আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে হকারদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

বানিজ্য নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় হকারদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পেশকার মো. আবু জাফর চৌধুরী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এক হাজার ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষে পুলিশের ৫ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন মাসুম (৪৫), মিরন হোসেন মিলন (৫০), শাহ আলম ভুঁইয়া (৪৭), নুরুল আলম লেদু (৫৯), জসিম মিয়া (৫২), শাহীন আহমদ (৪৭), নূর মোহাম্মদ (৪৮), বাবু ঋষি বিশ্বাস (৫১), হারুনুর রশিদ রনি (৪৮), তারেক হায়দার (৩৮) ও সোহেল (৩৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর পথচারী ও নাগরিকদের রাস্তায় চলাচলে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে নিউমার্কেট ও স্টেশন রোড এলাকায় অবৈধ ও বেআইনিভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখলকারী বিভিন্ন শ্রেণির ভাসমান হকারদের উচ্ছেদে ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

চট্টগ্রামের ইতিহাসে বড় এই অভিযানে নিউমার্কেট ও স্টেশন রোডের বিভিন্ন রাস্তা এবং ফুটপাত দখলকারী সকল অবৈধ হকারকে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদের মাধ্যমে খালি হওয়া ফুটপাত ও রাস্তায় যাতে অবৈধ হকারগণ আর কোন ও দোকান বসাতে না পারে এজন্য সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ পুলিশসহ তাদের টিম নিয়ে প্রতিদিন উক্ত স্থানসমূহ তদারকি করে আসছেন।

গতকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা, মাহরিন ফেরদৌসী, মো. সাব্বির রহমান সানি, রেজাউল করিম রাস্তা, ফুটপাত ও নালা পুনর্দখল ঠেকাতে ঘটনাস্থলে মনিটরিং করতে যান। এ সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান, চিৎকার চেঁচামেচি ও যানবাহন ভাঙচুর করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে পুলিশ আসামিদের শান্ত করার চেষ্টা করলে ও তারা পুলিশের কথা না শুনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

ইটপাটকেলের আঘাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা পায়ে আঘাত পান। এ ছাড়া হামলায় সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকর্মী রুহুল আমিন (৫০), স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য দীলিপ দাশসহ (৪৫) পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। সিটি করপোরেশনের তিনটি মিনিট্রাক ও একটি পেলোডার গাড়ির গ্লাসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ব্যাপক ক্ষতি করে।

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম ওবায়েদুল হক বলেন, গতকাল ১২ ই ফ্রেরুয়ারী সোমবার বিকালে নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে গেলে তারা পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১২০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাদের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও একটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

অবৈধ স্থাপনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি অবৈধ দখল ও নাগরিক অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সোমবার সকালে মেয়র প্রথমে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন।

এ সময় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন মেয়র। পরে বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান খাল সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণেরও নির্দেশ দেন মেয়র।এরপর তিনি ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ফরিদার পাড়া এলাকায় পরিচালিত নালা ও খাল পরিষ্কার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেললে খাল-নালা আবারও ভরাট হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ