আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কক্সবাজার:

চকরিয়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবুকে অপহরণের পর চোখে ছুরিকাঘাত।

চকরিয়া প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বেড়েই চলেছে কক্সবাজারের চকরিয়ায়। জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মারামারি, জমি দখল, মৎস্য ঘের দখল, প্যারাবন কাটাসহ নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ আওয়ামীলী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কক্সবাজার জেলার সাবেক সদস্য আবুল কালাম আবুকে (৪৫) সন্ত্রাসীরা মারধর ও চোখে ছুরিকাঘাতের পর হাত-পা বেঁধে মারা গেছে মনে করে সড়কের পাশে ফেলে রাখে।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব ভেওলা ইউনিয়নের আটারকুম এলাকা থেকে অপ্সান অবস্থায় আবুকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

গুরুতর আহত আবুল কালাম আবু (৪৫) চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুলের ছোট ভাই। আবু বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ছোট ভাই আবু কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। গাড়ির জন্য সাহারবিল এলাকাস্থ সড়কে দাঁড়ালে একদল সন্ত্রাসী থাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওই সন্ত্রাসীরা জোর করে আবুকে দিয়ে বাড়িতে মোবাইল করে কক্সবাজার পৌঁছাই বলে নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা আবুকে সারারাত মারধর করে এবং একটি চোখে ছুরিকাঘাত করে মঙ্গলবার সকালে পূর্ব ভেওলা ইউনিয়নের আটারকুম এলাকায় ফেলে রেখে চলে যায়। সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন মূমুর্ষ অবস্থায় আবুকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওইসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আবু।

তিনি আরও বলেন, আবুল কালাম আবু জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য। গত ৭ জানুয়ারীর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছোট ভাই আবু প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামীলীগের নির্দেশনায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান তথা হাতঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের দিন সাহারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাতঘড়ির পক্ষে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনও করেন। মুলত নির্বাচনে হাতঘড়ির পক্ষে ভোট করায় প্রতিপক্ষের লোকজন এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে মহসিন বাবুল জানান। আবুুল কালাম আবুকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেও গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ পাঠানো হয়। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আটারকুম নামক স্থান থেকে স্থানীয় লোকজন আবুকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে তা সনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ