আজঃ বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভায় মাহবুবের রহমান শামীম

প্রেস রিলিজ

জনগণের শক্তির কাছে কোনো স্বৈরশাসকই টিকতে পারে না

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, বাংলাদেশের আপামর ছাত্র জনতা অসাধ্য সাধন করেছেন। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। অভূতপূর্ব এক জনবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। গত ১৬ বছরের প্রচন্ড বাড়াবাড়ির কারণে দেশের ছাত্র জনতার মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এ জনবিস্ফোরণ তারই বহিঃপ্রকাশ। এ গণঅভূত্থান আবারও প্রমাণ করল যে, জনগণের শক্তির কাছে কোনো স্বৈরশাসকই টিকে থাকতে পারে না। দেশ আজ রাহুমুক্ত হয়েছে। শত শত ছাত্র জনতার প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ আবার নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। আমি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্বার মাগফেরাত কামনা করছি। আমাদের ছাত্র জনতাসহ চট্টগ্রামবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানাচ্ছি।

তিনি মঙ্গলবার (৬ আগষ্ট) বিকালে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

এসময় মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, এ দেশ আমাদের সবার। ইতোমধ্যেই অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ খুবই প্রয়োজন। এখন সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এমন কোনো কাজ কাউকে করতে দেয়া যাবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আজ ছাত্র জনতার গণবিস্ফোরণের কারণে আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে। সেই বিজয়কে দীর্ঘায়িত করার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে হবে। আমাদের পাশে যারা সংখ্যালঘু রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশটা আমাদের সবার। এ দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। কেউ যেন কোনো নির্যাতন নিপীড়নের শিকার না হন। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ গণমাধ্যমকর্মীর ওপর যে কোনো ধরনের আঘাত প্রতিরোধ করতে হবে। যে কোনো অপপ্রচার ও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামবাসীকে সচেতন থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, পরাজিত শত্রুরা এক দিনে নিমেষেই শেষ হয়ে যায় না। তারা যখন দেখেছে, তাদের প্রাথমিক পরাজয় হয়েছে, তখন তারা বিষদাঁত বসিয়ে দিতে চাইবে। আমাদের আশপাশে যে সংখ্যালঘু ভাইবোনেরা রয়েছে, তাদের আঘাত করার মাধ্যমে ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে। আমাদের গণমাধ্যমকর্মী, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে আঘাত করতে চাইবে, আগুন দিতে চাইবে। আমাদের সবার নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নতুন অন্তবর্তীকালীন সরকার সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের সব নেতা কর্মীর মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

নাজিমুর রহমান বলেন, আমরা যে বিশাল অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি, সেই অর্জন যেন প্রোপাগান্ডা দিয়ে, উদ্দেশ্যমূলক কিছু ঘটনা দিয়ে যেন ভূলুণ্ঠিত করতে না পারে। ছাত্র জনতা রাজপথে থেকে যেভাবে সবকিছু প্রতিরোধ করেছে, তেমনি এ অপচেষ্টাগুলোও প্রতিরোধ করতে হবে। তাহলে আমরা আসল উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। কাউকে কোনো ধরনের হঠকারী কাজ করতে দেয়া যাবে না। এ সময় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও চট্টগ্রামবাসীকে শান্ত থাকতে হবে।

এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপি নেতা আলহাজ্ব এম এ আজিজ, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস কে খোদা তোতন, হারুন জামান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ, কাজী বেলাল উদ্দিন, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আবুল হাশেম, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক নুরুল হক, সদস্য সচিব এড. আবদুল আজিজ সহ মহানগর বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ) উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মসূচির প্রথম দিন ২৫ মার্চ বিকাল ৩টায় রয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর, জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখবেন।

২৬ মার্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সংগঠনের সর্বস্তরের জন্য আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।এর আগে, ২৬ মার্চ সকালে জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন।

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ