আজঃ শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬

ময়মনসিংহ:

মাদ্রাসার মোহতামিমের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

তৌহিদুল ইসলাম সরকার স্টাফ রিপোর্টার :

নান্দাইল:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ময়মনসিংহের নান্দাইলে মাদ্রাসারছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খলিলুল্লাহ্ (২৭) কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোর্পদ করেছে উত্তেজিত জনতা।

বৃহস্পতিবার (৪জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বেলালাবাদ দত্তপুর গ্রামে মাদরাসাতুল মাদীনা ক্যাডেট মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষক একই ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মো. লাল মিয়ার পুত্র। ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসার সাইটবোর্ডসহ কাঠের বেড়া ভেঙ্গে ফেলে। পরে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গত দুই বছর আগে কামালপুর গ্রামের লাল মিয়ার বড় ছেলে মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ্ ময়মনসিংহ -কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে বেলালাবাদ দত্তপুর গ্রামে মাদরাসাতুল মাদীনা ক্যাডেট মাদ্রাসা স্থাপন করেন। সেখানে তার ছোট ভাই মাওলানা খলিলুল্লাহ্ মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম হিসাবে দায়িত্ব পালন করে।

ঐ শিক্ষক মাদ্রাসার নূরানী শাখার এক ছাত্রকে কৌশলে তিনবার বলাৎকার করে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি ছাত্রের বাবা জানতে পেরে মাদ্রাসায় উপস্থিত ছাত্রদের কাছে জিজ্ঞেস করে সত্যতা পান। পরে মুহতামিম মাওলানা খলিলুল্লাহ্ কে জিজ্ঞেস করলে প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও তোপের মুখে স্বীকার করে।

এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাওলানা খলিলুল্লাহ্ কে গণপিটুনি দিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখেন।

নান্দাইল মডেল থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মাওলানা খলিলুল্লাহ্ কে থানা নিয়ে যায়। এর পর পরেই মাদ্রাসার ছাত্ররা মাদ্রাসা থেকে যার যার বাড়িতে চলে যায়।

নূরানী শাখার এক ছাত্রের অভিভাবক মো.আসাদুল্লাহ্ বলেন মাদ্রাসার হুজুরে এমন ঘটনা করবে তা কখনও চিন্তা করি নাই। খুবই নেক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছি এ ছাড়া তো কিছু করার নেই।

মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্রের বাবা বলেন ছেলেটিকে হাফেজ বানাবো বলে মাদ্রাসায় দিছি। ছেলে কান্নাকাটি করে বলছে হুজুর আমার সাথে তিনদিন খারাপ কাজ করছে। আমি মাদ্রাসায় গিয়ে ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলে সবাই বলছে হুজুর খারাপ কাজ করে। এর সঠিক বিচার চাই।

মাদরাসাতুল মাদীনা ক্যাডেট মাদ্রাসা পরিচালক মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ্ মুঠোফোনে বলেন-আমি তো মাদ্রাসায় থাকি না। আজকে মাদ্রাসায় আসলে ছাত্রের বাবা এসে ঘটনা বলতেছে। উত্তেজিত লোকজন ভাইকে মারধর করছে। এখন তো ঘটনা সত্য না হলেও তো সত্য।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ বলেন, মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও অভিযোগ পাইনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবৈধভাবে মজুদ করা ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গার কমিশনার ঘাট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সব্রত হালদারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩০টি ড্রামে সংরক্ষিত আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।

অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার বলেন, অভিযানে আনুমানিক ৬ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় পতেঙ্গা মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। উদ্ধার করা জ্বালানি তেল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় একটি চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সরিয়ে তা স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রি করে আসছিল। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্পসহ সংশ্লিষ্ট খাতকে নজরদারির আওতায় এনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় জেলা প্রশাসন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণীহাটি ইউনিয়নের কুথালিপাড়া গ্রামে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বসতবাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক চলাকালে রানিহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সমর্থক ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার চান্দুর লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে অর্ধশতাধিক ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোজাফফর নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ