সমালোচিতও হয়েছে। এই ছবির কাহিনী এগিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর এক অফিসারকে ঘিরে। ওই অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউড তারকা টাবু। বাংলাদেশে অপারেশনে এসে তার পরিচয় ঘটে হিনা রহমানের সঙ্গে। আর এই হিনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন।

 

 

এই ছবিতে বাঁধনকে একজন সমকামী হিসেবে দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের পরিবার, সমাজ ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুযায়ী এমন চরিত্র তাই সবার কাছে হয়ে পড়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। পর্দায় টাবুর সঙ্গে বাঁধনের সমকামিতা নিয়েও আলোচনা – সমালোচনা হচ্ছে জোরেশোরে। তবে এসব সমালোচনা তোয়াক্কা করছেন না বাঁধন। বলিউডে প্রথম ছবিতে স্বল্প স্ক্রিন উপস্থিতি থাকলেও তার অভিনয় সমাদৃত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লিখিত সমালোচনা প্রসঙ্গে ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বাঁধন বলেন, বিশাল ভরদ্বাজ আমাকে আগেই বলেছিলেন, এই ছবিতে একটা সমকামিতার বিষয় রয়েছে। কোনও সমস্যা হবে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কাছে বলিউডে অভিনয়, বিশাল ও টাবুর সঙ্গে কাজ করার সুযোগটাই বড় মনে হয়েছে। বাঁধনের কথায়, আমি জানি কেউ কেউ বলাবলি করবে। সমাজের কিছু লোক সংকীর্ণ মনের। কিন্তু এটাও ঠিক বাংলাদেশ সবাইকে স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার দিয়ে রেখেছে।

এই প্রসঙ্গে বাঁধন আরও বলেন, আমার বয়স এখন চল্লিশ। ৩৫ বছর বয়সে জীবন নতুন করে শুরু করেছি। তার আগে একটা বাঁধন ছিল, তারপরেও একজন বাঁধন রয়েছে। আগে পরিবার, বন্ধু, সমাজের জন্য বাঁধন বেঁচেছে। এখন বাঁধন বাঁচে নিজের জন্য। কোনও শিকল নেই তার।

প্রসঙ্গত, বিতর্কিত গল্পের কারণে এই ওয়েব ফিল্মে প্রথমে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও না করে দেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। মেহজাবীন অভিনয় না করতে চাইলে ছবির পরিচালক বিদ্যা সিনহা মিমকে প্রস্তাব দেন। ওই একই কারণে মিমও অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানান। শেষমেষ বাঁধনের কাছে প্রস্তাব এলে তিনি অভিনয়ে রাজি হন।

থ্রিলার ঘরানার এই ছবিতে বাঁধন ছাড়াও অভিনয় করছেন টাবু, আলী ফজল, আশিস বিদ্যার্থী ও ওয়ামিকা গাব্বি। নেটফ্লিক্সের এই ছবিটি নির্মিতি হয়েছে অমর ভূষণের বই ‘এসকেপ টু নোহোয়ার’ অবলম্বনে। যেখানে গল্পের প্রয়োজনে একজন বাংলাদেশের অভিনেত্রীর প্রয়োজন ছিল পরিচালকের।

 

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আজ বিশ্ব শরনার্থী দিবস। দেশে দেশে যু্ূদ্ধ, জাতি গত দাঙ্গায় অশান্ত বিশ্ব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ বিশ্ব শরনার্থী দিবস। দেশে দেশে যু্ূদ্ধ বিগ্রহের কারণে এবং জাতি গত দাঙ্গায় বিশ্ব আজ অশান্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো আজ শান্তির অন্বেশায় ছুটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বিশ্বে শরনার্থীর সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি শরনার্থীর তুরস্কে। এখানে ৩৬ লক্ষ শরনার্থী রয়েছে। এরই মধ্যে ২ লক্ষ কমেছে তুরস্ক থেকে।

তুরস্ক সরকার এরই মধ্যে ইউএনএইচসিআরকে জানিয়েছে, শরনার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করতে নাপারলে তারা যেন শরনার্থীদের নিয়ে যায়।এরপরই স্থান হলো ইরানের। আফগানিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ইরানে ৩৪ লাখ এবং পাকিস্তানে কয়েক লাখ আফগান শরনার্থী রয়েছে। ভেনেজুয়েলান প্রায় ২৫ লাখ শরনার্থী প্রতিবেশী দেশে রয়েছে। মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রাণভয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে এর সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে।

এবছর বিশ্ব শরণার্থী দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হলো “শরণার্থীদের প্রতি সংহতি”।ইউএনএইচসিআর-এর বিশ্বব্যাপী সমন্বয়ে, এ বছরের মূল প্রতিপাদ্যটি শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করা। কুসংস্কারের বিরোধিতা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী যাতে গ্রহণযোগ্যতা, সমর্থন ও সম্মানের সাথে আচরণ পায় তা নিশ্চিত করার জন্য সহানুভূতির ঊর্ধ্বে উঠে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া।

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় শরনার্থী শিবিরে আশ্রিত ও স্থানীয়দের জন্য ইউএনএইচসিআর বরাদ্দ দিয়েছে ১৪ মিলিয়ন ডলার। এটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।২০ জুন হলো জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব শরণার্থী দিবস। প্রতি বছর বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের সেদেশে ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসলেও সেদেশের সরককার কার্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।আন্তর্জাতিক মহল বারবার মায়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সেদেশের সরকারি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ।
কার্য়ত কোন ফল আসনি।

বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের অমানবিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পালন করা হয় এদিবসটি। ২০০১ সালের ২০ জুন প্রথম এই দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের ৫০ তম অধিবেশনে।
বিশ্ব শরণার্থী দিবসে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সময়ে পদক্ষেপ এবং সহানুভূতির এক শক্তিশালী মানবিক আহ্বান। রেকর্ড সংখ্যক মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সহায়তা হুমকির মুখে থাকায়, এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় “শরণার্থীদের সাথে সংহতি” – জানানো। নিজ দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের সমর্থন করার জন্য অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে তাদের সাহস এবং স্থিতিস্থাপকতাকে সম্মান জানানোর, তাদের গল্প শোনার এবং বাস্তুচ্যুতির স্থায়ী সমাধানের পক্ষে কথা বলার একটি মুহূর্ত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়যে শরণার্থীদের স্বাগত জানানো সমাজকে শক্তিশালী করে।উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এবং এমন সম্প্রদায় তৈরি করে যেখানে সকলেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। নীতি পরিবর্তন এবং সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা থেকে শুরু করে শরণার্থীদের কণ্ঠস্বর ভাগ করে নেওয়ার মতো সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে শরণার্থীদের ভুলে যাওয়া হয় না।
শরণার্থীদের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রীভূত করা শরণার্থীদের ব্যক্তিগত গল্প শুনুন এবং তাদের সাথে ভাগাভাগি করুন, তাদের শক্তি, সাহস এবং বাস্তুচ্যুতির বাইরেও বহুমুখী পরিচয়ের স্বীকৃতি দিন।অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রদায় গড়ে তোলা স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন যেখানে শরণার্থীরা সংযোগ তৈরি করতে পারে।শান্তি ও সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করা নিরাপত্তা চাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করুন। সংঘাত নিরসনের পক্ষে কথা বলুন এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সমর্থন করুন।

যারা থাকেন এবং বিতরণ করেন তাদের পাশে দাঁড়ানো জাতিসংঘ এবং এর মানবিক কর্মীদের সমর্থন করুন যারা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও সেবা প্রদান করে চলেছেন, নিশ্চিত করুন যে জীবন রক্ষাকারী সাহায্য অভাবীদের কাছে পৌঁছায়।

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ