আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম পুলিশের সাবেক এএসপি’র চারতলা বাড়ি, স্ত্রীকে সাজিয়েছেন বুটিক্স ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিল্প পুলিশের (চট্টগ্রাম) সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবুল হাশেম (৬১) ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত-১ কার্যালয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছেন চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত-২ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ। এরমধ্যে একটি মামলায় সাবেক এএসপি মো. আবুল হাশেমকে এবং আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে তার স্ত্রীকেও।
১৯৮৮ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরিতে যোগ দেয়া মো. আবুল হাশেম প্রায় ৩৪ বছরের কর্মজীবনে অনেক অবৈধ অর্থ বানিযেছেন। এই সময়ের মধ্যে চাকরির প্রভাব খাটিয়ে নিজের ‘আখের ঘুছিয়েছেন’ তিনি। অবৈধ উপায়ে আয়ের টাকা দিয়ে নগরের পাঁচলাইশে গড়েছেন চারতলা বাড়ি। ‘গোপন আয়’ ঢাকতে স্ত্রীকে সাজিয়েছেন বুটিক্স ব্যবসায়ী। তবুও শেষমেষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে ফাঁসতেই হলো এই দম্পতিকে।
মো. আবুল হাশেমের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান থানার গশ্চি গ্রামের গুরা মিয়া সেক্রেটারি বাড়ি। তিনি এবং তার স্ত্রী তাহেরিনা বেগম (৫১) বর্তমানে খুলশী থানার পলিটেকনিক্যাল কলেজ রোডের রূপসী হাউজিংয়ে বসবাস করেন।
দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর দুদকের উপ-পরিচালক আতিকুল আলম বলেন, মামলায় শিল্প পুলিশের (চট্টগ্রাম) সাবেক (এএসপি) আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬২ টাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৯৪ টাকা সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া অন্য মামলায় তাহেরিনা বেগম দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ লাখ ৮৪ হাজকর ৩৬৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন রেখে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪৩ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৬ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় এবং তার স্বামী আসামি মো. আবুল হাশেম পুলিশে চাকুরিরত অবস্থায় অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ দ্বারা পারস্পরিক যোগসাজশে স্ত্রী তাহেরিনা বেগমের নামে সম্পদ অর্জন ও সম্পদ স্ত্রী কর্তৃক ভোগ দখলে রাখতে সহযোগিতা করার দায়ে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্প পুলিশের (চট্টগ্রাম) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর এই দম্পতিকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়। পরে এই দম্পতি ২৭ নভেম্বর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সম্পদ বিবরণীতে সাবেক ওই পুলিশ কর্মকর্তা মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৮ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। কিন্তু দুদক যাচাইকালে তার নামে ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার ৮৩০ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায়। অর্থাৎ তিনি মোট ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬২ টাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন।
আবুল হাশেমের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫০ টাকা। কিন্তু এই সম্পদ অর্জনের বিপরীতে দুদক গ্রহণযোগ্য আয় পেয়েছে ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩৫৬ টাকা। অর্থাৎ তিনি তার আয়ের ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৯৪ টাকা গোপন করেছিলেন।
একই সময়ের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে আবুল হাশেমের স্ত্রী তাহেরিনা বেগম স্থাবর-অস্থাবরসহ মোট ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪৬ টাকা সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। কিন্তু দুদক যাচাই করে তার স্থাবর-অস্থাবর মোট সম্পত্তি পেয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ২১২ টাকার। অর্থাৎ তাহেরিনা বেগম তার সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর-অস্থাবর মোট ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৬ টাকা গোপন করেছেন।
তাহেরিনা বেগম ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নগরের সান মেরন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। এছাড়া বুটিক্স ব্যবসায় তিনি আয় দেখিয়েছেন ২২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অথচ এই ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো লাইসেন্সও তিনি দেখাতে পারেননি। আবার, ব্যবসা শুরুর সময় মূলধন ৯ লাখ টাকা উল্লেখ করলেও সেই টাকার উৎসেরও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৯-২০ করবর্ষে ব্যবসার সাথে টিউশান বাবদ ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫শ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার মোট গ্রহণযোগ্য দেনা ৩৭ লাখ ৫ হাজার ২২৮ টাকা।
দেনা বাদ দিলে সাবকে এই পুলিশ কর্তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৯ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮৪ টাকা। এরসাথে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় যোগে মোট অর্জিত সম্পদ দাঁড়ায় ১ কোটি ৩ লাখ ৯১ হাজার ১২৪ টাকায়। অথচ এই সম্পদের বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৮ টাকা। অর্থাৎ ৪৩ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পদ তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জন করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের রুপসী হাউজিং পলিটেকনিক্যাল কলেজ রোডে ২০১৩-১৪ সালে যে চারতলা বাড়ি তার ও তার স্বামী আবুল হাশেমের যৌথ নামে নির্মাণ করা হয়েছে তখন সেই ভবন তৈরিতে বিনিয়োগে তাহেরিনা বেগমের বৈধ আয়ের উৎস ছিলো না। স্বামী আবুল হাশেমের চাকরিরত অবস্থায় অবৈধ উপায়ে যে টাকা আয় করেছেন সেই টাকাতেই ওই চারতলা ভবন যৌথ নামে নির্মাণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সন্ত্রাসী হামলার মামলাশ ৭ জন গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে মোঃ হাসেম আলীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, মারধর ও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চালিতাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাসেম আলীর ওপর পূর্ব বিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ শিবালয় থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—১. মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫), পিতা: আফছার উদ্দিন
২. পাবেল বেপারী (৩০), পিতা: বরকত আলী
৩. আকিব বেপারী (২৪), পিতা: মজিবর বেপারী
৪. নাইম শেখ (২৮), পিতা: আলেম শেখ
৫. মিন্টু বেপারী (৪০), পিতা: মৃত তমেজ বেপারী
৬. বাসসা বেপারী (৫৫), পিতা: মৃত অছিমদ্দি বেপারী
৭. রওনক মোল্লা (১৯), পিতা: তাইজুল ইসলাম মোল্লা
পুলিশ জানায়, মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিবালয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ