চাকরি ও জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে ২৩ প্রকৌশলী ও ৯ কর্মচারী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ এর অধীনে আলোচিত ২৩ প্রকৌশলী ও ৯ কর্মচারীকে চাকরি দেওয়া হয়। দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার উৎপাদন ক্ষমতার প্রকল্পটি রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় স্থাপন করা হয়। ওখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা।
প্রকল্পের মাধ্যমে পানি শোধনাগার, ট্রান্সমিশন পাইপলাইন, শহরজুড়ে ৭০০ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন লাইনসহ অত্যাধুনিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এসব স্থাপনা নির্মাণকালীন সময়ে প্রকল্পের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিলেন এবং বর্তমানে পানি শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও পানি শোধনাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রকল্পের জনবলের সঙ্গে আউটসোর্সিং ও দৈনিক ভিত্তিতে কর্মচারীরাও নিয়োজিত আছেন। ২০২৩ সালের জুন মাসে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ এর কাজ শেষ হয়। ওয়াসার বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, যতদিন পর্যন্ত তাদের নিয়মিতকরণের বিলম্ব হবে ততদিন পর্যন্ত রাজস্বখাত থেকে বেতন চালিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এখন তারা রাজস্বখাত থেকে বেতন পেলেও তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে উক্ত প্রকল্পের আওতায় কাজ করে আসা কর্মকর্তারা বেতন নিয়েছেন প্রকল্প থেকেই। এরপর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ২০২৩ সাল থেকে বেতন নিচ্ছেন ওয়াসার রাজস্বখাত থেকে। তারা ওই প্রকল্পের যাবতীয় কাজ করে গেলেও বর্তমানে বেতন প্রায়শ অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। তাতে ভোগান্তির অন্ত নেই চট্টগ্রাম ওয়াসার ২৩ প্রকৌশলী ও ৯ কর্মচারীর। অথচ ওয়াসার ৭৭তম বোর্ড সভায় তাদের চাকরি আত্মীকরণের যথাবিধি প্রক্রিয়া সম্পাদনা করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।
অভিযোগ আছে, প্রকল্পে বর্তমানে কর্মরতদের ওয়াসার হিসাব শাখায় বেতন-ভাতা ফেরতের অঙ্গীকারনামা প্রদান সাপেক্ষে তাদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে হচ্ছে। এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে কর্মরতরা জানান।
কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ এর প্রকৌশলী ও কর্মরতরা বলেন, আমরা প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। ফলে প্রকল্পে কর্মরত সবাই অভিজ্ঞ। এ কারণে ২০২২ সালে ওয়াসার এক বোর্ড সভায় সিদ্ধান্তে, প্রকল্পে কর্মরতরা অভিজ্ঞ হওয়ায় প্রকল্প সমাপ্তির পর তাদেরকে চাকরি আত্মীকরণের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রায় তিনবছর হলেও এখনও আমাদের ওয়াসায় আত্মীকরণ করা হয়নি। এ কারণে আমরা চাকরি ও জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছি। শীঘ্রই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে আমরা কর্মবিরতি ঘোষণা করব। কর্মবিরতি পালন করলে শহরে পানি উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণ বন্ধের শঙ্কা আছে। অথচ এর আগে ২০১৭ সালে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-১ কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিয়মিতকরণ করা হয়েছিল।
জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর কর্মরতদের ওয়াসা থেকে বেতন ভাতা দেওয়ার একটি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মতে, তাদের ওয়াসা থেকে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে। তবে এখনও তাদের ওয়াসায় নিয়মিতকরণ হয়নি। তাই বিষয়টি এখনও আগের পর্যায়ে আছে। পরবর্তী বোর্ড সভায় হয়তো এটি সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মচারীরা খুবই অভিজ্ঞ। তারা প্রকল্পটি চালু রেখেছেন। তাই হয়তো তাদের বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে লেবেলবিহীন ঘি দিয়ে খাবার তৈরি, জরিমানা গুনল বনফুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনসহ নানা অপরাধে বনফুলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। এছাড়া আরও নানা অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ।

তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদান উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে তেলাপোকা বিচরণ, বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করায় বনফুলতে ৬০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় এম অ্যান্ড এস মেডিকোকে ৬ হাজার টাকা, সাঈদ মেডিকেল হলকে ৩ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর উপায় তেল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাতকরণ, মোড়কজাত তেলে মেয়াদ মূল্য না দেওয়ায় পাঠানটুলি চৌমুহনী তেলের দোকানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কর বিরোধ, উচ্চ আদালতে যাবে চট্টগ্রাম বন্দর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) হোল্ডিং ট্যাক্স বা পৌরকর ১৫ শতাংশ কমিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দাবি করা ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে এই কর ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন। সিটি করপোরেশন এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করবে।

রায়ের বিষয়ে চসিকের আইনজীবী মঈনুদ্দিন সোহেল বলেছেন, দাবি করা কর ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। সিটি করপোরেশন এই রায়ে সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত সাজ্জাদ বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের আপিল আংশিক মঞ্জুর হয়েছে। মোট মূল্যায়ন ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে ২৩৩ কোটি কমানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চসিক ও বন্দরের একটি যৌথ দল ১ কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট জায়গার ওপর মূল্যায়ন সম্পন্ন করে। এর ভিত্তিতে বন্দরের ওপর ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়। এই মূল্যায়নের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করে। তবে আইন অনুযায়ী আপিল করার শর্ত হিসেবে মোট দাবির ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা চসিকের তহবিলে জমা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চসিকের ইতিহাসে আগে কখনো একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের টাকা জমা হয়নি।তবে এই জমা দেওয়া অর্থ চূড়ান্ত পৌরকর নয় বলে আগেই জানিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দরের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আপিলের আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষার্থে ওই টাকা ‘জামানত’ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার শুনানিতে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ