আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

দুর্গাপুরে নিজস্ব শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত ১৫হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী

এমডি আলিফ, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিদ্যালয়ের নিজস্ব শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত উপজেলার ৮৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ১৫ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী। নিজ বিদ্যালয়ে নিজস্ব শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে অনেক খুশি ও আনন্দিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলায় মোট ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স¤প্রতি সকল বিদ্যালয়ে নিজস্বভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। নিজস্ব শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অন্য প্রস্তুত সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, সকল বিদ্যালয়ে আগে শহিদ মিনার ছিল না। ফলে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তবে উপজেলার শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে ৮৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ায় সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব শহিদ মিনারে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে।

জানা যায়, উপজেলায় ৮৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ সব বিদ্যালয়ে আগে কোন শহিদ মিনার ছিল না। ফলে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা, জাতীয় শহীদ দিবস সহ বিভিন্ন দিবসে এসব শিক্ষার্থীকে যেতে হতো অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করা হতো। ২০২১ সালে উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মো. মোখলেছুর রহমান। তিনি এরপর পরিকল্পনা করেন সব স্কুলে শহিদ মিনার তৈরির। সরকারী কোন বরাদ্দ নয়, স্কুলের নিজস্ব ফান্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮৩টি স্কুলে নান্দনিক শহিদ মিনার তৈরি উদ্দ্যেগ নেন তিনি। এরপর গত তিন বছরে ক্রমাš^য়ে গড়ে তোলা হয়েছে সব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার। প্রতিটি স্কুলের শহিদ তৈরিতে খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ হাজারের মধ্যে। উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিংগা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাক্তিবুল ইসলাম জানান, আগে বিদ্যালয়ে কোন শহিদ মিনার ছিল না। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না বিদ্যালয়ের শি¶ার্থীরা। বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার হওয়ায়, শি¶ক শি¶ার্থী ও অভিভাবকরা খুশি। তিনি বলেন, তৎকালীণ শি¶া কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার তৈরির উদ্দ্যেগ নেন। তারপর থেকে একে একে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কাজ শুরু হতে থাকে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজ¯^ ফান্ড হতে এসব শহিদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। পৌর এলাকার দেবীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনির শি¶ার্থী আফসানা হক বলেন, আগে স্কুলে শহিদ মিনার ছিল না। বিভিন্ন দিবসে শ্রদ্ধ্যা জানাতে বাহিরের প্রতিষ্ঠানে যেত হতো অথবা অনেক সময় আবার আমরা নিজেরাই অস্থায়ী শহিদ মিনার তৈরি করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতাম। এখন থেকে আমরা বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারবো। দুর্গাপুর উপজেলা শি¶া কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত লায়লা আনজুমান্দ বলেন, এটা খুবই ভাল উদ্দ্যোগ। উপজেলার সব বিদ্যালয়ে এখন শহিদ মিনার। এতে ক্ষুদে শি¶ার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হবে। তৎকালীণ শি¶া কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার তৈরির উদ্দ্যেগ নিয়ে ছিলেন। সেটা এখন সফল ভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজ¯^ ফান্ড (তহবিল) থেকে শহিদ মিনার তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা

‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’ , ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, শাকসু ব্যান’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’- এসব স্লোগান দেয়।

বিক্ষোবের সময় চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম রনি বলেন, শাকসু নির্বাচন কয়েক দফা পেছালেও আজ একটি সুন্দর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি ছাত্রসংগঠনের কারণে হাজারো শিক্ষার্থী এ নির্বাচনের উৎসব থেকে বঞ্চিত হল। ১৯৯০-৯১ সালেও তারা দায়িত্ব নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয় ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন বন্ধ করেছিল, এখন আবার একই চেষ্টা করছে। তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় ছাত্রসংসদকে। নির্বাচন বন্ধ করতে যা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সবার প্রতিবাদ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের অতীত ইতিহাস আছে। তারা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা টেন্ডারবাজিতে জড়িয়েছে। আপনারা রাজনীতি করতে পারেন, কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী বা স্বৈরাচারী শক্তিকে ক্যাম্পাসে জায়গা দিতে পারবেন না।

চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা ছিল আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য। কিন্তু ছাত্রদল ও বিএনপি আবার পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা অপরাজনীতির পথে যাবে না, অথচ সুযোগ পেলেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও হামলায় জড়াচ্ছে।

তাদের অন্তর্কোন্দলে দুই শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো কারা আবার আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রেজিম ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে ? প্রাতিষ্ঠানিক খুনের রাজনীতি তারাই শুরু করেছে। ডাকসুতে পরাজয়ের পর লজ্জা থাকলে তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি অবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের দাবি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনসিপি চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।১৯ জানুয়ারী সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগ জানান এনসিপি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রচারণা করছেন।

এনসিপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ