আজঃ সোমবার ৯ মার্চ, ২০২৬

অসাধু ব্যবসায়ীরা ৬০০ জাহাজ কেটে ফেলেছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

বেকার হয়েছে ৮ হাজার শ্রমিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন এর বাংলাবাজারস্থ অফিস কার্যালয়ে নৌ-যান শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার উক্ত সভায় সংগঠনের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা হাজী শেখ মোঃ ইছামিয়া ও প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন (মাষ্টার)। সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি মোঃ তালিম উল্লাহ ফকির (ড্রাইভার) ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (মাষ্টার), সাংগঠনিক সম্পদক মোঃ শফিকুল ইসলাম (মাষ্টার), অর্থ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আউয়াল আব্দুলাহ (ড্রাইভার), কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ শাহাজাহান (মাষ্টার), আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী (মাষ্টার) ও প্রচার সম্পাদক এম,এ রহমান (মাষ্টার) সহ আরো অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর থেকে চলাচলকারী লাইটার জাহাজ সমূহ জাহাজ মালিকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ওয়াটার ট্রান্সর্পোট সেল এর ছাড়পত্রের মাধ্যমে সিরিয়ালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিত। সেই সাথে জাহাজ ব্যবসা উন্নতি সহ শ্রমিকদের বেকারত্বের হারও হ্রাস পেয়েছিল। বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা এই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যেমন শিল্প ধ্বংস করছে তেমনি অনেক শ্রমিকও বেকার হচ্ছে। এ সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জাহাজ কেটে ফেলা হয়েছে। এতগুলো জাহাজ কেটে ফেলায় প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মালিকরা ব্যবসা করতে না পারায় জাহাজ কেটে ফেললে আর কিছু মাসের মধ্য আরো ৮/১০হাজার শ্রমিক বেকার হবে। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পণ্য পরিবহন নীতিমাল-২৪ ঘোষণা করা হলে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করে পুনরায় জাহাজ সমূহ সিরিয়ালে চলাচল শুরু হয়। এতে নৌ-শিল্পের মালিকেরা একটু সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এবং শ্রমিকদের চাকুরি হারানোর আশংকা কমে যায়। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত গত ১৯ নভেম্বর উক্ত পণ্য পরিবহন নীতিমালা-২৪ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করায় নৌ-শিল্পের মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা নেমে আশে। এতে শিল্প ধ্বংস হওয়ার যেমন সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি শ্রমিকদের বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ আদালতের এই আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়ে শিল্প অচল হতে পারে এবং দেশে সংকট দেখা দিতে পারে। এই অব¯’া থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের প্রতি বক্তারা জোর দাবী জানান। অন্যথায় যেকোন মূহুর্তে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের আত্মহনন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাসাত্মক গল্প ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, স্ত্রীকে দামি জুতা কিনে দিতে না পারার হতাশা থেকে ওই যুবক গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার স্বজন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা জানা গেছে ভিন্ন কথা।

শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১টার দিকে কামাল উদ্দিন (৪০) নামের এক যুবক নিউমার্কেটের সামনে আনারসের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে নিজে গলায় চালিয়ে দেয়।রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের টহলটিম স্থানীদের সহযোগিতা চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচারে রক্ত প্রয়োজন হলে আমাদের সহকারী পুলিশ সুপার নুরে আলম মাহমুদ স্যার রক্ত প্রদান করেন। কিন্তু রাতেই কামাল মারা যান।নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহে, তিনি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

তিনি বলেন, ওই যুবকের স্ত্রী ইপিজেডে চাকরি করেন। ঘটনার সময় স্ত্রী কামালের সঙ্গেই ছিলেন না। এস এম রিদুয়ান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে আনারসের দোকান থেকে কামাল যখন ছুরি নিয়ে নিজের গলায় চালান তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে জানানো থেকে শুরু করে কামালের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সঙ্গে ছিলেন।কামালের সঙ্গে কোনো নারী ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া গল্পটি মিথ্যা।

কামালের স্ত্রী তসলিমা আক্তার জানান, রাত ৮টার দিকে কামাল তার ভাগিনার কাছ থেকে হাত খরচের কিছু টাকা চায়। ভাগিনা তার মামাকে টাকা দিলে টাকা নিয়ে কামাল উধাও হয়ে যান। তাকে পতেঙ্গা এলাকায় আর দেখা যায়নি।ভোরে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে কামালকে মৃত দেখতে পান।
কামালের ভাগিনা সামাদ বলেন, আমার মামা পেশায় রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মামা যখন আমার থেকে টাকা নিয়ে আসেন তখন মামি কারখানায় চাকরিতে ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে মামির কোনো সম্পর্ক নেই। মামার চিকিৎসার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুদিন ভালো থাকেন, তারপর আবার সমস্যা শুরু হয়।

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ