আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে হকারদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

বানিজ্য নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় হকারদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পেশকার মো. আবু জাফর চৌধুরী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এক হাজার ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষে পুলিশের ৫ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন মাসুম (৪৫), মিরন হোসেন মিলন (৫০), শাহ আলম ভুঁইয়া (৪৭), নুরুল আলম লেদু (৫৯), জসিম মিয়া (৫২), শাহীন আহমদ (৪৭), নূর মোহাম্মদ (৪৮), বাবু ঋষি বিশ্বাস (৫১), হারুনুর রশিদ রনি (৪৮), তারেক হায়দার (৩৮) ও সোহেল (৩৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর পথচারী ও নাগরিকদের রাস্তায় চলাচলে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে নিউমার্কেট ও স্টেশন রোড এলাকায় অবৈধ ও বেআইনিভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখলকারী বিভিন্ন শ্রেণির ভাসমান হকারদের উচ্ছেদে ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

চট্টগ্রামের ইতিহাসে বড় এই অভিযানে নিউমার্কেট ও স্টেশন রোডের বিভিন্ন রাস্তা এবং ফুটপাত দখলকারী সকল অবৈধ হকারকে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদের মাধ্যমে খালি হওয়া ফুটপাত ও রাস্তায় যাতে অবৈধ হকারগণ আর কোন ও দোকান বসাতে না পারে এজন্য সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ পুলিশসহ তাদের টিম নিয়ে প্রতিদিন উক্ত স্থানসমূহ তদারকি করে আসছেন।

গতকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা, মাহরিন ফেরদৌসী, মো. সাব্বির রহমান সানি, রেজাউল করিম রাস্তা, ফুটপাত ও নালা পুনর্দখল ঠেকাতে ঘটনাস্থলে মনিটরিং করতে যান। এ সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান, চিৎকার চেঁচামেচি ও যানবাহন ভাঙচুর করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে পুলিশ আসামিদের শান্ত করার চেষ্টা করলে ও তারা পুলিশের কথা না শুনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

ইটপাটকেলের আঘাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা পায়ে আঘাত পান। এ ছাড়া হামলায় সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকর্মী রুহুল আমিন (৫০), স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য দীলিপ দাশসহ (৪৫) পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। সিটি করপোরেশনের তিনটি মিনিট্রাক ও একটি পেলোডার গাড়ির গ্লাসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ব্যাপক ক্ষতি করে।

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম ওবায়েদুল হক বলেন, গতকাল ১২ ই ফ্রেরুয়ারী সোমবার বিকালে নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে গেলে তারা পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১২০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাদের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও একটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ