মিমকে জড়িয়ে ধরে পরীমণি বললেন, ‘আমি সরি, ওসব কথা মনে রাইখো না’

বিনোদন ডেস্ক:

তারকা খবর:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপরের ছবিটি তাকিয়ে দেখুন, কী মনে হচ্ছে? বিদ্যা সিনহা মিম আর পরীমনির প্রাণখোলা হাসির মুহূর্তটি যেন বলে দিচ্ছে, তারা দু’জন বহুদিনের পুরোনো বান্ধবী, হরিহর আত্মা। মজার কোনো বিষয় নিয়ে তাদের একসঙ্গে এভাবে হাসিতে ফেটে পড়তে আগে কখনও দেখা যায়নি। এমন দৃশ্য অনেকে কল্পনাও করতে পারেনি।

কারণ, একটাই, স্বামী অভিনেতা শরিফুল রাজের প্রেম চলছে–এমন সন্দেহের বশে মিমের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন পরীমণি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একে পর এক পোস্টের মধ্য দিয়ে বাক্যবাণে জর্জরিত করেছিলেন। সে কারণেই রাজ-মিম জুটি ভেঙে গেছে সহজেই। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’ সিনেমার পর আর কখনোই তারা একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি। তাই আবার একমঞ্চে মিম, পরীকে একসঙ্গে দেখতে পাওয়া, কাঁধে হাত রেখে হাসিতে ফেটে পড়তে দেখা–যে কাউকে অবাক করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, পেশাদারিত্বের খাতিরে মিথ্যা অভিনয়?

নাকি এর পেছনে আছে অন্য গল্প? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মিম সোজাসাপ্টা স্বীকার করেছেন, পরীর সঙ্গে তাঁর যে মনোমালিন্য ছিল, তা সহজেই দূর হয়ে গেছে ‘ঢাকা ফ্যাশন ডে’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে। মিম বলেন, মিম বলেন, ‘দুই বছর আগে পরীমনি আমার জন্মদিনের রাতে ফেসবুকে একটি মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে আমাকে সবার সমানে অপমান করেছিল, হেয় করেছিল। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এর পর থেকে আমি এড়িয়ে চলি তাকে। এদিন স্টেজে ওঠার আগে মঞ্চের পেছনে সবার সঙ্গে আমিও দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ পরীমনি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে, “এই তুমি আমার ওপর রাগ করে আছো? আমি সরি, ওসব কথা আর মনে রেখো না। ওসব ভুলে যাও। এই তুমি আমার বাচ্চাকে ভালোবাসা না?” এ ধরনের নানা কথা বলতে থাকে। আমি তো অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম। হঠাৎ করেই এসে জড়িয়ে ধরার বিষয়টি আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ওই সময় সাবিলা নূর, তানজিন তিশাসহ অনেকেই বিষয়টি দেখেছেন।’

মিম জানালেন, মঞ্চে ওঠার আগে, এমনকি অনুষ্ঠান শেষে চলে আসার সময়ও আরও দুবার একইভাবে জড়িয়ে ধরে ওই সব কথাই বলতে থাকেন পরীমনি মিম আরও বলেন, ‘প্রতিবার ওই একই কথা। আমার বাচ্চাকে ভালোবাসা না? আমার ওপর রাগ রাইখো না। যা হওয়ার হয়েছে, ভুলে যাও। সবকিছুর জন্য আমি সরি।’

তখন পরীমণিকে আপনি কী বলেছিলেন, জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, অবশ্যই বাচ্চাকে ভালোবাসি। তার বাচ্চাকে দেখতে তার বাসায়ও গিয়েছিলাম একসময়, সেটাও বলেছি তাকে। তবে আমি যখন পরীকে উল্টো জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই বলে “পরী, আমার তো কোনো দোষ ছিল না, তাহলে তুমি কেন এ ধরনের মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে পুরো দেশবাসীর কাছে আমাকে ছোট করেছ। সে সময় আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম?” তখন পরী বলেছে, “আরে ওসব ভুলে যাও। আমি সরি ওসবের জন্য। আমাকে ক্ষমা করে দাও। ওসব কথা মনে রাইখো না, কষ্ট নিয়ো না প্লিজ।”’

তাহলে আপনি পরীমনিকে কি ক্ষমা করে দিয়েছেন, এ ব্যাপারে মিম বলেন, ‘যেভাবে আমাকে বারবার জড়িয়ে ধরে নিজের ভুল স্বীকার করল, অনুতপ্ত হলো, মানুষমাত্রই তো ভুল হয়, আমার আর কী করার আছে। ক্ষমা করে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি তাঁকে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়েনে আয়োজিত ‘ঢাকা ফ্যাশন ডে’-এর মঞ্চে মিম, পরীমনি ছাড়াও দেখা মিলেছে চলচ্চিত্র সুপারস্টার শাকিব খান, অভিনেত্রী পূজা চেরী, টিভি তারকা সাবিলা নূর প্রমুখ। তবে এদিন সবকিছু ছাপিয়ে গেছে মঞ্চে মিম-পরীর হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তটি। তাদের হৃদ্যতা সহজেই মন ছুঁয়ে গেছে উপস্থিত দর্শকদের। সেই মুহূর্তের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনার খোরাক জুগিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার : কণ্ঠশিল্পী জুলির বিবৃতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে বিতর্কিত ঈদ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাযুক্ত শিল্পীকে দিয়ে গান পরিবেশন করানোর অভিযোগ তুলে একটি কুচক্রী মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুলেখা আক্তার জুলি। এসব অপপ্রচার সর্বতোভাবে ‘মিথ্যা’ দাবি করে তিনি বিবৃতি দিয়েছেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেন এই শিল্পী।


বিবৃতিতে কণ্ঠশিল্পী জুলেখা আক্তার জুলি বলেন, একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করা তাঁর পেশাগত দায়িত্বের অংশ, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে তাঁর সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যম এবং সামাজিকমাধ্যমে আমার ব্যাপারে ছড়নো বিভ্রান্তমূলক ও মিথ্যা তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু ব্যক্তি আমার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মানহানীর সংবাদসহ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। আমি উক্ত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে শিল্পী জুলেখা আক্তার জুলি বলেন, সংবেদনশীল কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় পদ-পদবীতে ছিলাম না এবং এখনো নেই। ১৭ বছর ধরে পেশাদার শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন আয়োজনে গান গেয়ে আসছি। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের মানহানিকর মিথ্যাচার থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে এই শিল্পী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে মানহানি ও অপপ্রচারের ঘটনায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তায় প্রতিক্রিয়া জানান মডেল পিয়া

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।বিনোদন অঙ্গনে এনিয়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনা এবং নারী ও শিল্পীদের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল।

মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের উদ্বেগ ও হতাশার কথা জানান তিনি। সরাসরি বাঁধনের নাম উল্লেখ না করে পিয়া জান্নাতুল লেখেন, ‘মানুষ দিন দিন এতটা নিষ্ঠুর আর সংবেদনহীন হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে নারী আর শিল্পীদের প্রতি, যেটা সত্যিই ভাবায়।

তিনি আরো লেখেন, ‘দেশের বাইরে থাকলেই যে মানুষের চিন্তাভাবনা বদলে যায় বা মনটা আরও খোলামেলা হয়ে যায়, আসলে তা নয়। আমার কাছে আসল উন্নতি বোঝা যায় একজন মানুষ অন্যকে কতটা সম্মান করে, কতটা বুঝতে পারে আর কতটা মানবিক থাকতে পারে, সেখানেই। দুঃখের বিষয়, এই জায়গাগুলোতেই আমরা যেন ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছি।

গত সোমবার রাতে ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় আজমেরী হক বাঁধনকে‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে
হামলা করেন।এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই ও শিশু সন্তান। পরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দিয়ে অভিনেত্রীকে এরপর তাকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এসে বাঁধন জানান, পার্কের মধ্যে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তার গায়ে কোমল পানীয় ও পানি ছুড়ে মারা হয় এবং মারধরের সময় তার মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদ জানান অভিনেত্রী। পরে এ ঘটনায় স্থানীয় ভেনিস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন আজমেরী হক বাঁধন

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ