আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

কর্মবিরতি চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ছয় বিচারকের

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ছয় বিচারক কর্মবিরতি পালন করেছেন।বিচারক ও আইনজীবীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে এই কর্মবিরতিতে সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরা বিপাকে পড়েন।মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনার পর দিনভর আর বিচারকরা এজলাসে বসেননি বলে জানা গেছে।
আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও হত্যার ঘটনায় শোয়াইবুল হক চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের দ্বিতীয় মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অলি উল্লাহর আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। মামলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস ছালামসহ ১২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
আবেদনের ওপর শুনানির সময় বিচারক তাকে আসামিদের নাম বলার জন্য বলেন। আবেদনকারী শোয়াইবের পক্ষে থাকা চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নবনিযুক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বিচারককে মামলা থানায় রেকর্ডের নির্দেশ দিতে বলেন। এ নিয়ে বিচারক ও আইনজীবীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিচারক অলি উল্লাহ এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান।
এ ঘটনা জানার পর মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অন্য পাঁচ বিচারকও কার্যক্রম বন্ধ করে এজলাস ছেড়ে যান।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৭ জুলাই সারা বাংলাদেশেই গণহত্যা চালানো হয়েছে। চট্টগ্রামেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ওইদিনের ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থী আদালতে ১২৬ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলার আবেদন করেছিলেন অলি উল্লাহ মহোদয়ের আদালতে। বিচারক মহোদয়কে আমরা মামলাটি গ্রহণ করে থানায় ফাইল করতে দেওয়ার জন্য আবেদন করি।
আদালতের বিচারক তাকে সব আসামির নামসহ তাদের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ সব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলতে বলেন। পরে সে ১৮ থেকে ২০ জনের নাম বলেন। তখন আমি আদালতকে বলি, আমরা ভিডিও ফুটেজ এবং শোয়াইব যে আহত হয়েছে সেটার চিকিৎসা সনদ জমা দিয়েছি। এরপর তিনি পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সেটাকে সম্মান জানিয়ে চলে এসেছি। তার আগে তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তার আদালতে যাতে কোনোরকম জোর চালানো না হয়। এ ধরণের মামলা নিয়ে তার কোর্টে যেতেও নিষেধ করেন। এরপরই তিনি চেয়ার থেকে উঠে চলে যান। এরপরই আমি আমাদের সমিতির সভাপতি ও সাধারণ আইনজীবীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। এর আগে অলি উল্লাহ সাহেব অনেক সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে মিছিল করে তাকে প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
আমরা এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। বিচারবিভাগের প্রতি সম্মান রেখে বলছি উনাকে চট্টগ্রামের আদালতে আমরা সাড়ে আট হাজার আইনজীবী চাই না। আমরা তার কাছ থেকে মুক্তি চাই। যারা ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে মেনে নিতে চায় না, রক্তকে সম্মান করে না এরকম বিচারক আমরা চাই না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ