আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

গণহত্যাকারী হাসিনার বিচার নিশ্চিত করেই ছাত্রজনতা ঘরে ফিরবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

হাসিনা

চট্টগ্রামে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে মাহবুবের রহমান শামীম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। তারা পরিকল্পিতভাবে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা করছে। দেশ নিয়ে চলছে এক গভীর ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সকল সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষায় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের শক্তভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি যেন না হয় যাতে অর্জিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে না যায় কেউ। তাই বিএনপি নেতাকর্মীসহ ছাত্র জনতাকে সতর্ক থাকতে হবে। গণহত্যাকারী হাসিনার বিচার নিশ্চিত করেই ছাত্রজনতা ঘরে ফিরবে।
তিনি বুধবার (১৪ আগষ্ট) দুপুরে নগরীর কদমতলী শুভপুর বাস স্টেশন চত্বরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালিয়ে গণহত্যা এবং খুনি হাসিনাসহ তার খুনি দোসরদের বিচারের দাবিতে পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ড বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর ও যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, শেখ হাসিনা গত ১৫ বছর জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চাপিয়ে দিয়েছিলেন। সাড়ে ১২ কোটি ভোটারের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। সাহসী ছাত্রজনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। হাজারো শহীদের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ আরেকটি বিজয় দেখেছে। কিন্তু আওয়ামীলীগ এই বিজয়কে কালিমাযুক্ত করার জন্য আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গণতন্ত্রে উত্তরণের চলমান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ছাত্র জনতার বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আওয়ামীলীগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় গুলোতে হামলার গুজব ছড়াচ্ছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার লক্ষ্যে সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। তারা উপাসনালয় গুলোতে নাশকতা সৃষ্টি করে বিএনপিকে দায়ী করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তাই সকল সম্প্রদায়ের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সদরঘাট থানা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. সালাহ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন জিয়া, মো, আলী, সাইফুর রহমান শপথ, থানা বিএনপির সহ সভাপতি ওমর ফারুক রুবেল, মো. ইলিয়াস, ইব্রাহিম মান্নান মিনু, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিম, লোকমান হোসেন বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াছ রাশেদ, মাহবুব আলম, মো. শাহাজাহান, সাংগঠনিক আব্দুল আজিজ, থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল, সি. যুগ্ম আহ্বায়ক নুর খান, সদস্য সচিব মো. রাশেদ, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সেলিম সম্রাট, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়াসির আরাফাত, সদস্য সচিব আনোয়ারুল আবেদীন মুন্না, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইউনুস মিয়া জুয়েল, সি. যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদ আলী, কৃষকদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার মিছিলের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-তানভীর হাসান (২৭), মোসলেম উদ্দিন (৪০), বিপু ঘোষ বিলু (৫৫), মোঃ নাহিদ হোসেন (১৯), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২০), মোঃ নওশের উদ্দিন চৌধুরী (২১), মোঃ জুয়েল (২৪), মোঃ আলাল (২১), মোঃ আসিফ (২২), মোঃ শুভ রহমান (২২), সৌরভ দেওয়ানজী (২৯), ইমাম হোসেন সাদমান (২২)৷

পুলিশ জানায়, শুক্রবার কোতোয়ালী থানাধীন রেলওয়ে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝটিকা মিছিলে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আ. লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।

জানা গেছে, বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া সবাই ওমর গণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অগ্রগতি হলে আপনাদেরকে (সাংবাদিক) জানানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, সকাল সাতটার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি নগরীর মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে। এতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদ জানায়। এই মিছিলে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর ছবিযুক্ত ব্যানার দেখা যায়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ