আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

হুমায়ূন আহমেদ: বাংলা সাহিত্যের এক অমর কণ্ঠস্বর

আদনান আহমেদ রিফাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অগ্রগণ্য নাম। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আছেন জীবনের নানা দিক, মানুষের মনের গভীরতা এবং অনুভূতির অসীম বিস্তৃতি। সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র, রেডিও, টেলিভিশন—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বাংলা সংস্কৃতিতে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা হুমায়ূন আহমেদ বাঙালি পাঠকপ্রেমীদের কাছে রোমান্টিকতা, হাস্যরস, মানবিকতা ও মিথের মিশ্রণ হিসেবে পরিচিত।হুমায়ূন আহমেদের লেখনী শুধুমাত্র সাহিত্যিক ক্ষেত্রেই নয়, তার মানসিক বিশ্লেষণ, চরিত্রচিত্রণ এবং সৃজনশীল ভাবনায় পৃথিবীকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তাঁর জীবনের এই দিনে, তাঁর সাহিত্যিক অবদানের মূল্যায়ন ও চর্চা করা বাংলা সাহিত্যের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের অঙ্গীকার।হুমায়ূন আহমেদের শৈশব কাটে সিলেটের নানাবাড়ি এবং পরে নেত্রকোণায় তাঁর বাবার সঙ্গে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন সরকারী কর্মকর্তা এবং মা ছিলেন গৃহিণী। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর শৈশবকালীন সময়টাতে বেশিরভাগ সময়েই তাঁর মায়ের কাছ থেকে গল্প শুনে বেড়ে উঠেছিলেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর জীবনের প্রভাব পড়েছে তার সাহিত্যকর্মে। সিলেট ও নেত্রকোণায় বেড়ে ওঠা হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ ও ভালোবাসা জন্মানোর সেরা পরিবেশ পেয়েছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর কিছুদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, কিন্তু সাহিত্য চর্চায় তিনি আরও বেশি মনোযোগী হন। তারপর তিনি আমেরিকা থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।তার সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে উপস্থাপন করেছেন অনন্য এক ভঙ্গিতে।হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু করেছিলেন ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস “নন্দিত নরকে” দিয়ে। এটি ছিল একটি অন্তরঙ্গ কাহিনী, যা মানব সম্পর্ক এবং সামাজিক মানসিকতার একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ছিল। তবে তার খ্যাতি আরও বিস্তৃত হয় ১৯৭৩ সালে “শঙ্খনীল কারাগার” উপন্যাসের মাধ্যমে। এই উপন্যাসটি বিপ্লবী এবং সামগ্রিকভাবে সামাজিকভাবে সচেতন পাঠকদের কাছে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রগুলির গভীরতা এবং জীবনের প্রতিটি শেডকে তুলে ধরা। তাঁর উপন্যাসে যেখানে একদিকে জীবনযাপন এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা ফুটে উঠেছে, সেখানে অপরদিকে ছিল ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং তাদের সঙ্গতিপূর্ণ মানসিকতা।তাঁর উপন্যাসে সময়ের অঙ্গনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা বা চরিত্রগুলো এমনভাবে উঠে আসে, যেগুলো সাধারণভাবে হয়তো গুরুত্ব পেতো না, কিন্তু তিনি তার ভাষায় একে অনন্য রূপ দিয়েছেন। “মধ্যরাতের মেয়ে”, “দ্বীপ”, “বিষন্নতার নদী”, “মাঝির চর”, “ক্যামেলিয়া”, “লালসবুজ”—এই সব উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ একেবারে মানবিক অনুভূতি ও চেতনার দিকগুলিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিতে আরেকটি বিশেষ অংশ ছিল তার নাটক এবং চলচ্চিত্র। ১৯৮০ সালের দশক থেকে তাঁর লেখা টেলিভিশন নাটকগুলি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে। তাঁর প্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে “তিন দুষ্টু মেয়ে”,“অ্যাডভেঞ্চার”, “কোথাও কেউ নেই”,“বিষন্নতার নদী”, এবং “নদীর নাম মধু” অন্যতম। এর মধ্যে “কোথাও কেউ নেই” ছিল টেলিভিশনের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় একটি নাটক, যা দর্শকদের হৃদয়ে একটি বিশেষ জায়গা করে নেয়।

এছাড়া, হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন। তার পরিচালিত চলচ্চিত্র “আগুন”, “শ্রাবণ মেঘের দিন”, “গহীনের শব্দ” এবং “দারুচিনি দ্বীপ” দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমার মাধ্যমে তিনি মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে তুলে ধরেছেন।হুমায়ূন আহমেদ কখনোই রক্ষণশীল বা একরোখা ছিলেন না। তার সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে ধর্ম, প্রেম, দার্শনিকতা, এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মিশ্রণ ছিল। তার লেখায় ফুটে উঠেছে একধরনের আধ্যাত্মিকতা, যে আধ্যাত্মিকতার মধ্যে তিনি সমাজ, মানবতা ও নিজস্ব চেতনার একটি পরিমাপ রেখেছিলেন।ভিন্নধর্মী সুন্দর সব চরিত্র সৃষ্টি করে, তিনি পাঠকদের চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে জীবনের রূপবর্ণনা করেছেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকা মানবিকতা, দুর্বলতা, প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বিষাদ—সবকিছুই একে একে উঠে এসেছে।এখনো রাস্তায় মাঝে মাঝে হলুদ পাঞ্জাবি পড়া হিমুদের দেখা যায়।হিমু মিসির আলীর মত চরিত্রগুলো এভারগ্রীন। হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন সাহিত্যিক, যে সাহিত্য নিয়ে কোনও না কোনও সময় নিজেদের জীবন সংশোধন করতে চেয়েছিলেন।হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে এক ধরনের বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তার লেখার ঢং ছিল অত্যন্ত সহজ, সরল এবং প্রাঞ্জল। পাঠক সাধারণ হলেও তিনি কঠিন সমাজ ও মনস্তত্ত্বের বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করতেন, যা পাঠকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলত। তার গল্পের মধ্যে ছিল আনন্দ, কষ্ট, সুখ, দুঃখের মিশ্রণ। তবে হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মানবিক গুণাবলী। তিনি কখনোই পাঠককে শুধুমাত্র মেধার জালে আটকে রাখতেন না, বরং তাদের মনের গভীরে পৌঁছে যেতেন। হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমান, কিন্তু তার সাহিত্যিক অবদান আজও বাঙালি সমাজে অমর হয়ে আছে। তিনি বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন, যে সাহিত্য তার অনন্য উপস্থাপনার মাধ্যমে পাঠককে না শুধুমাত্র মুগ্ধ করেছিল, বরং তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে সমাজের প্রতি, ব্যক্তিত্বের প্রতি, এবং মানবিক সম্পর্কের প্রতি। মৃত্যুর পরও তাঁর বই, নাটক, চলচ্চিত্র, এবং স্মৃতিচারণ পাঠকদের মাঝে জীবন্ত হয়ে রয়ে গেছে।হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন এক মহা প্রতিভাবান সাহিত্যিক এবং সৃষ্টিশীল ব্যক্তি। তার সাহিত্যিক জীবনের সঙ্গে এক যুগের পরিচয় ছিল, এবং এই যুগের বাংলা সাহিত্যকে তিনি এক নতুন আলোর দিকে পরিচালিত করেছিলেন। তার লেখা, নাটক এবং চলচ্চিত্রগুলি আজও বাংলা সাহিত্যকে চিরকাল সমৃদ্ধ করে রেখেছে। হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যিক প্রয়াণে এক যুগের অবসান হলেও তার সৃষ্টি চিরকাল বাঙালি মননে বিরাজ করবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে না, তা কুশিক্ষা। জে.এম সেন হল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও বিবেকানন্দ সঙ্গীত নিকেতনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

তারা আরো বলেন, শিক্ষার বিস্তার ও সংস্কৃতির প্রসার একটি জাতিকে সভ্য জাতিতে পরিনত করে। বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও সঙ্গীত নিকেতন এই গুরু দায়িত্ব পালন করছে। স্কুল পরিচালনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দুলাল কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ, প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয়কৃষ্ণ দাশ মজুমদার, বিশেষ অতিথি শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত, শিক্ষানুরাগী মিহির কান্তি নাথ।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান সম্পাদক তাপস হোড়, অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নারায়ন চৌধুরী। প্রিয়ম কৃষ্ণ দে’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে ছিল চিত্রপ্রদর্শনী, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও শিশু শিল্পীদের পরিবেশিত সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিল ৩৪৫ শিক্ষার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। এরই ধারাবাহিকতায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এই প্রতিযোগিতা। শনিবার চট্টগ্রামের জামালখানের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।পরবর্তীকালে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্বের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মাতৃভাষা গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) আবুল কালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ্। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হাবিবুর রহমান ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আক্তার।

এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চল ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি (ক) ক্যাটাগরিতে ২৩৩ জন এবং দশম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (খ) ক্যাটাগরিতে ১১২ জন শিক্ষার্থী এবং সর্বমোট ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-এর মূল্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষণা পর্বে ভাষাবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাতৃভাষা চর্চার মধ্য দিয়েই একটি জনগোষ্ঠী তার মনন, মেধা ও চিন্তা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে অনেক মাতৃভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে এসব ভাষা সঠিকভাবে চর্চা না করলে তা মৃত্যুমুখে পতিত হবে। মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে ওই ভাষার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়া। কাজেই বিপন্ন ভাষা চর্চা, অনুশীলন, পুনরুজ্জীবন, নথিবদ্ধকরণ আবশ্যক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এ কাজটি করে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তরপর্বে অংশগ্রহণ করে। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে ফলাফল ঘোষণা করেন এবং সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালে প্রথমবার লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় ক-ক্যাটাগরি: ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি এবং খ-ক্যাটাগরি: ১০ম থেকে ১২শ শ্রেণি। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-২০২৬ অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট িি.িরসষর.মড়া.নফ-এ প্রবেশ করে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬ সেবাবক্স থেকে রেজিস্ট্রেশন লিংকে ক্লিক করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে।

এ বছর লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা অঞ্চলসহ মোট ১০টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন এবং খ-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন চূড়ান্ত পর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত পর্বে ২ ক্যাটাগরিতে ৩ জন করে মোট ৬ জন প্রধান উপদেষ্টার নিকট থেকে একুশের অনুষ্ঠানমালায় পুরস্কার গ্রহণ করবে এবং ক ও খ ক্যাটাগরি থেকে প্রথম স্থান অধিকারী ২ জন এ বছর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ