আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

দুর্গাপুরে নিজস্ব শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত ১৫হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী

এমডি আলিফ, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিদ্যালয়ের নিজস্ব শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত উপজেলার ৮৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ১৫ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী। নিজ বিদ্যালয়ে নিজস্ব শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে অনেক খুশি ও আনন্দিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলায় মোট ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স¤প্রতি সকল বিদ্যালয়ে নিজস্বভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। নিজস্ব শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অন্য প্রস্তুত সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, সকল বিদ্যালয়ে আগে শহিদ মিনার ছিল না। ফলে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তবে উপজেলার শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে ৮৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ায় সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব শহিদ মিনারে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে।

জানা যায়, উপজেলায় ৮৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ সব বিদ্যালয়ে আগে কোন শহিদ মিনার ছিল না। ফলে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা, জাতীয় শহীদ দিবস সহ বিভিন্ন দিবসে এসব শিক্ষার্থীকে যেতে হতো অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করা হতো। ২০২১ সালে উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মো. মোখলেছুর রহমান। তিনি এরপর পরিকল্পনা করেন সব স্কুলে শহিদ মিনার তৈরির। সরকারী কোন বরাদ্দ নয়, স্কুলের নিজস্ব ফান্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮৩টি স্কুলে নান্দনিক শহিদ মিনার তৈরি উদ্দ্যেগ নেন তিনি। এরপর গত তিন বছরে ক্রমাš^য়ে গড়ে তোলা হয়েছে সব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার। প্রতিটি স্কুলের শহিদ তৈরিতে খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ হাজারের মধ্যে। উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিংগা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাক্তিবুল ইসলাম জানান, আগে বিদ্যালয়ে কোন শহিদ মিনার ছিল না। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না বিদ্যালয়ের শি¶ার্থীরা। বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার হওয়ায়, শি¶ক শি¶ার্থী ও অভিভাবকরা খুশি। তিনি বলেন, তৎকালীণ শি¶া কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার তৈরির উদ্দ্যেগ নেন। তারপর থেকে একে একে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কাজ শুরু হতে থাকে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজ¯^ ফান্ড হতে এসব শহিদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। পৌর এলাকার দেবীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনির শি¶ার্থী আফসানা হক বলেন, আগে স্কুলে শহিদ মিনার ছিল না। বিভিন্ন দিবসে শ্রদ্ধ্যা জানাতে বাহিরের প্রতিষ্ঠানে যেত হতো অথবা অনেক সময় আবার আমরা নিজেরাই অস্থায়ী শহিদ মিনার তৈরি করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতাম। এখন থেকে আমরা বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারবো। দুর্গাপুর উপজেলা শি¶া কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত লায়লা আনজুমান্দ বলেন, এটা খুবই ভাল উদ্দ্যোগ। উপজেলার সব বিদ্যালয়ে এখন শহিদ মিনার। এতে ক্ষুদে শি¶ার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হবে। তৎকালীণ শি¶া কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার তৈরির উদ্দ্যেগ নিয়ে ছিলেন। সেটা এখন সফল ভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজ¯^ ফান্ড (তহবিল) থেকে শহিদ মিনার তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ