আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পূর্বাচল উপশহর এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য ॥ আট বছরে ২১ লাশ উদ্ধার

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজউকের পূর্বাচল উপশহর এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। এলাকাটি লাশের ডাম্পিং স্পটে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ স্থান হিসেবে অন্যত্র হত্যা করে পূর্বাচলে লাশ ফেলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গত আট বছরে এখানে ২১টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পূর্বাচলে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ ও মারামারিসহ নানা অপরাধ বেড়েই চলছে। পূর্বাচলে এখনো সময়উপযোগী জনবসতি গড়ে না ওঠায় অপরাধীরা নির্বিঘেœ অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আশানুরূপ না হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে নিরাপদে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পরেই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা এখানে বাড়তে থাকে। পূর্বাচলের প্রত্যেকটি এলাকাই দুর্গম। পূর্বাচল উপশহরে ঘটে চলছে একের পর এক অপরাধ। পূর্বাচল উপশহর যেন এখন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’।
পূর্বাচলের পলখান, গোবিন্দপুর, বাগলা, চাপড়ি, ধামছি, মাঝিপাড়া, রঘুরামপুর, গুতিয়াবো, পশি, হাড়ারবাড়ী, আলমপুরা, খাইলসা, পিংনাল, কালনি, সুলপিনাসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ডাকাত আতঙ্কে থাকেন। চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদী পশুর মালিকরা থাকেন আতঙ্কে।
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে গড়ে উঠা পূর্বাচল উপশহর এখন নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে । শহরের ব্যস্ততা থেকে একটুখানি অবসরে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসে পূর্বাচলে। দৃষ্টিনন্দন ৩০০ ফুট সড়ক এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। পূর্বাচলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হরেক রকমের কয়েক হাজার দোকানপাট। গড়ে ওঠেছে শতাধিক নার্সারী। স্থান পেয়েছে দেশী-বিদেশী নানা রকমের খাবারের দোকান। নৌ-ভ্রমন আর সামুদ্রিক মাছ খেতে ছুটেচ আসেন রসনাবিলাসিরা। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বাচলে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সন্ধার পর সময় ভাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে নীরবতা। রীতিমতো গা ছমছমে পরিবেশ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি জসিম উদ্দিনের সাত টুকরো লাশ পূর্বাচলের ৫নং সেক্টরের একটি লেক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরকীয়ার জের ধরে তাকে ঢাকার কোনো এক স্থানে হত্যা করা হয়। তারপর নিরাপদ স্থান হিসাবে পূর্বাচলে লাশ ফেলে রাখে। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সেতুর নিচ থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের বেশ কিছু কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ জুলাই পূর্বাচলের ১৯নম্বর সেক্টর থেকে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ২৪ আগস্ট পূর্বাচলের ২০নম্বর সেক্টর এলাকার একটি সবজি ক্ষেত থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০২২ সালের ১৯মে পূর্বাচলের ২৫ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে মজিবুর রহমানের নামের এক ব্যাক্তির লাশ ও একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টর থেকে মিলন মিয়ার লাশ, একই বছরের ২৩ আগস্ট ৪ নম্বর সেক্টর থেকে ৭ মাসের নবজাতকের লাশ, ৮ অক্টোবর পূর্বাচলের ৭ নম্বর সেক্টর থেকে হৃদয় হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর পূর্বাচলের ২৬ নম্বর সেক্টর থেকে সাইফুল ইসলাম নামের এক ইজিবাইক চালকের লাশ ও অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্বাচলের ৮ নম্বর সেক্টর থেকে মজুর উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৯ সালে পূর্বাচলের ভোলানাথপুর এলাকার কাশফুলের ঝোপ থেকে এক ধর্ষিতা তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই বছরের ১৬ নভেম্বর নিখোঁজের ৪ দিন পর মাওলা নামের অটোচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের ১১ নম্বর সেতুর নিচ থেকে গুলিবিদ্ধ সোহাগ, শিমুল ও আজাদ নামের তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৭ নভেম্বর পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৭ সালের ২জুন পূর্বাচলের গুতিয়াবো এলাকা থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মারাত্মক ধরণের বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল পূর্বাচলের ১৩ নম্বর সেক্টরে ব্রিফকেসের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর হযরত শহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক সৌদী প্রবাসীকে গাড়ি করে পূর্বাচলে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে জিম্মি করের তার সঙ্গে থেকে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ ১৫লক্ষাধিক টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পূর্বাচলে ছিনতাইয়ে সক্রিয় রয়েছে ৮টি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে ৪৫ জন সদস্য রয়েছে। ২০১৯ সালের ১০মে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট রোডের ছমু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সাইফুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান, ওবায়দুর রহমান এবং বেলায়েত হোসেনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া ২০১৭ সালের ৩ জুন পূর্বাচল উপ-শহরের ৫নং সেক্টরের একটি খাল থেকে ৬১টি চায়না মেশিনগান, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের ৫টি পিস্তল, ২টি রকেট লঞ্চার, ৪২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি মর্টারশেল, ২টি ওয়্যারলেস সেট, ১৫২৭ রাউন্ড গুলি, ৪৪টি ম্যাগাজিন ও ৪৯টি রকেট লঞ্চার প্রজেক্টর উদ্ধার করা হয়। পূর্বাচল সুনসান হওয়ায় এখানে ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।
মানুষ হত্যার পর নিরাপদ স্থান হিসেবে পূর্বাচলের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘেœ লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। পূর্বাচল দুপুরের পর থেকে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত পর্যটকে মুখোরিত থাকে। এর পর সময় ভাড়ার সাথে সাথে নিরব হতে থাকে পুরো এলাকা। ৩০০ ফুট সড়কে সড়কবাতি থাকলেও পূর্বাচলের ভেতরে শাখা-উপশাখা রাস্তাগুলোতে কোনো সড়কবাতির ব্যবস্থা নেই। এ কারণে পূর্বাচলের ভেতরের রাস্তাগুলো থাকে অন্ধকার, নির্জন, নীরব ও সুনসান। সুযোগ পেয়ে অপরাধীরাও অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। কেউ চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতি করে। কেউবা সঙ্গীয় পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে নারীদের উপর নির্যাতন চালায়। কেউবা অন্যত্র হত্যা করে এখানে লাশ ফেলে দেয়।
পূর্বাচলের বাঘবের গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজউকের অধীনে পূর্বাচলের জমি অধিগ্রহণ করার পর আদিবাসিন্দাদের অনেকেই অন্যত্র বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। পূর্বাচলের কোন কোন স্থানে প্লট প্রাপ্তরা ভবন নির্মাণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাঁকা জমি পড়ে আছে। সুযোগ পেয়ে রাতে এখানে বেশিরভাগ সময় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।
পূর্বাচলের মধুখালী গ্রামের জিন্নাত আলী বলেন, সন্ধ্যার পরেই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়তে থাকে। পূর্বাচলের প্রত্যেকটি এলাকাই দুর্গম। পূর্বাচল উপশহরে ঘটে চলছে একের পর এক অপরাধ। পূর্বাচল উপশহর যেন এখন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’।
পূর্বাচলের কাদিরাটেক গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া বলেন, পূর্বাচলে পুলিশের নিয়মিত টহল থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। অবিলম্বে পুলিশের টহল এখানে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
রূপগঞ্জ থানা ওসি লিয়াকত আলী বলেন, জনবল সংকট থাকায় আমাদের টহল কার্যক্রমে কিছুটা বিঘœ ঘটছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, পূর্বাচলের পুলিশ ক্যাম্প পুণরায় চালু করা হবে। পুর্বাচলে শিগগিরি পুলিশের টহল বাড়ানো হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার গুঁড়া দুধ আমদানি করে : প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়, কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উপদেষ্টা বুধবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়” -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপষ্টো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়া দুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপষ্টো বলেন, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্প খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্প ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
নারীরে উদ্দেশে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপানের পরিসংখ্যান নয়-মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

এলডিডিপি’র মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাশে তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি-দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাশে ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মোঃ শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপিথর আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ