আজঃ শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পথ দেখিয়ে চলেছেন ড. মনোয়ারা হাকিম আলী- কামরুন মালেক

ডেস্ক নিউজ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রামের নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পথ দেখিয়ে চলেছেন ড. মনোয়ারা হাকিম আলী। উইম্যান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি চট্টগ্রামের সভানেত্রী, চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫/বি-৪ বাংলাদেশ এর প্রাক্তন গভর্নর, মিসেস কামরুন মালেক চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিডব্লিউসিসিআই) এর উদ্যোগে বিশ^ নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মনোয়ারা হাকিম আলী তার চিত্ত, বিত্ত, মেধা-মনন দিয়ে চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিকে এমনভাবে গড়ে তুলেছেন যার মাধ্যমে একজন নারী উদ্যোক্তা হতে চাইলে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে তার একনিষ্ঠ কর্মকাণ্ড ও ত্যাগ বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তারা সারাজীবন কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করবে। তিনি মনোয়রা হাকিম আলীর সুস্থতার জন্য সবার নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশরেকা অদিতি হক তার বক্তব্যে বলেন, বিশ^ নারী দিবস হলো নারীদের অস্তিত্বের প্রতীক। দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ইতিহাস এ দিনের সাথে জুড়ে আছে। এবারের নারী দিবসের যে প্রতিপাদ্য, ওহাবংঃ রহ ডড়সবহ: অপপবষবৎধঃব চৎড়মৎবংং, এর মাধ্যমে নারীদের উন্নয়নে কাজ করার জন্য গুরুত্বারোপ প্রদান করা হয়েছে। নারীদের অগ্রগতির জন্য কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে আহŸান জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সিডব্লিউসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট ইন-চার্জ ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবিদা মোস্তফা বলেন, বিশে^ যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যানকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। ইতিহাসের পাতায় দেখলেই আমরা বুঝতে পারি তাদের নানান অবদান। এই নারী দিবসে আমি সেই সকল মহিয়সী নারীদের স্মরণ করছি যারা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে গেছেন। তিনি আরও বলেন, নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেয়। তারা এখন স্বাবলম্বী হতে চায় আর আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে চায়। এ লক্ষ্যে, আমাদের চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি নারীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যার মাধ্যমে নারীরা আর্থিকভাবে ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারপারসন ও সিডব্লিউসিসিআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশাত ইমরান বলেন, নারী দিবস শুধু একদিন নয়। একদিন হলে আমাদের নারীদেরকে অসম্মান করা হয় বলে আমি মনে করি। তাই আমাদের সারা বছরজুড়ে নারী দিবস পালন করতে হবে তাদেরকে সম্মান প্রকাশ করতে। নারীকে ঘর থেকেই সম্মান শুরু করতে হবে। তাহলেই সমাজ, দেশ, জাতির কাছ থেকে সে সম্মান পাবে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি বেলুন উড়িয়ে বিশ^ নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‌্যালির উদ্বোধন করেন। দ্বিতীয় পর্বে, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি সহ সম্মানিত অতিথিবৃন্দ সমবেতভাবে কেক কেটে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে ‘বাংলার মহিয়সী নারী’ শিরোনামে চরিত্র চিত্রণ করা হয় যা আগত অতিথিদের সম্মুখে উপস্থাপন করেন সিডব্লিউসিসিআই এর সদস্য নারী উদ্যোক্তারা। যেখানে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর চরিত্রে শাহিন আক্তার, বেগম রোকেয়া এর চরিত্রে সৈয়দা আরজুমান সুলতানা, বেগম মুশতারী শফী এর চরিত্রে আনোয়ারা শাহরিয়ার রিনু, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর চরিত্রে শিরীণ আক্তার শিল্পী, জাহানারা ইমাম এর চরিত্রে জেনিফার আলম, শামসুন নাহার মাহমুদ এর চরিত্রে লায়লা ফাতেমা, বেগম সুফিয়া কামাল এর চরিত্রে রওশন আরা, নভেরা আহমেদ এর চরিত্রে সুবর্ণা দে, রমা চৌধুরী এর চরিত্রে কমলা দাশ, মনোয়ারা হাকিম আলী এর চরিত্রে সাবিনা কাইয়ুম যথাক্রমে নিজেদের উপস্থাপন করেন। এছাড়া, বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষ্যে সিডব্লিউসিআিই বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার ও ডিবেটার্স অব চিটাগাং ইউনিভার্সিটি এর যৌথ উদ্যোগে জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত ‘সমতায় নারী, ক্ষমতায় নারী’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে কাপ, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সিডব্লিউসিসিআই এর পরিচালক রুহি মোস্তফা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নূজহাত নূয়েরী কৃষ্টি, আইভি হাসান ও শেখ সাদিয়া সিদ্দিকা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিডব্লিসিসিআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সীমা খাতুন, শামীম মোরশেদ ও লুৎমিলা ফরিদ এবং পরিচালকমণ্ডলীর সদস্য সহ সিডব্লিউসিসিআই এর সদস্যবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে : ডিসি চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, বর্তমানে উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।মঙ্গলবার নগরীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণ যেন সহজে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

তিনি বলেন,আমরা বছরের পর বছর সভা-সেমিনারে অংশ নিই, নানা পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করি। কিন্তু নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে— বাস্তবে আমরা কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছি? জনগণ কি আমাদের কাছ থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে? এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জন-প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল খুঁজি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব কতটুকু পালন করছি, তা নিয়ে আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি কমে গেছে। অথচ দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদেরই ওপর ন্যস্ত।

সাপ্তাহিক গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডিসি বলেন, প্রতি বুধবার গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসেন। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, অনেক সমস্যাই স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান করা সম্ভব ছিল। আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হতাম, তবে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত।
দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একটি কার্যকর উদ্যোগ।তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বল্প ব্যয়ে ও দ্রুত বিচারসেবা দিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার কর্মস্থলকে সেবার সুবাসে ও মানবিকতার সৌরভে ভরিয়ে তুলুন, যেন মানুষ আপনাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে মনে রাখে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন গ্রাম আদালত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে এ সেবা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা শূন্য বা তুলনামূলক কম, বিশেষ করে মিরসরাই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের উদাহরণ তুলে ধরে সেখানে জনসচেতনতা ও আস্থা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলার নথি, রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে সংরক্ষণের তাগিদ দেওয়া হয়। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ‘ইপসা’র পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ১৯১টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নগরবাসীর দুর্ভোগ * ঝুঁকি নিয়ে চলছেন পথচারীরা * ফুটপাত সংস্কারের সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের ফুটপাতগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, স্থানীয় চাঁদাবাজরা এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদা আদায় করে আসছে। নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাতে হকার বসিয়ে, সড়কে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড কিংবা ভ্যান গাড়ির ভাসমান বাজার বসিয়ে এমন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি চলছে।

বিভিন্ন গ্রুপের নামে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলছে এই চাাঁদাবাজির মহোৎসব। প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ফুটপাত ও রাস্তা দখলের অপতৎপরতা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। হঠাৎ করেই দোকান, ভ্যান ও অস্থায়ী স্টলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পথচারীকে চলন্ত যানবাহনের মধ্য দিয়েই চলতে হয়। ফুটপাতে হাঁটতে না পেরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কেই চলছেন পথচারীরা। এতে করে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে মূল সড়ক। নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে ফুটপাত রাখার যে বিধান রয়েছে তা একেবারেই উপেক্ষিত।

এদিকে গত শনিবার নগরের নিউ মার্কেট মোড় থেকে ওমর চাঁদ রোড হয়ে সদরঘাট রোড পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে প্রায় ২০০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। তবে চসিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে, হকার-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফের দখল করে। ফলে সুফল মিলছে না সম্প্রসারিত সড়কগুলোর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে প্রভাবশালী চক্রের ব্যবসা চলছে। দখল করা ফুটপাত এবং রাস্তায় ভাসমান ভ্যান এবং হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। এই টাকা ভাগ হয় নানাভাবে।

চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সামনে থেকে আবাসিক এলাকার রাস্তা পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে দোকান। শাকসবজি, কাপড়চোপড়, খেলনা, জুতা, মোজা, বিভিন্ন ধরনের ফলসহ রকমারি পণ্যের এসব দোকান বসিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একটি দোকান থেকে দৈনিক পাঁচশ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয় বলে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় একেকটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের কাছে ভাড়া দিচ্ছে। প্রতিটি ভাসমান দোকানকে দৈনিক ভিত্তিতে টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। দখলদারিত্বের কারণে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে। ফুটপাত সংস্কারের সুফলও পাচ্ছে না নগরবাসী।

অন্যদিকে নগরীর জিইসি মোড়ে সেন্ট্রাল প্লাজার পাশের ফুটপাত দখল হয়েছে অনেক আগে। রাস্তার উপরও স্থাপন করা হয়েছে ভাসমান হকারদের দোকান। এই মার্কেটের পাশের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সিমেন্টের ব্লক দিয়ে ও আর নিজাম রোড থেকে বামে যাওয়া গাড়িগুলোর জন্য সিঙ্গেল একটি লেন করেছে। একটি গাড়ি কোনোরকমে সরু লেনটি দিয়ে চলতে পারে। গত কদিন ধরে ওই সরু লেনের রাস্তা দখল করে কয়েকটি টেবিল বসানো হয়েছে। এছাড়া নগরীর ওয়াসা ও ইস্পাহানীর মোডেও ফুটপাত দখল করা হচ্ছে।
এদিকে জামালখানে রাস্তার উপর কয়েকশ ভ্যানে বেচাকেনা চলে। মোড়টিতে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে ব্যবসা।

চকবাজারের চক সুপার মার্কেট থেকে ফুলতলা, কেয়ারি থেকে অলি খাঁ মসজিদ, তেলপট্টি থেকে চক সুপার মার্কেট পর্যন্ত সড়কের উপর প্রতিদিন অন্তত শ’তিনেক দোকান বসে।চট্টগ্রাম মেডিকেলের সামনের ফুটপাত, রাস্তা, চট্টেশ্বরী রোডের মোড়, জয়নগরের রাস্তার মোড়সহ পুরো এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তায় বেচাকেনা চলছে। চকবাজার থেকে ডিসি রোড, দেওয়ান বাজার থেকে চন্দনপুরা হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়, আন্দরকিল্লা মসজিদের সামনে থেকে লালদিঘি, নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড, লালদিঘি থেকে কোতোয়ালী মোড়, জিপিও থেকে নিউ মার্কেট মোড়, সিরাজউদৌলা রোড, চকবাজারসহ যত্রতত্র ভ্যান এবং টেবিলে নানা পণ্যের ব্যবসা চলে।

নগরীর উইম্যান কলেজ মোড় থেকে গার্লস স্কুল পর্যন্ত রাস্তাটি ব্যস্ত একটি সড়ক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটির হাজার হাজার মানুষ ছাড়াও অসংখ্য ছাত্রী নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। বহু আগে মোড়ে একটি সবজির বাজার তৈরি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরে পুরো রাস্তাটিতে অসংখ্য ভ্যানগাড়ি দখল করে নিয়েছে।
নগরবাসী বলছেন, বর্তমান মেয়র রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা কঠিন নয়। নগরবাসীকে চলাচলের জন্য ফুটপাত মুক্ত করতে তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেই পাল্টে যাবে চট্টগ্রামের চেহারা।

তবে– চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) দাবি করেছে, তারা নিয়মিত হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, যাতে ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী থাকে। কিন্তু বাস্তবে এসব অভিযানের স্থায়ী কোনো প্রভাব পড়ে না। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হকাররা আবার জায়গা দখল করে নেয়।

নগরবাসীর মতে, ফুটপাতে শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না। পুনরুদ্ধার হওয়া ফুটপাত পুনর্দখল রোধে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজনে মিনি বাগান করে দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে উচ্ছেদের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা জায়গা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদ করেও কাজ হবে না। কেউ কেউ ফুটপাতের পরিবর্তে বিকল্প স্থানে হকারদের বসার জায়গা

করে দেয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে গত শনিবার নগরের নিউ মার্কেট মোড় থেকে ওমর চাঁদ রোড হয়ে সদরঘাট রোড পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে প্রায় ২০০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চসিক। অভিযানে পাশের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. সোয়েব উদ্দিন খান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার লক্ষ্যে আজকের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা ও টং দোকানের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং যানজটও বাড়ছিল। এসব সমস্যা নিরসনে আমরা ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি।

তিনি বলেন, মেয়র মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে, নগরের কোনো ফুটপাত বা সড়ক অবৈধভাবে দখল করে রাখা যাবে না। জনগণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে। সে লক্ষ্যে শুধু আজকের অভিযান নয়, ভবিষ্যতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যারা উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাত ও সড়ক দখলের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও চলাচল উপযোগী রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। কোথাও ফুটপাত বা সড়ক অবৈধভাবে দখল করা হলে নাগরিকরা প্রতিবাদ জানাবেন এবং দ্রুত সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতার সমন্বয়েই একটি সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
এদিকে উচ্ছেদ হওয়া হওয়া কয়েকজন হকার বলেন, হকার সমিতিতে টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করেন। এছাড়া নোটিশ দেওয়া ছাড়া অভিযান পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ