আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

চাকরি ও জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে ২৩ প্রকৌশলী ও ৯ কর্মচারী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ এর অধীনে আলোচিত ২৩ প্রকৌশলী ও ৯ কর্মচারীকে চাকরি দেওয়া হয়। দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার উৎপাদন ক্ষমতার প্রকল্পটি রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় স্থাপন করা হয়। ওখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা।
প্রকল্পের মাধ্যমে পানি শোধনাগার, ট্রান্সমিশন পাইপলাইন, শহরজুড়ে ৭০০ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন লাইনসহ অত্যাধুনিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এসব স্থাপনা নির্মাণকালীন সময়ে প্রকল্পের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিলেন এবং বর্তমানে পানি শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও পানি শোধনাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রকল্পের জনবলের সঙ্গে আউটসোর্সিং ও দৈনিক ভিত্তিতে কর্মচারীরাও নিয়োজিত আছেন। ২০২৩ সালের জুন মাসে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ এর কাজ শেষ হয়। ওয়াসার বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, যতদিন পর্যন্ত তাদের নিয়মিতকরণের বিলম্ব হবে ততদিন পর্যন্ত রাজস্বখাত থেকে বেতন চালিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এখন তারা রাজস্বখাত থেকে বেতন পেলেও তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে উক্ত প্রকল্পের আওতায় কাজ করে আসা কর্মকর্তারা বেতন নিয়েছেন প্রকল্প থেকেই। এরপর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ২০২৩ সাল থেকে বেতন নিচ্ছেন ওয়াসার রাজস্বখাত থেকে। তারা ওই প্রকল্পের যাবতীয় কাজ করে গেলেও বর্তমানে বেতন প্রায়শ অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। তাতে ভোগান্তির অন্ত নেই চট্টগ্রাম ওয়াসার ২৩ প্রকৌশলী ও ৯ কর্মচারীর। অথচ ওয়াসার ৭৭তম বোর্ড সভায় তাদের চাকরি আত্মীকরণের যথাবিধি প্রক্রিয়া সম্পাদনা করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।
অভিযোগ আছে, প্রকল্পে বর্তমানে কর্মরতদের ওয়াসার হিসাব শাখায় বেতন-ভাতা ফেরতের অঙ্গীকারনামা প্রদান সাপেক্ষে তাদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে হচ্ছে। এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে কর্মরতরা জানান।
কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ এর প্রকৌশলী ও কর্মরতরা বলেন, আমরা প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। ফলে প্রকল্পে কর্মরত সবাই অভিজ্ঞ। এ কারণে ২০২২ সালে ওয়াসার এক বোর্ড সভায় সিদ্ধান্তে, প্রকল্পে কর্মরতরা অভিজ্ঞ হওয়ায় প্রকল্প সমাপ্তির পর তাদেরকে চাকরি আত্মীকরণের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রায় তিনবছর হলেও এখনও আমাদের ওয়াসায় আত্মীকরণ করা হয়নি। এ কারণে আমরা চাকরি ও জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছি। শীঘ্রই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে আমরা কর্মবিরতি ঘোষণা করব। কর্মবিরতি পালন করলে শহরে পানি উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণ বন্ধের শঙ্কা আছে। অথচ এর আগে ২০১৭ সালে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-১ কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিয়মিতকরণ করা হয়েছিল।
জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর কর্মরতদের ওয়াসা থেকে বেতন ভাতা দেওয়ার একটি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মতে, তাদের ওয়াসা থেকে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে। তবে এখনও তাদের ওয়াসায় নিয়মিতকরণ হয়নি। তাই বিষয়টি এখনও আগের পর্যায়ে আছে। পরবর্তী বোর্ড সভায় হয়তো এটি সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মচারীরা খুবই অভিজ্ঞ। তারা প্রকল্পটি চালু রেখেছেন। তাই হয়তো তাদের বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদ হয়ে উঠুক আনন্দঘন ও নিরাপদ : আবু সুফিয়ান এম.পি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সর্বস্তরের জনসাধারণসহ চট্টগ্রামবাসীকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি চট্টগ্রাম-৯ আসনের সর্বস্তরের জনসাধারণ, বিএনপির সর্ব পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, পেশাজীবি এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

শুভেচ্ছা বার্তায় আবু সুফিয়ান বলেন, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর ভাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক ভালোবাসার বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে সমাগত হয়েছে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত আত্মসংযম, ধৈর্য ও ত্যাগের শিক্ষা-আমাদের ব্যক্তি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত হোক। পবিত্র ঈদুল ফিতর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। পবিত্র ঈদুল ফিতরের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক সকল নাগরিকের জীবন। ঈদের আনন্দঘন দিনে মানুষে মানুষে প্রীতি ও বন্ধনের যোগসূত্রের মাধ্যমে দূর হয়ে যাক সকল অনৈক্য ও বিভেদ। উৎসব মুখর পরিবেশে সকলের ঈদ হয়ে উঠুক আনন্দঘন ও নিরাপদ। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

প্রসঙ্গত, মাননীয় সংসদ সদস্য ঈদের দিন সকাল ৮টায় জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। পরে চান্দগাঁও আবাসিক এ-ব্লকে অবস্থিত নিজ বাসভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ঈদের ২য় দিন সন্ধ্যায় বাকলিয়া শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কে অবস্থিত কে.বি কনভেনশন হলে মাননীয় সংসদ সদস্য’র উদ্যোগে “ঈদ পুনর্মিলনী” অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি চট্টগ্রাম-৯ নির্বাচনী এলাকা, চট্টগ্রাম মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, পেশাজীবিসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন -বন্দিদের ঈদের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।এছাড়া বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকালে বন্দিদের জন্য থাকছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে থাকবে পোলাও, গরু অথবা খাসি, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি। আর রাতের বেলায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলার শাহ্ শরীফ আরো জানান-এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন বন্দিরা স্বজনদের সাথে পাঁচ মিনিট করে টেলিফোনে এবং একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

সাধারণ সময়ে হাজতিরা মাসে দুই বার এবং কয়েদীরা মাসে একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও ঈদের সময় বিশেষ ভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।একই ভাবে ১০ টাকার বিনিময়ে মাসে দুই বার স্বজনদের সাথে টেলিফোনে ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান বন্দীরা। তবে ঈদে বিনামূল্যে পাঁচ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন।বর্তমানে কারাগারে হাজতি ও কয়েদী মিলে পাঁচ হাজার ৮৫৮ জন বন্দি রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ