আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দালালরা ডাক্তারদের থেকে বেশি ইনকাম করে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে রাজপথে নেমেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশিক্ষণরত ও শিক্ষানবীশ চিকিৎসকেরা। সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। গতকাল রোববার সকালে পোস্টগ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ যৌথভাবে চমেক হাসপাতালের মূল ফটকে মানববন্ধন করে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের যৌথ ৪ দাবি হলো- ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের (এফসিপিএস, রেসিডেন্ট ও নন রেসিডেন্ট) বকেয়া ভাতা প্রদান করা। ১২টি প্রাইভেট ইন্সটিটিউটের নন-রেসিডেন্ট ও রেসিডেন্টদের আকস্মিক ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ভাতা পুনর্বহাল করা ও অবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রনয়ন করা।
মানববন্ধনে পোস্টগ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসক আল আমিন ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমরা সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছি। সর্বশেষ আমরা কর্মবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের থাকার কথা ছিল হাসপাতালের ওয়ার্ডে, অথচ আমাদের থাকতে হচ্ছে রাজপথে। আমরা সপ্তাহে সাতদিন, মাসে ৩০দিন, বছরে ৩৬৫ দিন ডিউটি করি। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা নেই। অথচ আমাদের যে ভাতা দেওয়া হয়, সেটা অমানবিক।
পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি ডাক্তাররা মানবেতর জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ (চমেক) হাসপাতালের আনাচে-কানাচে বিভিন্ন ধরনের দালাল আপনারা পাবেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল, হাসপাতাল-ক্লিনিকের দালাল। এ দালালরা পর্যন্ত ডাক্তারদের থেকে বেশি ইনকাম করে মাস শেষে। ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে আপনারা যেসব মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ দেখেন, তাদের মাসিক বেতন ডাক্তারদের মাসিক বেতনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
কর্মবিরতির সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়ে আল আমিন বলেন, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। দুই দিনের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে পোস্ট গ্রাজুয়েট ও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কেউ হাসপাতালে এবং ওয়ার্ডে ফেরত যাবেন না। আমরা আমাদের দাবিতে অনড় থাকব।
চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ ফয়েজউল্লাহ বলেন, একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি ডাক্তারের ভাতা ২৫ হাজার টাকা। একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ভাতা মাত্র ১৫ হাজার টাকা। এ টাকায় কি বর্তমান বাজারে চলা সম্ভব? আবার বলে দিয়েছে, প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা যাবে না। তাহলে ২৫ হাজার টাকায় একজন মানুষ কিভাবে নিজে চলবে আর সংসার চালাবে? আবার তাদের ছয় মাসের বেতনও বকেয়া আছে।
‘হাসপাতালে রোগী বেড়েছে, চাপ বেড়েছে, কাজ বেড়েছে, বাজারে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। শুধু বাড়েনি আমাদের বেতন-ভাতা। এজন্য আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। আট ঘণ্টা থেকে চৌদ্দ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটি দিয়ে, শুক্রবারও ছুটি নেই, তাহলে কেন ন্যায্য সম্মানি দেওয়া হবে না? আমাদের দাবি হচ্ছে, পোস্ট গ্রাজুয়েটদের ভাতা ৫০ হাজার টাকা এবং ইন্টার্নদের ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। এ দাবিতে আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার অপারেশনাল কার্যক্রম,রোববার প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পরদিন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ’র পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, সারাদেশ নির্বাচনি ডামাডোলের মধ্যে আছে৷ এর ফাঁকে সরকার চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের সবচেয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমরা এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে।আমরা মনে করি এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া চরম আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব চরমভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে।

কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেছি। আগামী শনিবার ৮ ঘণ্টা বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপরও সরকার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শ্রমিকের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আলহাজ্ব শুক্কুর মাহামুদ ও মোজাম্মেল হকের অবদান অবিস্মরণীয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শ্রমিক কাজ করে মজুরি নিবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মজুরি নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা কত বিড়ম্বনার স্বীকার হয় তা যারা ভুক্তভোগী একমাত্র তারাই জানেন। নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর ধরন কিভাবে নির্ধারণ করা হবে তা এদেশের শিল্প এবং শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল। এতে করে শ্রমিক মালিকদের দ্বন্দ্ব বিভাজন প্রতিনিয়ত লেগেই থাকতো।

এমনিই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নিয়ম নীতির আলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করার জন্য শ্রমিকের বেতন, মজুরি বোর্ড গঠন, বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে সরকারি গেজেট প্রণয়ন আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শুক্কুর মাহামুদ-এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী ও সদ্য প্রয়াত বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হকের স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অদ্য ২৯ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় মাঝিরঘাটস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে সংগঠনের সভাপতি এম. নুরুল হুদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মাস্টার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন এই দুই নেতার অবদান দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তারা আমাদের অনুসরনীয় ব্যক্তিত্ব। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে শ্রমিকদের গেজেটের মজুরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুল ইসলাম মাস্টার।

তিনি বলেন, নৌ-সেক্টরে বিরাজমান সংকট থেকে উত্তরণের তাদের অবদান স্মরণীয়। এতে আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকতার জামান মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক আজগর হোসেন তালুকদার, অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, সহ সম্পাদক রশিদ আহমদ মাস্টার, সাজ্জাদ হোসেন জনি, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান বাবু ড্রাইভার, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সাব্বির আফরোজ, ইয়াহিয়া খান কুতুবী, মিরাজ হোসেন, সোহাগ লস্কর, আল আমিন, মো. ফিরোজ সুখানী, কাজল মোড়ল প্রমুখ। সভায় আলহাজ্ব শুক্কুর মাহামুদ ও মোজাম্মেল হকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে খতমে কোরআন তেলাওয়াত এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন আইচ ফ্যাক্টরী রোড মহিউসুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হক।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ