আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সাভারে নৌকার প্রতিদ্ধন্ধী দুই স্বতন্ত্র শক্তিশালী প্রার্থী

সাভার সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. এনামুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সাভারে জমে উঠেছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের লড়াই। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ঘুরিয়ে বলা যায়,‌ লড়াইটা হচ্ছে মূলত আওয়ামী লীগের মনোনীত এবং অমনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে।
এবার নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান‌।তবে নৌকা প্রতীক চেয়েও না পেয়ে এবার তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ধামশোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।তাই শাসক দলের প্রার্থী হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের নৌকাকে রীতিমতো চোখ রাঙাচ্ছে নবম জাতীয় সংসদের সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদের প্রতীক ঈগল ও স্বতন্ত্র অপর প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রতীক ট্রাক।

মূলত এই তিন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণার আমেজেই সরগরম রাজধানী সংলগ্ন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনটি।এছাড়া অন্যান্য দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মিলন কুমার ভঞ্জ, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব), নুরুল আমিন, গণফ্রন্ট (মাছ), মাহবুবুল হাসান, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ), আইরিন পারভীন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল), ইসরাফিল হোসেন সাভারী, এনপিপি (আম), মো. জুলহাস, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা), সাইফুল ইসলাম মেম্বার, বিএনএম (নোঙ্গর)।জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে সমর্থন জানিয়েছে। বিপরীতে এনামুর রহমানের যাদের ওপর এতদিন ভরসা করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারাই এখন ডিগবাজি দিচ্ছেন।

বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো বিগত এক দশকের পুরোনো সঙ্গীদের অনেকেই একে একে ছেড়ে যাওয়ায় হতাশ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তবে ডিগবাজীর এই সুনামি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের ভরসা এখন নৌকা প্রতীকের ভোট ব্যাংক ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভোট।বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নির্বাচন বর্জন ও চলমান আন্দোলনে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা টাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ডিগবাজি দেওয়ায় কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. এনামুর রহমান। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল নিয়েছে দলটি।

সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, সাভার পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গনি, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিনসহ দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
ডা. এনামুর রহমান বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে কার যোগ্যতা বেশি এবং বিগত এক দশকে আমার কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করলে সাধারণ ভোটাররা নিঃসন্দেহে আমাকেই বেছে নেবেন। তৃতীয় বারের মতো নৌকার মনোনয়ন দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আমাকে মূল্যায়ন করেছেন।দলের নেতাকর্মীদের একাংশের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ডিগবাজি দেওয়ার বিষয়ে ডা. এনামুর রহমান বলেন, এতে আমরা বিচলিত নই। নির্বাচন এলে এমন প্রবণতা স্বাভাবিক।অন্যদিকে সাভারে দীর্ঘ এক দশক রাজনীতির আড়ালে ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ। প্রচারে নেমেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশকে রাতারাতি নিজের শিবিরে ভিরিয়ে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি।

বাবা আনোয়ার জং ছিলেন সাবেক এমপি। সেই সাথে নিজেও ছিলেন এমপি। ১০ বছর পর সাভারে ফিরে পুরোনো নেতাকর্মীদের ফিরে পেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ বলেন, নবম সংসদে বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সাভারের দুর্গে আওয়ামী লীগের পতাকা আমিই উড়িয়েছিলাম। অথচ রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আমাকে মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়তে হয়েছে।
এবার স্বতন্ত্র হিসেবেও নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ এসেছে বলে জানিয়েছেন তৌহিদ জং মুরাদ।

অপরদিকে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই জিতব।
এদিকে আওয়ামী লীগের শিবির থেকে কে কখন কীভাবে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর পক্ষে ডিগবাজি দেয়- এমন আতঙ্ক বিরাজ করছে নির্বাচনি এলাকাজুড়ে। আগের দুটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি।

বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে— তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না— তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী যুবদল কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরের বহরদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদপুর চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহেদুল ইসলাম, সহ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আজাদ, সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টিপু, চান্দগাও থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলী আজম মাসুম, আরিফ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ এরশাদ, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আসমান, মোহাম্মদ ছাবের, ইমতিয়াজ নিশান, সহাব উদ্দিন শিহাব, মোহাম্মদ মোরশেদ, অহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, মো: খোরশেদ আলম, মো: মিনহাজ, জয়নাল আবেদীন মানিক, মোহাম্মদ আরিফ, আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দুলাল, মোহাম্মদ নুর নবী, আবদুল আজিজ, সহ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল,থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসাইন নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুবদল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা কামনা করে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা বা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলও প্রায়ই আনন্দ মিছিল ও স্বাগত কর্মসূচি পালন করেছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানাতে এবং দলীয় প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামের রাজপথে সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ