আজঃ শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী চট্টগ্রাম রেঞ্জ কর্তৃক মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করেছে। মহান স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব অনুসারে এ দিবসটি যথাযোগ্যভাবে পালনের উদ্দেশে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদরদপ্তরের নির্দেশনা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ উপমহাপরিচালকের সার্বিক তত্বাবধানে চট্টগ্রাম রেঞ্জাধীন সকল ব্যাটালিয়ন, জেলা ও জোন কার্যলয় সমূহে আলোকসজ্জা, ব্যানার প্রদর্শন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে প্রতীকী ব্ল্যাক আউট, স্বাধীনতা দিবস, স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন, মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মউৎসর্গকারী সকল বীর শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত ইফতার পরবর্তী প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
দু-পর্বের এ কর্মসূচীতে ২৫ মার্চ/২৪ বাদ যোহর মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদগণের আত্মার শান্তি কামনা এবং বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের ব্যবস্থা করা হয়। এতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বত:¯ফূর্তভবে অংশগ্রহণ করেন। এ দিন রাত ১১:০০ টা হতে ১১:০১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ব্ল্যাক আউট কর্মসূচি পালন করা হয়।
২৬ মার্চ/২৪ ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে জেলা প্রশাসন,চট্টগ্রাম নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পন করে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উক্ত কর্মসূচীতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ উপমহাপরিচালক জনাব মোঃ সাইফুল্লাহ্ রাসেল বিএএম, পিএএমএস, ৩১ আনসার ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ও উত্তর জোন অধিনায়ক (সিএমএ) জনাব নাজমুল হক নুরনবী, চট্রগ্রাম জেলা কমান্ড্যান্ট ও দক্ষিণ জোন অধিনায়ক (সিএমএ) জনাব এ এইচ এম সাইফূল্লাহ হাবিব, সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট ফরিদা পারভীন সুলতানা সহ রেঞ্জ, ব্যাটালিয়ন এবং জোনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
অতঃপর সকাল ০৮:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম কর্তৃক এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্যারেড, বর্ণাঢ্য রেলী ও মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেডে অন্যান্য বাহিনী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংষ্কৃতিক সংগঠনের ন্যায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ব্যাটালিয়ন আনসার, সাধারণ আনসার এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা দল সহ ৩টি কন্টিনজেন্ট অংশ গ্রহণ করে।
প্যারেড শেষে ফয়’সস্থ লেক রেঞ্জ কার্যালয় হল রুমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী উপস্থিত সকল সদস্যদেরকে পাঠ করে শোনানো হয়। এছাড়াও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র/ভিডিও ‘বাংলার মাটি বাংলার জল ও স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র করকে (অব: থানা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা) সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বাদ যোহর মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
সর্বশেষ ইফতার পরবর্তীতে প্রতিভোজ আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রতিভোজ অনুষ্ঠানে উপমহাপরিচালক জনাব মোঃ সাইফুল্লাহ্ রাসেল বিএএম, পিএএমএস চট্টগ্রাম রেঞ্জ সহ ৩১ আনসার ব্যাটালিয়ন ও জেলা আনসার ও ভিডিপি চট্টগ্রাম জেলার সকল কর্মকর্তা কর্মচারী অংশগ্রহণ করে।
গণসংযোগ সহকারী
সিহাব মোল্লা
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী
চট্টগ্রাম পার্বত্র রেঞ্জ,চট্টগ্রাম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রমে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন জলদস্যুর মাঝে র‌্যাবের ঈদ উপহার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন সাবেক জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিট। বুধবার চট্টগ্রাম ইউনিটের সদর দপ্তর পতেঙ্গা এলিট হলে র‌্যাব মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলের আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।একইসঙ্গে তাদের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চাঁদাবাজ, খুনি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ২০১৮ ও ২০২০ সালে ৭৭ জন এবং ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে জানায় সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম র‌্যাবের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা র‌্যাবের কল্যাণমূলক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা ভবিষ্যতে সৎ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হস্তক্ষেপে অবশেষে নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেপি সনেট লিমিটেডের মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে।

জানা যায়, ডিসির নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি তাৎক্ষণিকভাবে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে মালিকপক্ষ। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভোরে সেই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।কারখানার সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, ডিসি স্যার প্রথমে নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।তিনি অচলাবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে অফিসারদের মাধ্যমে মনিটরিং করেন। এছাড়া তিনি মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ তালবাহানা বন্ধ করে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।তিনি বলেন, ডিসি স্যার হস্তক্ষেপ না করলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি ও স্টক মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করি। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও ডিসি স্যার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাজি হন। রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। তবে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে বকেয়া পরিশোধ করতে। জেলা প্রশাসক বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট এই শ্রম অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ, যখন প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মালিকপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল।জেলা প্রশাসন জানায়, শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ