আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

বোদা উপজেলায় সুপারীগাছের খোল দিয়ে তৈরী হচ্ছে খাবার প্লেট ,বাটি, চামচ।

আনোয়ার হোসেন ডিমলা নিলফামারী:

পঞ্চগড়:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার শিমুল তলী এলাকায় সুপারী গাছের খোল দিয়ে তৈরী হচ্ছে ওয়ান টাইম তৈজসপত্র। উদ্যোক্তারা বলছেন ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম তৈজসপত্রের পরিবর্তে সুপারী গাছের খোল দিয়ে তৈরী তৈজস পত্র স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশ সম্মত। বাজারে চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। ইকো বিডি গ্রীন নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
পঞ্চগড়ে ব্যাপক আকারে সুপারী চাষ হয়। চাষিরা তাদের বাড়ির আনাচে কানাচে গড়ে তুলেছেন সুপারী বাগান। এসব বাগানে সংগৃহিত সুপারী দেশের নানা প্রান্তে রপ্তানী হয়। এসব বাগানের সুপারী গাছের পাতা সহ খোলের বয়স হয়ে গেলে তা লাল হয়ে একসময় মাটিতে ঝরে পড়ে যায়। হাজার বছর ধরে পাতা সহ এই খোল রোদে শুকিয়ে চাষিরা রান্না বান্নার কাজে জ¦ালানী হিসেবেই ব্যবহার করে আসছেন। এই খোল দিয়ে বর্তমানে তৈজস পত্র বানিয়ে রীতিমত চমকে দিয়েছে ইকো বিডি নামের ওই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফরিদুল আলম হিরু বলেন, তার বড় ভাই নুরুল আলম সেলিম ঢাকায় ব্যবসা করেন। ভারত এবং চিন ভ্রমণে গিয়ে তিনি সুপারীর গাছের খোল দিয়ে ওয়ান টাইম প্লেট তৈরীর কারখানা পরিদর্শন করেন। পরে দেশে এসে গত বছরের অক্টোবর মাসে কারখানা স্থাপন করেন তিনি। শুরুতে সুপারীর খোল পাওয়া যাচ্ছিলনা। চাষিরা সাধারনত সুপারির খোল শুকিয়ে রান্নার কাজে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তারা এগুলো বিক্রী করতে চাচ্ছিলনা। আস্তে আস্তে আমরা বোঝাতে সক্ষম হই। বর্তমানে প্রতিটি খোল আমরা ২ থেকে ৩ টাকা দরে কিনছি। জেলার সুপারী অধ্যুষিত সব ইউনিয়নে আমাদের লোক কাজ করছে। তারা চাষিদের বাড়িতে গিয়ে সুপারীর খোল সংগ্রহ করেন। আগে সুপারীর খোলগুলো মাটিতে পড়ে থাকতো। ফাঙ্গাসে নষ্ট হতো। আমরা কেনার উদ্যোগ নেয়ার পর এখন সেগুলো বাশের টারে ঝুলিয়ে রাখে চাষিরা। ফলে এটা নষ্ট হয়না।
কারখানার শ্রমিকরা বলছেন প্রথমে খোলগুলোকে পাতা থেকে আলাদা করা হয়। তারপর খোলগুলোকে নিমপাতা ও লেবুর রস যুক্ত পানিতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখা হয়। এরপর ব্রাস দিয়ে ঘেষে মেজে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তারপর আধাঘন্টা রোদে শুকিয়ে নেয়া হয়। এরপর পাতার খোল ছাঁচের মেশিনে বসিয়ে ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রী তাপ এবং চাপ প্রয়োগ করা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোলাকার বাটি, গোলাকার প্লেট, চৌকোণা প্লেট, লাভ প্লেট, চামুস, ট্রেসহ ৮ ধরনের জিনিস প্রস্তুত কর হয়ে যায়। কারখানা কতৃপক্ষ আরও জানান, প্লেট ৭ থেকে ৮ টাকা, বাটি ৫ টাকা অন্যান্য তৈজস পত্র নির্ধারিত দামে বিক্রী হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় চাহিদা কম হলেও এনজিওরা এই তৈজসপত্র কিনছেন। এছাড়া ঢাকা চট্টগ্রামেও রপ্তানী হচ্ছে।
সুপারী চাষিরা বলছেন, এই বাড়তি আয় দিয়ে সুপারী বাগানের পরিচর্যা করা যাচ্ছে। টুনির হাট এলাকার সুপারী চাষি নুর হাসান জানান, আমরা তো জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন প্রতি খোল তিনটাকা করে পাচ্ছি। এটা বাড়তি আয়। এই আয় দিয়ে সুপারী বাগানের পরিচর্যা করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের জানান, এটা পরিবেশ বান্ধব একটি উদ্যোগ। এই তৈজস পত্রগুলো ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতি হবেনা। স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবহার করার পর মাটিতে ফেলে দিলে সার হয়ে যাবে। মাটির উর্বরতা বাড়বে। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার জানান, এটি নি:সন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। দেশে বিদেশে পরিবেশ সম্মত এসব তৈজস পত্রের চাহিদা বাড়বে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
আজ ২৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে সঞ্চিতা ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্বাধিকারী সংগীত কুমার পালের সভাপতিত্বে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর হেড অব সেলস মাকসুদুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভাঙ্গুড়া বণিক সমিতির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুজ্জামান তরুন, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদ খান প্রমূখ।
যমুনা ইলেকট্রনিকস এর প্রতিটি পন্য কোয়ালিটিতে ওয়ান নম্বার এবং বিশ্ব মানের বলে দিন দিন মার্কেটে ভোক্তাদের কাছে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পন্য সামগ্রিই ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।

এছাড়াও দেশব্যাপি যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পার্টনারসবৃন্দ যমুনার পন্য বিক্রি করে অনেক বেশি মুনাফা হচ্ছে বলে তারা অনেক খুশি। শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ভাঙ্গুড়া বাজারের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শো-রুম এর অফিসে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন রকমের সাধারণ জনগণ,সাধারণ ব্যবসায়ী,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পাবনা জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হচ্ছে ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম ওয়েল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারীদের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল এবং মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

একই বৈঠকে জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে মসুর ডাল ক্রয়েরও প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ হাজার টন ডাল সংগ্রহ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২ হাজার টন ডাল কেনা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঢাকার গুলশানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড এই ডাল সরবরাহ করবে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ