আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

নির্মূল কমিটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা

নিউজ ডেস্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত তিন দশকে নির্মূল কমিটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র ও
সমাজ গঠনের বৃহত্তম নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক ঘোষণার মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক দুর্গম অভিযাত্রা। বহু বাধাবিঘœ, জেল-জুলুম-হত্যা মোকাবেলা করে গত তিন দশকে নির্মূল কমিটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের বৃহত্তম নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে এবং বিস্তার লাভ করেছে পাঁচটি মহাদেশে। আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রামের তিন দশকের অধিক সময়ে বহু সাফল্য রয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, নির্মূল কমিটির ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণে ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। তবে আমাদের প্রধান দাবি-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন, ৩০ লক্ষ শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এখনও আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। বিএনপি’র মদদে ’৭১-এর গণহত্যাকারী, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক জামায়াত-শিবির চক্র এখনও মহাদর্পে রাজনীতির অঙ্গনে বিচরণ করার পাশাপাশি ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাবার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর বার বার আঘাত করছে। বিশেষভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি তান্ডব ও হামলায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই এবং অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে আপোষহীন থাকার ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ার।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৪ জানুয়ারি, বিকেল ৫টায় জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস. রহমান হলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে “সংবিধানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার নাগরিক আন্দোলন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন-উপদেষ্টাম-লির সদস্য স্বপন সেন, কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অধ্যাপক ড. আলা উদ্দিন, সহ-সভাপতি স্বাধীনতা সংগ্রামী মানিক চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান, আওয়ামী লীগ নেতা দীপংকর চৌধুরী কাজল, মো. হাবিবউল্ল্যা চৌধুরী ভাস্কর, সহ-সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম জাবেদুল আলম সুমন, কাজী রাজিশ ইমরান, সুমন চৌধুরী, আবদুল মান্নান শিমুল, মিথুন মল্লিক, সূচিত্রা গুহ টুম্পা, সাহাব উদ্দিন আওরঙ্গজেব (আঙুর), আবু সাঈদ সুমন, রুবেল আহমেদ বাবু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, আবু মো. আরিফ, রাহুল দত্ত, মো. মাহাতাব হোসেন সজিব, মাহমুদুল করিম, মরিয়ম আক্তার মুক্তা, অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুবেল পাল, সহ-অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্তিম বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষিকা সৈয়দা তাহমীনা সুলতানা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শুভ্রদেব কর, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক সাংবাদিক আহমেদ কুতুব, সহ-প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, প্রকাশনা সম্পাদক রাজীব চৌধুরী রাজু, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সাহাব উদ্দিন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক প্রণব দাশ, সহ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক সৈকত দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিন্দ্য মজুমদার অথৈ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুমন সায়েদ সিদ্দিকি, দফতর সম্পাদক অসিত বরণ বিশ্বাস, কার্যনির্বাহী সদস্য নাছিমা আকতার, নাজমুল হক ভূইয়া রাজিব, শওকত খান, জয়নুদ্দীন জয়, আখতার হোসেন, কাজী রোকনুজ্জামান রোকন, রাকিব হাসান, লুৎফর রহমান জুয়েল, শৈবাল দাশ, অনিন্দ্য দেব, জিয়াউল হক জিবলু, ডবলমুরিং থানা শাখার আহ্বায়ক হুমায়ুন ছগির মহন, সদস্য সচিব জাহেদুল আলম মুরাদ, খুলশি থানা শাখার আহ্বায়ক মোস্তফা আমির, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল আলম, বাঁশখালী থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, জাগরণের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলোকচিত্রী কমল দাশ, সহ-সভাপতি প্রবাল চৌধুরী মানু, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাইমুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান সুজন, দপ্তর সম্পাদক জামশেদ উদ্দীন, গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক মোস্তফা আমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ তারেক, উপ-দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল করিম ইমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমিনুর রহমান রাশেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-সম্পাদক গোবিন্দ দত্ত, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন উপ-সম্পাদক ইমরুল কায়েস, উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাহেদ অভি, আহমেদ সাঈদী ইফাজ, আব্দুল্লাহ আল বোরহান, মো. ইরফানুল হক রেজা, মোহাম্মদ কাসরুল ইসলাম, কে.এইচ.এম মিসকাত, মো. নাফিস উদ্দিন আবির, মো. মনির হাওলাদার, মোহাম্মদ আলমগীর, ফয়সাল মাহমুদ জয়, দুর্জয় বড়ুয়া, শাওন বিশ্বাস, আদিত্য চৌধুরী, সৌমেন দাশ রনি, রতেœশ্বর দাশ জিতু, রিংকু দাশ রনী, সামাদ নাহিয়ান, মো. নাজিম উদ্দিন আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার রাজিব দাশ, ইফতি সিকদার, আমিনুল ইসলাম রাশেদ, মো. তারেক রহমান, মো. আব্বাস উদ্দিন, মো. সায়েদ হোসেন রিফাত, জামশেদ উদ্দীন, জয় সেন গুপ্ত প্রমুখ।
সভার প্রধান অতিথি দেশবরেণ্য মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে নির্মূল কমিটির আন্দোলন যেভাবে সফলতা পেয়েছে, ঠিক সেভাবে বাঙালিত্বের আন্দোলনেও নির্মূল কমিটিকে ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন আন্দোলনে নির্মূল কমিটিকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে শওকত বাঙালি বলেন, নির্মূল কমিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় নির্বাচনসমূহের আগে ‘রাজাকারমুক্ত সংসদ চাই’ এই দাবিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অভিযাত্রা শিরোনামে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। আশার কথা, এবারই সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ রাজাকারমুক্ত হয়েছে। এতে আমাদের আন্দোলনের গুরুত্ব ও দায়িত্ব আরো অনেক বেড়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনীতিক, শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পূর্বে আনন্দ র‌্যালী জামাল খান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয় এবং শহীদ জননীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে জামায়াতে ইসলামী’র কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা ও পৌরসভা শাখার উদ্যোগে এক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টায় স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুমার নামাজ শেষে মেজবানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বোয়ালখালী উপজেলা শাখার আমীর মুহাম্মদ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইমাম উদ্দিন ইয়াছিনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী’র আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামী’র আমীর মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ জাকারিয়া, চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ও বোয়ালখালী উপজেলা নায়েবে আমীর ডা. আবু নাছের।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও জামায়াতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন, সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ ইকবাল, বোয়ালখালী উপজেলা মহিলা জামায়াতের সভাপতি নাহিদ পারভিন, অঞ্চল পরিচালক এলিনা সুলতানা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা দিদারুল আলম, বোয়ালখালী পৌরসভা ও পোপাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রেনেসা ও দিগন্ত শিল্পী গোষ্ঠী।

গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদ আমলের বৈষম্য দূর করতে হবে ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন( সিএমইউজে)এর সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এক বিববৃতিতে বলেন- আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শ্রমিক শ্রেণির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সিএমইউজে লক্ষ্য করছে—গণমাধ্যম অঙ্গনে এখনো ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুরু হওয়া বৈষম্য আজও বহাল রয়েছে। তখন চাকুরীচ্যূত অনেক সাংবাদিক এখনো চাকুরী ফেরত পায়নি। সংবাদপত্র মালিকদের একটি অংশ এখনো বেছে বেছে ফ্যাসিবাদের সমর্থক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের অনুগত সাংবাদিকদের চাকরি প্রদান করছে, পেশাগত ন্যায্যতা ও নৈতিকতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক বাধাগ্রস্ত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা, মামলা ও হয়রানির বহু ঘটনা এখনো বিচারহীনতায় রয়ে গেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে।

সিএমইউজে দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছে—সেই সময়ের সকল নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় সাংবাদিকরা একদিকে পেশাগত অনিশ্চয়তাসহ নানা চাপে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা বকেয়া, চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই, আবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে।

সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, আইনি সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা এই চারটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম অব্যাহত আছে। এই প্রেক্ষাপটে সিএমইউজে অবিলম্বে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছে—
* নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত ও বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে।
* সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিনা কারণে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে।
* গণমাধ্যমকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।
* বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সকল সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
* সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
* ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
* সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও কল্যাণ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
* ফ্রিল্যান্স ও অনলাইন সাংবাদিকদের আইনি স্বীকৃতি ও সমান অধিকার প্রদান করতে হবে।
* ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত এবং সংগঠন পরিচালনায় কোনো বাধা দেওয়া যাবে না।
* গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সম্পাদকীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

সিএমইউজে স্পষ্টভাবে বলতে চায়—সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং বিচার নিশ্চিত না হলে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মহান মে দিবসের এই দিনে সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ নিজেদের অধিকার রক্ষায়, পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক ভূমিকা পালনে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ