নির্মূল কমিটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা

নিউজ ডেস্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত তিন দশকে নির্মূল কমিটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র ও
সমাজ গঠনের বৃহত্তম নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক ঘোষণার মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক দুর্গম অভিযাত্রা। বহু বাধাবিঘœ, জেল-জুলুম-হত্যা মোকাবেলা করে গত তিন দশকে নির্মূল কমিটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের বৃহত্তম নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে এবং বিস্তার লাভ করেছে পাঁচটি মহাদেশে। আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রামের তিন দশকের অধিক সময়ে বহু সাফল্য রয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, নির্মূল কমিটির ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণে ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। তবে আমাদের প্রধান দাবি-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন, ৩০ লক্ষ শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এখনও আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। বিএনপি’র মদদে ’৭১-এর গণহত্যাকারী, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক জামায়াত-শিবির চক্র এখনও মহাদর্পে রাজনীতির অঙ্গনে বিচরণ করার পাশাপাশি ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাবার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর বার বার আঘাত করছে। বিশেষভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি তান্ডব ও হামলায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই এবং অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে আপোষহীন থাকার ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ার।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৪ জানুয়ারি, বিকেল ৫টায় জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস. রহমান হলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে “সংবিধানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার নাগরিক আন্দোলন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন-উপদেষ্টাম-লির সদস্য স্বপন সেন, কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অধ্যাপক ড. আলা উদ্দিন, সহ-সভাপতি স্বাধীনতা সংগ্রামী মানিক চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান, আওয়ামী লীগ নেতা দীপংকর চৌধুরী কাজল, মো. হাবিবউল্ল্যা চৌধুরী ভাস্কর, সহ-সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম জাবেদুল আলম সুমন, কাজী রাজিশ ইমরান, সুমন চৌধুরী, আবদুল মান্নান শিমুল, মিথুন মল্লিক, সূচিত্রা গুহ টুম্পা, সাহাব উদ্দিন আওরঙ্গজেব (আঙুর), আবু সাঈদ সুমন, রুবেল আহমেদ বাবু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, আবু মো. আরিফ, রাহুল দত্ত, মো. মাহাতাব হোসেন সজিব, মাহমুদুল করিম, মরিয়ম আক্তার মুক্তা, অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুবেল পাল, সহ-অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্তিম বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষিকা সৈয়দা তাহমীনা সুলতানা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শুভ্রদেব কর, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক সাংবাদিক আহমেদ কুতুব, সহ-প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, প্রকাশনা সম্পাদক রাজীব চৌধুরী রাজু, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সাহাব উদ্দিন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক প্রণব দাশ, সহ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক সৈকত দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিন্দ্য মজুমদার অথৈ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুমন সায়েদ সিদ্দিকি, দফতর সম্পাদক অসিত বরণ বিশ্বাস, কার্যনির্বাহী সদস্য নাছিমা আকতার, নাজমুল হক ভূইয়া রাজিব, শওকত খান, জয়নুদ্দীন জয়, আখতার হোসেন, কাজী রোকনুজ্জামান রোকন, রাকিব হাসান, লুৎফর রহমান জুয়েল, শৈবাল দাশ, অনিন্দ্য দেব, জিয়াউল হক জিবলু, ডবলমুরিং থানা শাখার আহ্বায়ক হুমায়ুন ছগির মহন, সদস্য সচিব জাহেদুল আলম মুরাদ, খুলশি থানা শাখার আহ্বায়ক মোস্তফা আমির, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল আলম, বাঁশখালী থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, জাগরণের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলোকচিত্রী কমল দাশ, সহ-সভাপতি প্রবাল চৌধুরী মানু, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাইমুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান সুজন, দপ্তর সম্পাদক জামশেদ উদ্দীন, গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক মোস্তফা আমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ তারেক, উপ-দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল করিম ইমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমিনুর রহমান রাশেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-সম্পাদক গোবিন্দ দত্ত, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন উপ-সম্পাদক ইমরুল কায়েস, উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাহেদ অভি, আহমেদ সাঈদী ইফাজ, আব্দুল্লাহ আল বোরহান, মো. ইরফানুল হক রেজা, মোহাম্মদ কাসরুল ইসলাম, কে.এইচ.এম মিসকাত, মো. নাফিস উদ্দিন আবির, মো. মনির হাওলাদার, মোহাম্মদ আলমগীর, ফয়সাল মাহমুদ জয়, দুর্জয় বড়ুয়া, শাওন বিশ্বাস, আদিত্য চৌধুরী, সৌমেন দাশ রনি, রতেœশ্বর দাশ জিতু, রিংকু দাশ রনী, সামাদ নাহিয়ান, মো. নাজিম উদ্দিন আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার রাজিব দাশ, ইফতি সিকদার, আমিনুল ইসলাম রাশেদ, মো. তারেক রহমান, মো. আব্বাস উদ্দিন, মো. সায়েদ হোসেন রিফাত, জামশেদ উদ্দীন, জয় সেন গুপ্ত প্রমুখ।
সভার প্রধান অতিথি দেশবরেণ্য মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে নির্মূল কমিটির আন্দোলন যেভাবে সফলতা পেয়েছে, ঠিক সেভাবে বাঙালিত্বের আন্দোলনেও নির্মূল কমিটিকে ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন আন্দোলনে নির্মূল কমিটিকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে শওকত বাঙালি বলেন, নির্মূল কমিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় নির্বাচনসমূহের আগে ‘রাজাকারমুক্ত সংসদ চাই’ এই দাবিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অভিযাত্রা শিরোনামে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। আশার কথা, এবারই সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ রাজাকারমুক্ত হয়েছে। এতে আমাদের আন্দোলনের গুরুত্ব ও দায়িত্ব আরো অনেক বেড়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনীতিক, শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পূর্বে আনন্দ র‌্যালী জামাল খান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয় এবং শহীদ জননীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের যোগসাশসে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ