নৌকার পক্ষে না থাকায় ঈগল প্রতীকের কর্মীকে কু*পিয়ে হ*ত্যা: স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম।

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুস সোবহান গোলাপের বিরুদ্ধে হ*ত্যার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম। শনিবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুস সোবহান গোলাপের বিরুদ্ধে হ*ত্যার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম। শনিবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো
নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে না থাকায় এবং ঈগল প্রতীকের পক্ষে মিছিলে অংশ নেওয়ায় এসকেন্দার খাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার-সদর একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম। শনিবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তাহমিনা বেগম কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। লিখিত বক্তব্যে তাহমিনা বেগম বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং আমার কর্মীদের বিভিন্নভাবে হু*মকি, হা*মলা ও স*ন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নৌকার প্রার্থী আবদুস সোবহান গোলাপের এজেন্ট লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক ব্যাপারীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার কর্মী এসকেন্দার খাঁকে কু*পিয়ে হ*ত্যা করেছেন।’

তাহমিনা বেগম বলেন, ‘আমার নির্বাচন করায় আমার কর্মীকে খুন করা হলো। আমি শোকাহত ওই পরিবারকে কী জবাব দেব? নির্বাচনে কেন এই সহিংসতা হবে? এই দায় নৌকার প্রার্থী এড়াতে পারেন না। তাঁর কারণেই এসকেন্দার খুন হলো। এর কঠিন বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন ‘এসকেন্দার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। আমার নির্বাচন করে। আমার মিটিং-মিছিলে নেতৃত্ব দেয়। আর পুলিশ বলছে, “জমিজমা বিরোধে তাকে তার বংশের লোকজন হ*ত্যা করেছে।” নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সাফাই গাইতে পুলিশ এমন কথা বলে দায় এড়াচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমালোচনা করে তাহমিনা বেগম আরও বলেন, নৌকার কর্মী-সমর্থকেরা প্রথম থেকেই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ভোটারদের মধ্যে ভীতসন্ত্রস্ত পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন। নৌকার মিছিল থেকে ঘোষণা করা হয়, যদি কেউ নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করেন, তাহলে তাঁদের ওপর হামলা করা হবে এবং এলাকায় থাকতে পারবেন না। দুই হাজার লগি-বইঠা তৈরি করা হয়েছে, নৌকার বিরোধীদের এলাকা ছাড়া করার জন্য। তাঁদের এ ধরনের বক্তব্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পুলিশকে নৌকার কর্মী উল্লেখ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম বলেন, ‘গত তিন দিনে আমাদের মিছিলে বোমা হামলা, নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। পুলিশ নিরপরাধ দুজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে তাদের দায় এড়িয়ে গেছে। মূল আসামিরা চিহ্নিত হলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। আমরা কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি। ওসি নৌকার হয়ে কাজ করছেন।’

তাহমিনা বেগম বলেন, ‘গোলাপ সাধারণ ভোটারদের কাছে ঘোষণা দিচ্ছেন, এক ভোট পেলেও আমরা ঘোষণা দিয়ে এমপি হব এবং বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোট পিটিয়ে নেওয়া হবে, যা মাদারীপুর-৩ আসনের ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমি মাদারীপুর-৩ আসনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগমের এসব অভিযোগের বিষয়ে নৌকার প্রার্থী আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘এসকেন্দার খাঁ হত্যার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে শুনেছি, চাচা-ভাতিজাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এক ব্যক্তিকে কোপানো হয়েছে। সেই দায় আমার ওপরে চাপানো হচ্ছে। আমার প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থী যে অভিযোগ দিচ্ছেন, তা সত্য নয়। ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে তিনি (তাহমিনা) নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছেন।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটতে বের হন এসকেন্দারসহ বেশ কয়েকজন। এ সময় নৌকার প্রার্থী আবদুস সোবহান গোলাপের কর্মী ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক ব্যাপারীর সমর্থকেরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাঁরা এসকেন্দারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। পায়ের রগও কাটা হয়। বাধা দিলে আরেকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে এসকেন্দার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা*রা যান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাভারে এনসিপির সমাবেশে হাতবোমা বিস্ফোরণের মামলায় দুজন রিমান্ডে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাভারে এনসিপি সমাবেশে হাতব ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার নুরুল ইসলাম ও মো. সজিবকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ ৭ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার তাদের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো.বাহাজ উদ্দীন বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই শাখাওয়াত ইমতিয়াজ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। আসামিদের পক্ষের আইনজীবী এমএম আশ্রাফ আলী অয়ন রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন।বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।

সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে তিনজন আহত হন।ওই ঘটনায় রাতেই এনসিপির পক্ষ থেকে একটি মামলা করেন দলের ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি।মামলায় বলা হয়-অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপি নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটনায়।হামলার সময় এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এনসিপি সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

তুরাগ নদীতে আ.লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর গলিত লাশ- বিচার চাইলেন রিপন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হত্যার অভিযোগ তুলে ঘটনার বিচার দাবি করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।
শনিবার ২৭ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন- তুরাগ নদী থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মাহমুদ হাসান রিপনের অভিযোগ, গত ২২ জুন তুরাগ থানা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একটি মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে তাদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একদিকে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচি দমনে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও এহামলার অভিযোগ তোলেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। রাজপথেই নয়, কারাগারেও পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।হত্যা, গুম কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন ও সংগ্রামের ঐতিহ্য ধারণ করে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানে অটল থাকবেন।
তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানান।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ