আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরে ২১ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছাত্র আন্দোলন থেকে গ্রেফতার করে নির্যাতনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ২১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন জমা পড়েছে আদালতে। বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাকিম মো. জাকির হোসেনের আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন নাজমুল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীর বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম। নাজমুল হোসেন সরকারি সিটি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার চরবংশী এলাকার মোস্তফা বেপারীর ছেলে। আদালত আবেদনটি আদেশের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন। ২১ কর্মকর্তার মধ্যে সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার, কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার, কোতোয়ালী-বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালী ট্রাফিক পরিদর্শক ও দুই থানার কয়েকজন উপ-পরিদর্শক ও কনস্টেবল।
অভিযুক্তরা হলেন, নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-উপ-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার অতনু চক্রবর্তী, কোতোয়ালী থানার সাবেক ওসি এস.এম ওবায়েদুল হক, বাকলিয়া থানার সাবেক ওসি আফতাব উদ্দিন, কোতোয়ালী থানার পেট্রোল ইন্সপেক্টর (ট্রাফিক) মো. মিজানুর রহমান, তার মুন্সি কনস্টেবল শাহজাহান, এসআই মো. মেহেদী হাসান, রুবেল মজুমদার, রণেশ বড়ুয়া, গৌতম, কনস্টেবল কামাল, বাকলিয়া থানার এসআই আবদুস সালাম, মো. মিজান এবং ওসির দেহরক্ষী কনস্টেবল মো. ইলিয়াছসহ অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জন পুলিশ সদস্য।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর আইনজীবী স্বরুপ কান্তি নাথ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গ্রেফতার করে কলেজছাত্র নাজমুল হোসেনকে থানায় নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নির্যাতন করা হয়। এছাড়া তাকে শিবির ট্যাগ দিয়ে মামলার আসামিও করা হয়। এসব অভিযোগে নগর পুলিশের এক ডিসি, এসি ও দুই ওসিসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতনের আইনে মামলার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই। আদালত আবেদনটি আদেশের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধুদের সাথে নাজমুল হোসেন বাকলিয়া থানার নতুন ব্রিজ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়। পরে পুলিশ ছাত্রদের ওপর অতর্কিতভাবে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং রাবার রবুলেট ছোঁড়ে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে সুস্থ অবস্থায় নাজমুলকে আটক করে শারিরীক আঘাত করতে করতে পুলিশ বক্সে নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা লোহার স্টিক, বক্সে থাকা স্ট্যাম্প দিয়ে ভিকটিমকে বেধড়কভাবে সারা শরীরে শিবির বলে পেটাতে থাকে। পরে নাজমুলকে পুলিশের একটি গাড়িতে করে প্রথমে চান্দগাঁও এবং আধঘণ্টা পর কোতোয়ালী থানায় নেওয়া হয়। গাড়ি থেকে নামানোর সাথে সাথে তিনজন এসআই ও একজন কনস্টেবল ‘শিবির আনা হয়েছে’ এবং ‘আন্দোলন করো মজা বুঝবে’ বলে উল্লাস করে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
পরে থানার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে ‘মজা কি এখনই বুঝবে’ বলে উল্লাস করে নাজমুলের দুই হাত উপরে তুলে দেওয়ালমুখী করে দাঁড় করিয়ে কাঠের স্ট্যাম্প এবং পুলিশের ব্যবহৃত লোহার লাঠি দিয়ে পিঠ, কোমর ও দুই পায়ের উরুতে বেদম মারধর করে। ওইসময় কোতোয়ালী জোনের এসি অতনু চক্রবর্তী এবং থানার সাবেক ওসি ওবায়েদুল হক ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে চেক করতে থাকে। ওসি মোবাইল ফোনে কিছু না পেয়ে নাজমুলকে শিবির করে কিনা জিজ্ঞাসা করে।
তিনি না সূচক জবাব দিলে বুকে লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে দুটি কাঠের স্ট্যাম্প দিয়ে নাজমুলের দুই হাতের দুই বাহুর উপর রেখে ওই স্ট্যাম্পের উপর দুই জন করে দুই পাশে দাঁড়ায়। এসময় এসি ও ওসি তাকে শিবিরকর্মী বলে স্বীকার করে নিতে জোর করে। একপর্যায়ে ওই কলেজছাত্র জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু মেডিকেলে না নিয়ে তাকে আবারও কোতোয়ালী থানায় নেওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে বাকলিয়া থানার টহল পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, নাজমুলের বড় ভাই নজরুল খবর পেয়ে বাকলিয়া থানায় যায়। এসমিয় ওসির বডিগার্ড কনস্টেবল মো. ইলিয়াছ তাকে বাকলিয়া থানার দ্বিতীয় তলায় দেখে থানায় কেন ঘুরাঘুরি করতেছে জানতে চায়। তখন সে ছোট ভাইয়ের খোঁজে এসেছে বলায় ওই কনস্টেবল উত্তেজিত হয়ে চিৎকার ও চেঁচামেচি করতে থাকে এবং বলে, ‘এই শালা (ভিকটিম) একটা শিবির, শালা আন্দোলনে যোগ দিছে। ওকে মেডিকেলে নেওয়ার আগে এইখানেই গুলি করে মেরে ফেলব।’ সাথে সাথেই সে দৌড়ে থানার হাজত খানায় গিয়ে শটগান ভিকটিমের দিকে তাক করে গুলি করে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। রাত ১১টার দিকে কলেজছাত্র নাজমুলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা করানো হয়। পরে ১৯ জুলাই চিকিৎসাধীন নাজমুলকে ৮ নম্বর আসামি করে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যে মামলায় ১৪ দিন কারাগারে থাকার পর আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেয় বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুবাই এয়ারপোর্টের কাছে ড্রোন পড়ে বাংলাদেশি-সহ চারজন আহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুবাই কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে বুধবার সকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (DXB) আশেপাশে দুটি ড্রোন পড়ে, যার ফলে দুই ঘানার নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশী নাগরিক সামান্য আহত হন এবং একজন ভারতীয় নাগরিক মাঝারি আহত হন। বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।City & Local Guides

DXB এবং DWC পরিচালনাকারী দুবাই বিমানবন্দর, সংক্ষিপ্ত বিঘ্নের পর ৭ মার্চ থেকে আংশিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।সময়সূচী পরিবর্তন অব্যাহত থাকায়, যাত্রীদের তাদের বিমান সংস্থা কর্তৃক তাদের বিমান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে ভ্রমণ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

DXB-তে একটি কনকোর্সে একটি ঘটনায় সামান্য ক্ষতি হয়, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জরুরি প্রতিক্রিয়া দলগুলিকে তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পরিচালনা করা হয়।

চারজন কর্মী আহত হন এবং তাদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই জরুরি পরিকল্পনার কারণে, বেশিরভাগ টার্মিনাল আগেই যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল,বিমানবন্দরটি পূর্বের এক বিবৃতিতে বলেছে।

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের লাশ মিলল ডোবায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের
লাশ মিলল ডোবায়
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানা এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম (৪৬) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মঞ্জুর আলম ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলসিদিঘির পাড় আলী মিয়া চেরাগের বাড়ির বাদশা মিয়ার ছেলে। তিন গাড়িচালক ছিলেন। বুধবার সকাল ১১টায় কলসিদিঘির পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতের শ্যালক মো. হাসান বলেন, গত ৬ মার্চ থেকে আমার দুলাভাই নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় আমরা থানায় জিডিও করেছিলাম। আমার দুলাভাইকে কেউ পরিকল্পিতভাবে কেউ মেরে ফেলে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসাইন বলেন, কলসিদিঘির পাড় এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবারে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ