আজঃ শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দোকান বন্ধ করে নয়, অগ্নি নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত উপায় বের করতে হবে: সুজন

ডেস্ক নিউজ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দোকান বন্ধ করে নয়, অগ্নি নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত উপায় বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। আজ বুধবার (৬ মার্চ ২০২৪ইং) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অগ্নি নিরাপত্তায় ঢালাওভাবে দোকান কিংবা রেস্টুরেন্ট বন্ধ না করে প্রযুক্তিগত উপায় খুঁেজ বের করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

এসময় সুজন বলেন, সম্প্রতি ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে সেবা সংস্থাগুলো। অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি এসব রেস্তোরাকে সিলগালা করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আর সরকারি যে সব প্রতিষ্ঠান রেস্টুরেন্ট বন্ধের অভিযানে নেমেছে তাদের মধ্যে নেই কোনো সমš^য়। যে যেমন ভাবে পারছেন দায়িত্ব পালনের নামে সিলগালা করে দিচ্ছেন হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্ট। হঠাৎ করে এসব অভিযানে আতংকিত হয়ে পড়েছে রেস্তোরা মালিকগণ। পাশাপাশি এসব রেস্তোরায় কর্মরত কর্মচারীরা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠিত। আর কয়দিন পরেই পবিত্র মাহে রমজান, এরপর পবিত্র ঈদ উল ফিতর। হঠাৎ করে এসব হোটেল-রেস্তোরা বন্ধ করে দিলে এ ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই রাতারাতি দোকান কিংবা রেস্টুরেন্ট বন্ধে এ অভিযানের সুফল মিলবে না বলে মনে করেন তিনি। বরঞ্চ সমš^য় ছাড়া অভিযান পরিচালনা করে সাময়িক জরিমানা কিংবা দোকান সিলগালা করার ফলে পুরো কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটি একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা কিংবা শখের বসে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়ার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ফলত অনেক শিক্ষিত তরুনও পড়ালেখা শেষ করে এ ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তাছাড়া উন্নত বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে দেশে নিত্য নতুন খাবারের ব্র্যান্ডের আবির্ভাব ঘটেছে যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শুভ সংবাদও বটে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রসারে এ শিল্পে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানও হয়েছে। তরুন সমাজের একটি বিশাল অংশ প্রত্য¶ এবং পরো¶ভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত। এ শিল্প আমাদের কৃষি, পর্যটনসহ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে সাথে আগামীতে এ শিল্প আরো ব্যাপক প্রসার লাভ করবে। সুজন আরো বলেন, আমাদের জানামতে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে কমপক্ষে ৮-১০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র নিতে হয়। নকশা, অগ্নি নিরাপত্তা, লোকেশন ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তাহলে কিভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় একটি বিল্ডিংয়ে ৭-৮টি কিংবা ১০টি রেস্টুরেন্টের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে? এক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরই ভ‚মিকা কি ছিলো তাও খুঁজে বের করা দরকার বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এই প্রশাসক। তিনি আরো বলেন, দেশে পাইপ লাইনের গ্যাসের সংকটের কারণে নিকট অতীতে এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ব্যাপক হারে এলপিজির ব্যবহার বাড়লেও এর সুষ্টু ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা কিংবা দুর্ঘটনা নিয়ে কোন প্রকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কখনো করা হয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। এলপিজির যত্রতত্র ব্যবহারের পাশাপাশি বেড়েছে এর দুর্ঘটনাও। তাই এলপিজির ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলেও মনে করেন তিনি। এছাড়া এর নিরাপত্তাজনিত উন্নত প্রযুক্তিও খুঁজে বের করতে হবে। শুধুমাত্র দোকান কিংবা রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে এর ব্যবহারও বন্ধ করা যাবে না বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। তাই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার মতো একটি আভিজাতিক ব্যবসাকে জরিমানা কিংবা সিলগালা করে বন্ধ করে না দিয়ে এর অগ্নি নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম মহানগরের ৫ স্থানে হচ্ছে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৫টি ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মা ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। মঙ্গলবার নতুন ব্রিজ পুলিশ বক্স এলাকায় ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মেয়র বলেন, একজন কর্মজীবী বা বাইরে অবস্থানরত মায়ের জন্য শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মাধ্যমে মায়েরা স্বাচ্ছন্দ্যে এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের শিশুদের প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি সদস্য আব্দুল করিম ভুট্টো, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন শাহেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এন. মোহাম্মদ রিমন, হালিশহর বিএনপি সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ মেহেদী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নোমান সিকদার সোহাগ। এসময় ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী সাফরাশ নুরী সিজ্জি প্রকল্পের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বর্ণনা দেন।

ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ এর নেতৃত্বে বাস্তবায়নাধীন এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় নগরের নতুন ব্রিজ, পতেঙ্গা, কদমতলী কারখানা এলাকা, আগ্রাবাদ এবং রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় মোট ৫টি ব্রেস্ট ফিডিং ফিডিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা যৌথভাবে অর্থায়ন করছে ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
চসিক মেয়র আরও বলেন, শিশুর সুস্বাস্থ্য ও মায়ের মর্যাদা রক্ষায় ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ।এটি শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মানবিক নগর গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যবান্ধব, মানবিক ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্কুল হেলথ প্রোগ্রাম, খেলাধুলার মাঠ আধুনিকায়ন এবং নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

ফের কর্ম চঞ্চল্য চট্টগ্রাম বন্দর, ধর্মঘট স্থগিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট এক সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর ফলে আজ সোমবার সকাল থেকে বন্দর সচল হয়েছে, ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। এর আগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেয়ার চুক্তি হবে না বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘোষণা দেওয়ায় ধর্মঘট স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে বন্দর কর্মচারীদের গ্রেফতার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত সপ্তাহে দফায় দফায় কর্মবিরতির কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার অচলাবস্থার পর গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে সংগ্রাম পরিষদ। এ অবস্থায় রোববার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই।

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এ অচলাবস্থার মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া, দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন।কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে প্রবেশ করে নৌ উপদেষ্টা বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধি দল এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা-হয়রানি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বৈঠকে নৌ উপদেষ্টা বদলি ও মামলা সংক্রান্ত দাবি নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বাকি দুটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করবেন বলে জানান।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের দাবির বিষয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেছিলেন, দাবিগুলো তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তবে চুক্তি ঠেকানো যাবে না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল করার কাজে কেউ বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।
এরপর সংগ্রাম পরিষদ ৪৮ ঘণ্টা জন্য কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করে। ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে কাজে যোগ দেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তবে এর মধ্যে সরকার দাবি মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল সংগঠনটি। সেই ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করে সংগ্রাম পরিষদ।

এর আগে, কর্মবিরতি চলাকালে সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়কসহ ১৫ জনকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বদলি করা হয়। কিন্তু তারা কেউই বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেননি। যেদিন নৌ উপদেষ্টা বৈঠক করেন, সেদিনই ১৫ কর্মচারীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হন। সর্বশেষ লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণার পর পুলিশ পাঁচ কর্মচারীকে আটক করে। এছাড়া বদলি হওয়া ১৫ কর্মচারীর সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আলোচিত খবর

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ। কর্মকর্তা- ইসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কর্মীবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের কর্মযজ্ঞ সফল করতে সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তালিকায় প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।  

নির্বাচন পরিচালনার ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট প্রতিটি কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, সেই হিসেবে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার এখন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও ভোটকক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ