আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মকথন শীর্ষক ভিডিওচিত্র সংকলনের উদ্বোধন

বিজয় রায়, রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলার জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনালেখ্য ও যুদ্ধকালীন ঘটনা ও স্মৃতি নিয়ে নির্মিত “আত্মকথন” শীর্ষক ভিডিওচিত্র সংকলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন , প্রধান অতিথি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিজা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোলেমান আলী, এনএসআই’র জয়েন্ট ডিরেক্টর হেমায়েত হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমান বাবলু, সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, ঠাকুরগাঁও জেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুদ্দৌজা বদর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলার জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আত্মকথন শীর্ষক ভিডিওচিত্র সংকলনের বিভিন্ন ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, আত্মকথন পৃথকভাবে জেলার মোট ৭৮৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার ৬১৫টি খন্ডে নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি ভিডিও চিত্রের ব্যাপ্তি গড়ে ৫-৬ মিনিট। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ব্যক্তিগত তথ্য, যুদ্ধকালীন স্মৃতি সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, প্রশিক্ষণ গ্রহণ, রণকৌশল, গেরিলা যুদ্ধ সহ যুদ্ধকালীন বিভিন্ন ঘটনা, অভিযান, স্মৃতি স্বতঃস্ফুর্তভাবে উঠে এসেছে। ধারণকৃত ভিডিওগুলিকে প্রতি উপজেলাভিত্তিক এবং ইউনিয়নভিত্তিক সাজিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং জেলা পর্যায়ের জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ ধরনের সমন্বিত কাজ বাংলাদেশের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এটাই প্রথম বলে জানান, জেলা প্রশাসক। এছাড়াও জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বার্ধক্য, ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্থায়ী স্মৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রচার ও প্রসার এবং ভবিষ্যত গবেষণামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের এ দিন কে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে এই দিবসটি। রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস পালন করছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং দিবসটি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পায় ।

শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হয়ে ওঠে। ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো।আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে সংঘটিত হে মার্কেট বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীকালে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেই স্বরণে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি ভাঙ্গুড়া বাস স্ট্যান্ড শহীদ মিনার থেকে শুরু করে শরৎনগর বাজারে দিকে রওনা হয়। শরৎনগর বাজারের মেইন মেইন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজপাড়া মোড়ের ব্রিজ পার হয়ে, ভাঙ্গুড়া বাজারের মেইন মেইন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরবর্তীতে ভাঙ্গুড়া বাস স্ট্যান্ড শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাকিউল আযমের নেতৃত্বে গাড়ি বহ পুলিশ শোভাযাত্রাটিকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।

আপন ভাই কে তুলে নেওয়ায় ফেসবুকে পোস্ট; লাঞ্চিত করল বিএনপি নেতার ভাই সাংবাদিককে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আপন ছোট ভাই কে তুলে নেওয়ার ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করায় এক জনৈক সাংবাদিক কে প্রকাশ্যে মারধর করেছে, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই শরীফ সহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ শাহিবুল ইসলাম পিপুল ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল দৈনিক বাংলা ট্রিবিউন-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই দিন বিকাল প্রায় ৫ টার দিকে কলেজ পাড়া এলাকায় ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিন সহ কয়েক জন যুবক জোরপূর্বক সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামী কে হাসপাতাল পাড়া সংলগ্ন শিশুকুঞ্জ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিয়ে যায়।
বিষয়টি জানার পর পিপুল তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়।

এ ঘটনার পর পিপুল নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ‘বাহার’ নামে একব্যক্তি ফোন করে তার অবস্থান নিশ্চিত করে ও পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

কিছুক্ষণ পর পিপুল ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজ ও তার সাথে থাকা এক যুবক পরিচয় নিশ্চিত করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তারাই তার ভাইকে তুলে নিয়েছিল বলে স্বীকার করে। সেখান থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে শরীফ ফোনে যোগাযোগ করে পিপুলের অবস্থান জেনে নেয়।

পরবর্তীতে শরীফের নেতৃত্বে ১২/১৫ জনের একটি দল সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তানভীর নামে এক ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক দাঁড়িয়ে থাকা।
একটি সিএনজিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে পিপুল রক্ষা পায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এস আই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল স্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ