আজঃ সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার রায়ে ২ জনের ফাঁসির আদেশ

ভাই-বোনসহ ‘শিবির ক্যাডার’ সাইফুলকে খুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে তিন জনকে খুনের মামলায় দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে ‘শিবির ক্যাডার’ সাইফুল ও তার ভাই-বোনসহ তিনজনকে খুনের এই মামলার একই রায়ে আদালত আসামিদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তবে মামলার আসামি দুই শিবির ক্যাডার র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ায় তাদের আগেই বিচার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার এ রায় দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আল আমিন জানিয়েছেন।
দণ্ডিতরা হলেন আবুল কাশেম (৭০) ও মো. ইউসুফ প্রকাশ খাইট্ট্যা ইউসুফ (৭০)। তাদের বাড়ি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বালুচরা এলাকায়। রায় ঘোষণার সময় উভয়ে আদালতে হাজির ছিলেন। খুনের শিকার তিনজন হলেন— সাইফুল ইসলাম, তার ভাই মো. আলমগীর ও বোন মনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়িও বালুচরা এলাকায়।
জানা গেছে, দণ্ডিত আসামদের সঙ্গে সাইফুলের জায়গা-সম্পত্তির বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষ শিবির ক্যাডাররা সাইফুল এবং তার ভাই ও বোনকে খুন করেছিল। দুই দশক আগে ট্রিপল মার্ডারের এ ঘটনা চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এর মধ্য দিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে শিবির ক্যাডারদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফয়েজ বলেন, আসামি কাশেম ও ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দণ্ডবিধির ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় আসামি কাশেম ও ইউসুফ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামি থানার দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় ৩৬ শতক জমি নিয়ে আসামি ইউসুফ ও কাশেমের সঙ্গে সাইফুলের বিরোধ চলছিল। একইসঙ্গে সাইফুলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল ওই এলাকার তৎকালীন দুর্র্ধষ শিবির ক্যাডার মো. নছির ওরফে গিট্টু নাছিরের সঙ্গেও। গিট্টু নাছির ও সাইফুল শিবির ক্যাডার হিসেবে সেসময় চট্টগ্রাম শহরের ত্রাস ছিল। দেশজুড়ে তোলপাড় তৈরি করা অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরী খুনের মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছিল। উভয়ে আরেক দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী শিবির নাছির ওরফে বড় নাছিরের অনুসারী ছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বড় নাছির গ্রেফতার হওয়ার কয়েকবছর পর গিট্টু নাছির ও সাইফুলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এসময় দু’জন আলাদাভাবে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ে।এ অবস্থায় গিট্টু নাছির ও তার অনুসারীরা সাইফুলকে খুনের পরিকল্পনা করে। বালুচরার বাসিন্দা ইউসুফ ও কাশেমও সাইফুলকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইউসুফ-কাশেমের সঙ্গে গিট্টু নাছিরের দল এক হয়ে সাইফুলকে খুনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। ২০০৪ সালের ২৯ জুন বালুচরা এলাকায় সাইফুলের বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে গিট্টু নাছির, তার সহযোগী ফয়েজ মুন্না ও আজরাইল দেলোয়ার। সঙ্গে ছিল কাশেম ও ইউসুফ।
গিট্টু নাছিরদের দেখে সাইফুল ও তার ভাই আলমগীর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। হামলাকারীদের ঠেকাতে মনোয়ারা তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ফয়েজ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পালানোর সময় পেছন থেকে আলমগীরকে ফয়েজ মুন্না গুলি করে। আলমগীর পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর কাশেম সাইফুলকে দেখিয়ে নাছিরকে নির্দেশ দিয়ে বলে, ‘এ শালাকে জীবনে শেষ করে দে।’ সঙ্গে সঙ্গে গিট্টু নাছির গুলি ছুড়লে সাইফুল কপালে, বুকে, পেটে, পিঠে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরও মারা যায়।
এ ঘটনায় সাইফুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার শিল্পী বায়েজিদ বোস্তামি থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ইউসুফ, কাশেম, গিট্টু নাছির ও ফয়েজ মুন্নাকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে আজরাইল দেলোয়ারের নাম এজাহার ও অভিযোগপত্রে আসেনি, যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম ছিল। কিন্তু র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা যাওয়ায় তার নাম বাদ পড়ে।২০১৭ সালের ৫ জুলাই ইউসুফ ও কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ায় গিট্টু নাছির ও ফয়েজ মুন্নাকে বিচার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত রায় দেন।

এদিকে বাবাকে নির্দোষ দাবি করে আসামি ইউসুফের ছেলে মো. পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমার বাবাকে এখানে ফাঁসানো হয়েছে। এ মামলা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে করা হয়েছিল। জামায়াত-শিবিরের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ওই খুনগুলো হয়েছিল। আমার বাবা আওয়ামী লীগের অনুসারী। ২০১০ সালে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল মামলা বাতিল করার জন্য। ২০১৩ সালে মামলা বাতিলের জন্য এ আদালতে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছিল। এটা কার্যকর না করে একতরফাভাবে ওনাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা হাইকোর্টে যাব বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চসিকের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ২০০ অবৈধ দোকান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের সাগরিকা এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে সাগরিকা রোডের বিটাক বাজার এলাকা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চসিক সূত্র জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রায় ২০০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়, ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। অভিযানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাহাড়তলী থানা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত -১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আতাউর রহমান (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া-প্রাগপুর সড়কের উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মাঠপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আতাউর রহমান উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়ুড়া ফুটানিপাড়া গ্রামের মৃত উজির বিশ্বাসের ছেলে। আহতরা হলেন- উপজেলার কৈপাল এলাকার শুভ হোসেন (৩৫) ও হুমায়ুন কবির (২১)। তাদের মধ্যে শুভ হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত হুমায়ুন কবির দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাঠপাড়া এলাকায় দুটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।এতে মোটরb সাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আতাউর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ