আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

হুমায়ূন আহমেদ: বাংলা সাহিত্যের এক অমর কণ্ঠস্বর

আদনান আহমেদ রিফাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অগ্রগণ্য নাম। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আছেন জীবনের নানা দিক, মানুষের মনের গভীরতা এবং অনুভূতির অসীম বিস্তৃতি। সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র, রেডিও, টেলিভিশন—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বাংলা সংস্কৃতিতে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা হুমায়ূন আহমেদ বাঙালি পাঠকপ্রেমীদের কাছে রোমান্টিকতা, হাস্যরস, মানবিকতা ও মিথের মিশ্রণ হিসেবে পরিচিত।হুমায়ূন আহমেদের লেখনী শুধুমাত্র সাহিত্যিক ক্ষেত্রেই নয়, তার মানসিক বিশ্লেষণ, চরিত্রচিত্রণ এবং সৃজনশীল ভাবনায় পৃথিবীকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তাঁর জীবনের এই দিনে, তাঁর সাহিত্যিক অবদানের মূল্যায়ন ও চর্চা করা বাংলা সাহিত্যের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের অঙ্গীকার।হুমায়ূন আহমেদের শৈশব কাটে সিলেটের নানাবাড়ি এবং পরে নেত্রকোণায় তাঁর বাবার সঙ্গে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন সরকারী কর্মকর্তা এবং মা ছিলেন গৃহিণী। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর শৈশবকালীন সময়টাতে বেশিরভাগ সময়েই তাঁর মায়ের কাছ থেকে গল্প শুনে বেড়ে উঠেছিলেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর জীবনের প্রভাব পড়েছে তার সাহিত্যকর্মে। সিলেট ও নেত্রকোণায় বেড়ে ওঠা হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ ও ভালোবাসা জন্মানোর সেরা পরিবেশ পেয়েছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর কিছুদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, কিন্তু সাহিত্য চর্চায় তিনি আরও বেশি মনোযোগী হন। তারপর তিনি আমেরিকা থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।তার সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে উপস্থাপন করেছেন অনন্য এক ভঙ্গিতে।হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু করেছিলেন ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস “নন্দিত নরকে” দিয়ে। এটি ছিল একটি অন্তরঙ্গ কাহিনী, যা মানব সম্পর্ক এবং সামাজিক মানসিকতার একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ছিল। তবে তার খ্যাতি আরও বিস্তৃত হয় ১৯৭৩ সালে “শঙ্খনীল কারাগার” উপন্যাসের মাধ্যমে। এই উপন্যাসটি বিপ্লবী এবং সামগ্রিকভাবে সামাজিকভাবে সচেতন পাঠকদের কাছে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রগুলির গভীরতা এবং জীবনের প্রতিটি শেডকে তুলে ধরা। তাঁর উপন্যাসে যেখানে একদিকে জীবনযাপন এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা ফুটে উঠেছে, সেখানে অপরদিকে ছিল ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং তাদের সঙ্গতিপূর্ণ মানসিকতা।তাঁর উপন্যাসে সময়ের অঙ্গনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা বা চরিত্রগুলো এমনভাবে উঠে আসে, যেগুলো সাধারণভাবে হয়তো গুরুত্ব পেতো না, কিন্তু তিনি তার ভাষায় একে অনন্য রূপ দিয়েছেন। “মধ্যরাতের মেয়ে”, “দ্বীপ”, “বিষন্নতার নদী”, “মাঝির চর”, “ক্যামেলিয়া”, “লালসবুজ”—এই সব উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ একেবারে মানবিক অনুভূতি ও চেতনার দিকগুলিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিতে আরেকটি বিশেষ অংশ ছিল তার নাটক এবং চলচ্চিত্র। ১৯৮০ সালের দশক থেকে তাঁর লেখা টেলিভিশন নাটকগুলি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে। তাঁর প্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে “তিন দুষ্টু মেয়ে”,“অ্যাডভেঞ্চার”, “কোথাও কেউ নেই”,“বিষন্নতার নদী”, এবং “নদীর নাম মধু” অন্যতম। এর মধ্যে “কোথাও কেউ নেই” ছিল টেলিভিশনের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় একটি নাটক, যা দর্শকদের হৃদয়ে একটি বিশেষ জায়গা করে নেয়।

এছাড়া, হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন। তার পরিচালিত চলচ্চিত্র “আগুন”, “শ্রাবণ মেঘের দিন”, “গহীনের শব্দ” এবং “দারুচিনি দ্বীপ” দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমার মাধ্যমে তিনি মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে তুলে ধরেছেন।হুমায়ূন আহমেদ কখনোই রক্ষণশীল বা একরোখা ছিলেন না। তার সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে ধর্ম, প্রেম, দার্শনিকতা, এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মিশ্রণ ছিল। তার লেখায় ফুটে উঠেছে একধরনের আধ্যাত্মিকতা, যে আধ্যাত্মিকতার মধ্যে তিনি সমাজ, মানবতা ও নিজস্ব চেতনার একটি পরিমাপ রেখেছিলেন।ভিন্নধর্মী সুন্দর সব চরিত্র সৃষ্টি করে, তিনি পাঠকদের চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে জীবনের রূপবর্ণনা করেছেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকা মানবিকতা, দুর্বলতা, প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বিষাদ—সবকিছুই একে একে উঠে এসেছে।এখনো রাস্তায় মাঝে মাঝে হলুদ পাঞ্জাবি পড়া হিমুদের দেখা যায়।হিমু মিসির আলীর মত চরিত্রগুলো এভারগ্রীন। হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন সাহিত্যিক, যে সাহিত্য নিয়ে কোনও না কোনও সময় নিজেদের জীবন সংশোধন করতে চেয়েছিলেন।হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে এক ধরনের বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তার লেখার ঢং ছিল অত্যন্ত সহজ, সরল এবং প্রাঞ্জল। পাঠক সাধারণ হলেও তিনি কঠিন সমাজ ও মনস্তত্ত্বের বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করতেন, যা পাঠকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলত। তার গল্পের মধ্যে ছিল আনন্দ, কষ্ট, সুখ, দুঃখের মিশ্রণ। তবে হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মানবিক গুণাবলী। তিনি কখনোই পাঠককে শুধুমাত্র মেধার জালে আটকে রাখতেন না, বরং তাদের মনের গভীরে পৌঁছে যেতেন। হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমান, কিন্তু তার সাহিত্যিক অবদান আজও বাঙালি সমাজে অমর হয়ে আছে। তিনি বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন, যে সাহিত্য তার অনন্য উপস্থাপনার মাধ্যমে পাঠককে না শুধুমাত্র মুগ্ধ করেছিল, বরং তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে সমাজের প্রতি, ব্যক্তিত্বের প্রতি, এবং মানবিক সম্পর্কের প্রতি। মৃত্যুর পরও তাঁর বই, নাটক, চলচ্চিত্র, এবং স্মৃতিচারণ পাঠকদের মাঝে জীবন্ত হয়ে রয়ে গেছে।হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন এক মহা প্রতিভাবান সাহিত্যিক এবং সৃষ্টিশীল ব্যক্তি। তার সাহিত্যিক জীবনের সঙ্গে এক যুগের পরিচয় ছিল, এবং এই যুগের বাংলা সাহিত্যকে তিনি এক নতুন আলোর দিকে পরিচালিত করেছিলেন। তার লেখা, নাটক এবং চলচ্চিত্রগুলি আজও বাংলা সাহিত্যকে চিরকাল সমৃদ্ধ করে রেখেছে। হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যিক প্রয়াণে এক যুগের অবসান হলেও তার সৃষ্টি চিরকাল বাঙালি মননে বিরাজ করবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জীবন সংস্কৃতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কতনা অদ্ভূত সমাজ
মিথ্যাকে বিশ্বাস করে
সত্যের প্রমান চায়,
সাপের মতো খোলস বদল
স্বভাব থেকে যায় ।

কতনা অদ্ভূত সমাজ
ভাল কাজ মুছে যায়
সময়ের বাঁকে,
মন্দ কাজ রেকর্ড হয়
ইতিহাসের ফাঁকে ।

কতনা বিচিত্র জীবন সংস্কৃতি
একদিন না পেলে
ভুলে যায় স্মৃতি ,
স্বার্থের মোহে অন্ধ মানুষ
লাভের গায় গীতি ।।

কতনা অদ্ভূত মানুষ
অবুঝ তার মন,
সত্যকে আড়াল করে
মিথ্যার অনুশীলন।

কতনা অসহায় মানুষ
যত পায় তত চায় ,
অফুরন্ত চাহিদা তার
অভাব থেকে যায় ।

কতনা অবুঝ মানুষ
হিসেবের খাতায় ভুল
ক্ষনিকের মোহ মায়ায়
সৃষ্টির প্রেমে আকুল ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় টাকার কাছে
লোভের কাছে
বন্ধুত্বের কাছে
কখনো ভালবাসার কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় বিবেকের কাছে
সময়ের কাছে
অবশেষে মৃত্যুর কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
উজাড় করে জীবন,
একদিন নিজেই বোঝা
কেউ থাকেনা আপন।

কতনা অসহায় মানুষ
জানেনা তার কখন মরণ,
যেতে হবে ছেড়ে
মায়ার বাঁধন,
সব যাবে মুছে
কেউ করবেনা স্মরণ ।

এই বুঝি দুনিয়ার নিয়ম
বিদায়ের পরিনতি,
হাসি আর কান্নার মাঝে
জীবনের ইতি ।

রচনাকাল: ১৫/১২/২০২৫

দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংসকারীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মন্ত্রী শুক্রবার চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পরিদর্শন পরবর্তী উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তাঁর অবদান দেশকে আলোড়িত ও সমৃদ্ধ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ করা হয়েছিল, যা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পুনরায় এর নাম ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন মেজর জিয়া। পরবর্তীতে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা,সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম, সেনাপ্রধান ও সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নাম ও অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সরকার এসব স্থাপনা পুনর্গঠন করে জনগণের জন্য আবার উন্মুক্ত করবে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামান্য মূল্য সমন্বয়কে কেন্দ্র করে দেশে যে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। সকলকে দেশপ্রেমিক হতে হবে, কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বা গণতন্ত্রহীনতার দিকে আমরা যেতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।

তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যা এগিয়ে নিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন।পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ