পূর্বাচল উপশহর এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য ॥ আট বছরে ২১ লাশ উদ্ধার

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজউকের পূর্বাচল উপশহর এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। এলাকাটি লাশের ডাম্পিং স্পটে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ স্থান হিসেবে অন্যত্র হত্যা করে পূর্বাচলে লাশ ফেলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গত আট বছরে এখানে ২১টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পূর্বাচলে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ ও মারামারিসহ নানা অপরাধ বেড়েই চলছে। পূর্বাচলে এখনো সময়উপযোগী জনবসতি গড়ে না ওঠায় অপরাধীরা নির্বিঘেœ অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আশানুরূপ না হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে নিরাপদে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পরেই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা এখানে বাড়তে থাকে। পূর্বাচলের প্রত্যেকটি এলাকাই দুর্গম। পূর্বাচল উপশহরে ঘটে চলছে একের পর এক অপরাধ। পূর্বাচল উপশহর যেন এখন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’।
পূর্বাচলের পলখান, গোবিন্দপুর, বাগলা, চাপড়ি, ধামছি, মাঝিপাড়া, রঘুরামপুর, গুতিয়াবো, পশি, হাড়ারবাড়ী, আলমপুরা, খাইলসা, পিংনাল, কালনি, সুলপিনাসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ডাকাত আতঙ্কে থাকেন। চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদী পশুর মালিকরা থাকেন আতঙ্কে।
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে গড়ে উঠা পূর্বাচল উপশহর এখন নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে । শহরের ব্যস্ততা থেকে একটুখানি অবসরে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসে পূর্বাচলে। দৃষ্টিনন্দন ৩০০ ফুট সড়ক এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। পূর্বাচলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হরেক রকমের কয়েক হাজার দোকানপাট। গড়ে ওঠেছে শতাধিক নার্সারী। স্থান পেয়েছে দেশী-বিদেশী নানা রকমের খাবারের দোকান। নৌ-ভ্রমন আর সামুদ্রিক মাছ খেতে ছুটেচ আসেন রসনাবিলাসিরা। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বাচলে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সন্ধার পর সময় ভাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে নীরবতা। রীতিমতো গা ছমছমে পরিবেশ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি জসিম উদ্দিনের সাত টুকরো লাশ পূর্বাচলের ৫নং সেক্টরের একটি লেক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরকীয়ার জের ধরে তাকে ঢাকার কোনো এক স্থানে হত্যা করা হয়। তারপর নিরাপদ স্থান হিসাবে পূর্বাচলে লাশ ফেলে রাখে। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সেতুর নিচ থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের বেশ কিছু কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ জুলাই পূর্বাচলের ১৯নম্বর সেক্টর থেকে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ২৪ আগস্ট পূর্বাচলের ২০নম্বর সেক্টর এলাকার একটি সবজি ক্ষেত থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০২২ সালের ১৯মে পূর্বাচলের ২৫ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে মজিবুর রহমানের নামের এক ব্যাক্তির লাশ ও একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টর থেকে মিলন মিয়ার লাশ, একই বছরের ২৩ আগস্ট ৪ নম্বর সেক্টর থেকে ৭ মাসের নবজাতকের লাশ, ৮ অক্টোবর পূর্বাচলের ৭ নম্বর সেক্টর থেকে হৃদয় হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর পূর্বাচলের ২৬ নম্বর সেক্টর থেকে সাইফুল ইসলাম নামের এক ইজিবাইক চালকের লাশ ও অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্বাচলের ৮ নম্বর সেক্টর থেকে মজুর উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৯ সালে পূর্বাচলের ভোলানাথপুর এলাকার কাশফুলের ঝোপ থেকে এক ধর্ষিতা তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই বছরের ১৬ নভেম্বর নিখোঁজের ৪ দিন পর মাওলা নামের অটোচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের ১১ নম্বর সেতুর নিচ থেকে গুলিবিদ্ধ সোহাগ, শিমুল ও আজাদ নামের তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৭ নভেম্বর পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৭ সালের ২জুন পূর্বাচলের গুতিয়াবো এলাকা থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মারাত্মক ধরণের বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল পূর্বাচলের ১৩ নম্বর সেক্টরে ব্রিফকেসের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর হযরত শহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক সৌদী প্রবাসীকে গাড়ি করে পূর্বাচলে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে জিম্মি করের তার সঙ্গে থেকে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ ১৫লক্ষাধিক টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পূর্বাচলে ছিনতাইয়ে সক্রিয় রয়েছে ৮টি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে ৪৫ জন সদস্য রয়েছে। ২০১৯ সালের ১০মে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট রোডের ছমু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সাইফুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান, ওবায়দুর রহমান এবং বেলায়েত হোসেনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া ২০১৭ সালের ৩ জুন পূর্বাচল উপ-শহরের ৫নং সেক্টরের একটি খাল থেকে ৬১টি চায়না মেশিনগান, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের ৫টি পিস্তল, ২টি রকেট লঞ্চার, ৪২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি মর্টারশেল, ২টি ওয়্যারলেস সেট, ১৫২৭ রাউন্ড গুলি, ৪৪টি ম্যাগাজিন ও ৪৯টি রকেট লঞ্চার প্রজেক্টর উদ্ধার করা হয়। পূর্বাচল সুনসান হওয়ায় এখানে ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।
মানুষ হত্যার পর নিরাপদ স্থান হিসেবে পূর্বাচলের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘেœ লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। পূর্বাচল দুপুরের পর থেকে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত পর্যটকে মুখোরিত থাকে। এর পর সময় ভাড়ার সাথে সাথে নিরব হতে থাকে পুরো এলাকা। ৩০০ ফুট সড়কে সড়কবাতি থাকলেও পূর্বাচলের ভেতরে শাখা-উপশাখা রাস্তাগুলোতে কোনো সড়কবাতির ব্যবস্থা নেই। এ কারণে পূর্বাচলের ভেতরের রাস্তাগুলো থাকে অন্ধকার, নির্জন, নীরব ও সুনসান। সুযোগ পেয়ে অপরাধীরাও অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। কেউ চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতি করে। কেউবা সঙ্গীয় পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে নারীদের উপর নির্যাতন চালায়। কেউবা অন্যত্র হত্যা করে এখানে লাশ ফেলে দেয়।
পূর্বাচলের বাঘবের গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজউকের অধীনে পূর্বাচলের জমি অধিগ্রহণ করার পর আদিবাসিন্দাদের অনেকেই অন্যত্র বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। পূর্বাচলের কোন কোন স্থানে প্লট প্রাপ্তরা ভবন নির্মাণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাঁকা জমি পড়ে আছে। সুযোগ পেয়ে রাতে এখানে বেশিরভাগ সময় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।
পূর্বাচলের মধুখালী গ্রামের জিন্নাত আলী বলেন, সন্ধ্যার পরেই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়তে থাকে। পূর্বাচলের প্রত্যেকটি এলাকাই দুর্গম। পূর্বাচল উপশহরে ঘটে চলছে একের পর এক অপরাধ। পূর্বাচল উপশহর যেন এখন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’।
পূর্বাচলের কাদিরাটেক গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া বলেন, পূর্বাচলে পুলিশের নিয়মিত টহল থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। অবিলম্বে পুলিশের টহল এখানে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
রূপগঞ্জ থানা ওসি লিয়াকত আলী বলেন, জনবল সংকট থাকায় আমাদের টহল কার্যক্রমে কিছুটা বিঘœ ঘটছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, পূর্বাচলের পুলিশ ক্যাম্প পুণরায় চালু করা হবে। পুর্বাচলে শিগগিরি পুলিশের টহল বাড়ানো হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অদম্য রাব্বির গল্প পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিগত ১০ বছর আগে স্কুলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় দু হাত হারানো রফিকুল ইসলাম রাব্বি সকল স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাফল্য অর্জন করতে প্রস্তুত ছিলেন। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে পড়ালেখার প্রতি অদম্য ইচ্ছে ও অধ্যবসায় রাব্বিকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সিঁড়িতে। দুই হাত না থাকার পরও তিনি দমে যাননি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা মো. রাব্বি। দুই ভাইয়ের এক বোন। তার বোন রোকেয়া আকতারও এবার ভাটিয়ারী বিজয় সরনী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বোনও পাস করেছেন। তবে ফলাফলে তিনি রাব্বির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। রাব্বির সাফল্যে খুশি পরিবার ও প্রতিবেশী।
চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাব্বি।। এর আগে এসএসসিতেও একইভাবে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথ আটকে রাখতে পারেনি।

জানা গেছে, রাব্বির পথচলা এত সহজ ছিল না। ২০১৬ সালে স্কুলে যাওয়ার সময় এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। তার দুই হাত কেটে ফেলতে হয়। তখন রাব্বি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন। এর পরও দমে যাননি তিনি। পা দিয়ে লেখা অনুশীলন করতে থাকেন। একসময় তা রপ্ত করেন। এরপর পুনরায় স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। এর মধ্যে কয়েকবছর নষ্ট হয় তার। তবুও ২০২৪ সালে এসএসসিতে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন রাব্বি। তখন পাড়া প্রতিবেশী বুঝতে পারেন রাব্বি হেরে যাওয়ার পাত্র নন।

পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন রাব্বি। তার অসাধারণ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলের মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। কেউ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কেউ আবার নানা সহযোগিতার কথা জানান। তবে দুঃখজনকভাবে, সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবে রূপ নেয়নি।

অভাব-অনটনের সংসারে রাব্বির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের নিরলস সংগ্রাম। তার বাবা বজলুর রহমান ও মা দুজনেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা।তবে এই কঠিন পথচলায় কয়েকজন মানুষের সহযোগিতা রাব্বির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন। অন্যদিকে স্থানীয় শিক্ষক মো. ওসমান বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়ে সহযোগিতা করছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে রাব্বির স্বপ্ন আরও বড়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিজ্ঞানী হতে চান তিনি।

২২ বছর পিছিয়ে গেল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড, কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। এই বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থ। গতবার পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৯৭ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণার সময় এ তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান, সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেন। সব মিলিয়ে এবার পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। আর নগর বাদে জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ ও বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪।বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ ও মানবিকে ৩৮ দশমিক ৩১।

এদিকে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। গত ২২ বছরের মধ্যে এটিই বোর্ডটির সর্বনিম্ন পাসের হার। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমেছে।
বোর্ডের সংরক্ষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এরপর ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ২২ বছরে পাসের হার আর এত নিচে নামেনি। এমনকি করোনা-পরবর্তী ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। পাস করেছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন।পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৪ হাজার ৬৭১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২৯ হাজার ৮২২ জন। তাদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ৪১ হাজার ৬৬৪ ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৩৪৪ জন। তাদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি থেকে কমে ৩ হাজারের নিচে নেমেছে। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৫৯৬ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৩৩ জন।
এবার বোর্ডের অধীন ২৮৩টি কলেজের মধ্যে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন কলেজের সংখ্যা ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ছয়টি কলেজ। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল আটটি এবং ২০২৪ সালে ১৩টি।এ ছাড়া এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২২ হাজার ১১৪ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হয়েছেন ২৭ জন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ