আজঃ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

লামায় সাবেক মন্ত্রী তাজুলের বাগানে এলজিইডি’র দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ ও রাস্তা

বিপ্লব দাশ,বান্দরবান প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বান্দরবানের লামায় সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের ব্যাক্তিগত বাগানে যাতায়াতের সুবিধার্থে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে স্থানীয় এলজিইডি অফিসের কর্মকতা, কর্মচারী বিশেষ করে কুমিল্লা সিন্ডিকেটের যোগসাজসে নির্মাণ করা হয়েছে ২কোটি ৩১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যায়ে দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ।

অনুসন্ধানে জানা যায়,বান্দরবান জেলা এলজিইডি অফিস কর্তৃক উপজেলার সরই ইউনিয়নের জনশূন্য এলাকায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাক্তিগত বাগানে যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০২২-২৩ অর্থবছরে একটি ব্রীজের দরপত্র আহবান করা হয়। সে সময় ২কোটি ৩১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যায়ে কাজটি বাস্তবায়নের অফিস কার্যাদেশ পেয়েছিলেন ইনু কনস্ট্রাকশন। আরো জানা যায়,ব্রীজের দুপাশে নির্মাণ করা হয়েছে সরকারি টাকায় রাস্তা। এছাড়া ও বিশাল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। স্ত্রী ফৌজিয়া ইসলামের নামে সরই ইউনিয়নে ১০০ একরের বেশি জায়গা কিনেছেন তিনি। মন্ত্রীত্বের প্রভাব খাটিয়ে আরও ৫শ একরের বেশি অসহায় মানুষের জায়গা জবর দখল করে নিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল এক ব্যাক্তি জানান, সাবেক মন্ত্রীর এ সকল অপকর্মের অন্যতম সহযোগি লামার এলজিইডি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা ও সাবেক মন্ত্রী একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে ছিল খুব সখ্যতা। প্রায় ১যুগের ও বেশি সময় ধরে বহাল তবিয়তে একই কর্মস্থলে। তার আধিপত্যের কাছে অসহায় ছিল স্থানীয় বাসিন্দা ও তার অফিসের অন্যান্য কর্মকতা,কর্মচারীরা। এর মধ্যে বিগত ২৮-১২-২০২২ সালে বিভিন্ন অভিযোগের কারনে তাকে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর এলাকায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও সাবেক মন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ায় এখনো তিনি লামা এলজিইডি অফিসে কর্মরত রয়েছে।

জানা যায়,নামমাত্র মূল্য দিয়ে ফৌজিয়া ইসলামের নামে ১শ একরের বেশি জায়গা কেনা হয়েছে। জমি কেনায় সরই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো.ইদ্রিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির অভিযোগও আছে। জমিতে যাতায়াতের রাস্তা,বৈদ্যুতিক সংযোগ, সীমানা পিলার মাছের প্রজেক্ট,গবাদিপশুর খামারসহ তৈরি করা হয়েছে থাকার জন্য বিলাস বহুল বাড়ি।

ভূমি অফিসের রেকর্ডরুমে ফৌজিয়া ইসলামের নামে অসংখ্য জায়গার জমানবন্দি রয়েছে। সম্প্রতি এসব জায়গার কাগজ দিয়ে নিজ নামে নিয়েছেন রাজার সনদও। এতে থেমে যায়নি সাবেক মন্ত্রী এই তাজুল ইসলামের দাপট। শতাধিক একর জায়গা ক্রয় করলেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় আশপাশের অসংখ্য গরিব ও অসহায় মানুষের জায়গা।

সরই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ছবুর বলেন,আমাদের তাজুল ইসলামের লোকজন বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে। জায়গাজমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। মামলা দিয়ে এলাকায় থাকতে দেয়নি। দীর্ঘদিন অন্যত্র পালিয়ে ছিলাম। সরকার পতন হওয়ার পর আমরা নিজ বাড়িতে এসেছি। আমাদের জবর দখল করা জায়গা ফেরত চাই।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা হালিমা খাতুন বলেন, বাইরের লোক বান্দরবানে এসে জায়গা কিনতে না পারলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান,মেম্বারদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে জায়গা ক্রয় ও আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করেছে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। আমরা দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি চাই,আমাদের জায়গা ফেরত চাই।

এলজিইডি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা বলেন,আমার বাড়ি কুমিল্লা এটি ঠিক আছে কিন্তু সাবেক মন্ত্রীর সাথে আমার মত এত ছোট কর্মচারীর ব্যাক্তিগত সখ্যাত থাকার প্রশ্নই উঠে না। আমি ২০১১ সালের মে মাসে লামায় এলজিইডি অফিসে যোগদান করেছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সত্য নয়।

লামা উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন,প্রত্যেক ইউনিয়নে জায়গার একটা হোল্ডিং নাম্বার থাকে। আমরা হোল্ডিং নাম্বার দেখে সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের স্ত্রীর নামে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। তবে আইনগত জায়গা কেনার বিধান না থাকলেও ক্ষমতার প্রভাবে চাপে পড়ে সনদ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

লামা উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন,সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের বাগানে নির্মাণ করা ব্রীজটি বান্দরবান জেলা এলজিইডি অফিসের নির্দেশে তত্বাবধান করেছি।এর বাহিরে কিছু আপাতত বলার সুযোগ নাই।

বান্দরবান জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার বলেন,স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের ব্যাক্তিগত বাগানে যাতায়াতের রাস্তাটি সরকারি গেজেট ভুক্ত রাস্তা। এখানে নির্মিত ব্রীজটিতে কোন মন্ত্রী বা ব্যাক্তি বিশেষ উপকৃত হল কি হলনা সেটি এলজিইডির দেখার বিষয় নয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে এক আনন্দঘন বিভাগীয় পিকনিক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে এক আনন্দঘন বিভাগীয় পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে নগরীর জয়নাল আবেদীন পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে দিনব্যাপী এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

পিকনিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের কার্যক্রম ও সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে বক্তব্য প্রদান করা হয়, যেখানে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এছাড়াও উপস্থিত সদস্যদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় রেফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়, যা অনুষ্ঠানের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।


সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ বিভাগীয় পিকনিকটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি’র ‘নির্বাচনী উঠান বৈঠক’।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ‘নির্বাচনী উঠান বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির আয়োজনে পৌরশহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পানিউন্নয়ন বোর্ড কোলনী এলাকায় উঠান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

উঠান বৈঠকের মধ্যভাগে ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ১৫জন নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেন। এসময় তাদেরকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেন নেন ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ।

ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে ‘নির্বাচনি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ।

বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডেরই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সম্পর্কে আপনাদেরকে নতুন করে কোনকিছু বলার নেই। তিনি আপনাদেরই মানুষ।

বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, আপনাদের কাছে একটাই চাওয়া- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা সকলেই মিলে মির্জা ফখরুলের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে উনাকে বিজয়ী করবেন। আপনাদের ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁও সদর আসনকে একটি মডেল আসন হিসেবে রূপান্তর করা হবে। আসুন উন্নয়নের স্বার্থে সবাই মিলে মির্জা ফখরুলের বিজয় নিশ্চিত করি।

এছাড়াও নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাবেক দলের সভাপতি মাসুদুল ইসলাম মুন্না, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস, জেলা বিএনপি নেতা মমিনুল হক বাবু, ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ মোবারক আলী প্রমুখ।

এসময় বক্তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ