আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সাভারে নৌকার প্রতিদ্ধন্ধী দুই স্বতন্ত্র শক্তিশালী প্রার্থী

সাভার সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. এনামুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সাভারে জমে উঠেছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের লড়াই। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ঘুরিয়ে বলা যায়,‌ লড়াইটা হচ্ছে মূলত আওয়ামী লীগের মনোনীত এবং অমনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে।
এবার নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান‌।তবে নৌকা প্রতীক চেয়েও না পেয়ে এবার তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ধামশোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।তাই শাসক দলের প্রার্থী হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের নৌকাকে রীতিমতো চোখ রাঙাচ্ছে নবম জাতীয় সংসদের সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদের প্রতীক ঈগল ও স্বতন্ত্র অপর প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রতীক ট্রাক।

মূলত এই তিন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণার আমেজেই সরগরম রাজধানী সংলগ্ন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনটি।এছাড়া অন্যান্য দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মিলন কুমার ভঞ্জ, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব), নুরুল আমিন, গণফ্রন্ট (মাছ), মাহবুবুল হাসান, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ), আইরিন পারভীন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল), ইসরাফিল হোসেন সাভারী, এনপিপি (আম), মো. জুলহাস, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা), সাইফুল ইসলাম মেম্বার, বিএনএম (নোঙ্গর)।জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে সমর্থন জানিয়েছে। বিপরীতে এনামুর রহমানের যাদের ওপর এতদিন ভরসা করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারাই এখন ডিগবাজি দিচ্ছেন।

বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো বিগত এক দশকের পুরোনো সঙ্গীদের অনেকেই একে একে ছেড়ে যাওয়ায় হতাশ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তবে ডিগবাজীর এই সুনামি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের ভরসা এখন নৌকা প্রতীকের ভোট ব্যাংক ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভোট।বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নির্বাচন বর্জন ও চলমান আন্দোলনে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা টাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ডিগবাজি দেওয়ায় কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. এনামুর রহমান। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল নিয়েছে দলটি।

সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, সাভার পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গনি, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিনসহ দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
ডা. এনামুর রহমান বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে কার যোগ্যতা বেশি এবং বিগত এক দশকে আমার কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করলে সাধারণ ভোটাররা নিঃসন্দেহে আমাকেই বেছে নেবেন। তৃতীয় বারের মতো নৌকার মনোনয়ন দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আমাকে মূল্যায়ন করেছেন।দলের নেতাকর্মীদের একাংশের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ডিগবাজি দেওয়ার বিষয়ে ডা. এনামুর রহমান বলেন, এতে আমরা বিচলিত নই। নির্বাচন এলে এমন প্রবণতা স্বাভাবিক।অন্যদিকে সাভারে দীর্ঘ এক দশক রাজনীতির আড়ালে ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ। প্রচারে নেমেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশকে রাতারাতি নিজের শিবিরে ভিরিয়ে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি।

বাবা আনোয়ার জং ছিলেন সাবেক এমপি। সেই সাথে নিজেও ছিলেন এমপি। ১০ বছর পর সাভারে ফিরে পুরোনো নেতাকর্মীদের ফিরে পেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ বলেন, নবম সংসদে বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সাভারের দুর্গে আওয়ামী লীগের পতাকা আমিই উড়িয়েছিলাম। অথচ রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আমাকে মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়তে হয়েছে।
এবার স্বতন্ত্র হিসেবেও নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ এসেছে বলে জানিয়েছেন তৌহিদ জং মুরাদ।

অপরদিকে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই জিতব।
এদিকে আওয়ামী লীগের শিবির থেকে কে কখন কীভাবে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর পক্ষে ডিগবাজি দেয়- এমন আতঙ্ক বিরাজ করছে নির্বাচনি এলাকাজুড়ে। আগের দুটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপদে ফেলে গেছে সমর্থকদের, নির্দোষদের পাশে আছে বিএনপি: ফখরুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের বিপদে ফেলে গেছেন, তাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেনি, বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এ কথা বলেছেন দলের মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) নিজ আসনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে এমপি নির্বাচন করছি ১৫ বছর আগে। মাঝখানে আমরা আর কোনো ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট নিয়ে গেছে ওরা। কারা? ওই ফ্যাসিস্ট, হাসিনার লোকেরা, পুলিশ, প্রশাসন। এবার একটা সঠিক ভোট হবে বলে আশা করছি আমরা। অর্থাৎ যার ভোট, সে দিতে পারবে। যাকে খুশি তাকে দিতে পারবে।

তিনি বলেন, এবারের ভোটটা একটু অন্যরকম হচ্ছে। অন্যান্যবার এলাকায় আমার খালি দৌড়াদৌড়ি করি, নৌকা আর ধানের শীষ, নৌকা আর ধানের শীষ। এবার তো নৌকা নাই, নৌকা এবার পালাইছে। চলে গেছে হাসিনা, যারা সমর্থক আছে, তাদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সে বিপদ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াইছি।

যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য শাস্তি হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা হিন্দু ভাইদের বলছি, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। যারা অন্যায় করছে তাদের জন্য শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, সাধারণ মানুষ, তাদের আমরা আমাদের বুকের মধ্যে রেখে দেবো।
তিনি শেষে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ধানের শীর্ষে ভোট চান বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণ গণতন্ত্রের পথে যাবে : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচন করা ভালো। সব ধরনের খুটিনাটি নিয়ে, প্রপাগান্ডা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যে প্রক্রিয়া সে পথে তো জনগণ যাবে না, জনগণ যাবে গণতন্ত্রের পথে। তারা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সে পথেই চলছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের সল্ট গোলা ক্রসিং থেকে নিশ্চিন্তপাড়া ওয়ার্ড অফিস মাইজপাড়া, ১ নং সাইট, হিন্দু পাড়া, বাকের আলি ফকির টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।আমীর খসরু বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটে থাকে এটার জন্য বা এটার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনে লেভেল ফিল্ড নেই। সব জায়গায় সব সময় সারা বিশ্বে ঘটে থাকে ছোটখাটো ঘটনা। এটার জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অর্থাৎ যারা নির্বাচন চায় না তারা এই কাজগুলো এই কথাগুলো বলে।কিছু ছোটখাটো ঘটনা, এটা সারা বিশ্বে ঘটছে, এটা বাংলাদেশেও ঘটেছে। জনগণের সমর্থনে এ নির্বাচন হচ্ছে। এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এই নির্বাচনে তার মালিকানা ফিরে পেতে চায় মানুষ।

তারা নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেখতে চায়, যারা তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে। সে অপেক্ষায় তারা আছে। এটাকে বাধাগ্রস্ত করতে যারাই যাবে তারা নিজেরাই বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মহানগর বিএনপির সদস্য হাজী হানিফ সওদাগর প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ