আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

ফাঁসি চেয়ে আদালত চত্বরে স্লোগান সাবেক সংসদ ফজলে করিম দুই দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। চট্টগ্রামের রাউজানে মুনিরিয়া যুব তাবলীগ কমিটির কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগের মামলায় মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চট্টগ্রাম জেলার কোর্ট পরিদর্শক জাকির হোসাইন মাহমুদ জানান, রাউজানে মুনিরীয়া যুব তাবলীগ কমিটির দলইনগর-নোয়াজিষপুর শাখা (এবাদত খানা) ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় এ বি এম ফজলে করিমের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন মুনিরিয়া যুব তাবলীগ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলাউদ্দিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আদালত ভবনের চারদিকেই কড়া নিরাপত্তা, ছিল পুলিশি পাহারাও। কারণ রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হবে এমন খবর। কিন্তু বাধা অতিক্রম করেই আদালত ভবনে ঢুকে পড়েন ১০ থেকে ১২ জন যুবক। এ সময় তারা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তারা মারতে তেড়ে যান সাবেক এই সংসদ সদস্যকে। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিও হয় তাদের। এর আগে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলিয়ে মোট পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
ফজলে করিমকে হাজির করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে আদালত চত্বরের আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়। মোতায়ন করা হয় বিপুল পুলিশ। সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট ভবনে আনা হয় ফজলে করিমকে। ভবনের নিচ থেকে সরাসরি আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সেখানে হট্টগোল শুরু করেন কয়েকজন যুবক। তাদের কারো কারো হাতে ছিল ‘ফজলে করিমের ফাঁসি চাই’ লেখা ব্যানার-পোস্টারও।এ সময় কয়েকজন যুবক পুলিশকে ধাক্কা মেরে ফজলে করিম চৌধুরীর ওপর হামলা করতে দৌঁড়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু পরে আবার পুলিশের বাধায় তারা পিছু হটে। এ নিয়ে আদালত চত্ত্বরে হট্টগোল লেগে যায়।
মারতে উদ্যত হওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ফজলে করিম সন্ত্রাসীদের গডফাদার। সে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে গুম করে হত্যা করে। প্রবাসী মুসা থেকে শুরু করে কম হলেও একডজন গুম ও খুনের সাথে সে জড়িত। ব্যক্তিগতভাবে সে একটি বাহিনী গঠন করে ভিন্নমত পোষণকারীদের জোর করে তুলে নিয়ে যেত। শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়েছে। আমরা ফজলে করিম জুইন্নার ফাঁসি চাই।
নিজেকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক দাবি করে এক যুবক বলেন, আমার একটাই দাবি এই জুইন্না রাজাকারের ফাঁসি। যেভাবে তারে প্রশাসন প্রটোকল দিচ্ছে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জননেতা নুরুল আলম নুরু হত্যার এক নম্বর আসামি এই জুইন্না রাজাকার।
গত ১২ সেপ্টেম্বর অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গাজীরবাজার থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
*

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সন্ত্রাসী হামলার মামলাশ ৭ জন গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে মোঃ হাসেম আলীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, মারধর ও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চালিতাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাসেম আলীর ওপর পূর্ব বিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ শিবালয় থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—১. মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫), পিতা: আফছার উদ্দিন
২. পাবেল বেপারী (৩০), পিতা: বরকত আলী
৩. আকিব বেপারী (২৪), পিতা: মজিবর বেপারী
৪. নাইম শেখ (২৮), পিতা: আলেম শেখ
৫. মিন্টু বেপারী (৪০), পিতা: মৃত তমেজ বেপারী
৬. বাসসা বেপারী (৫৫), পিতা: মৃত অছিমদ্দি বেপারী
৭. রওনক মোল্লা (১৯), পিতা: তাইজুল ইসলাম মোল্লা
পুলিশ জানায়, মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিবালয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ