আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

পূর্বাচল উপশহর এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য ॥ আট বছরে ২১ লাশ উদ্ধার

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজউকের পূর্বাচল উপশহর এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। এলাকাটি লাশের ডাম্পিং স্পটে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ স্থান হিসেবে অন্যত্র হত্যা করে পূর্বাচলে লাশ ফেলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গত আট বছরে এখানে ২১টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পূর্বাচলে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ ও মারামারিসহ নানা অপরাধ বেড়েই চলছে। পূর্বাচলে এখনো সময়উপযোগী জনবসতি গড়ে না ওঠায় অপরাধীরা নির্বিঘেœ অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আশানুরূপ না হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে নিরাপদে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পরেই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা এখানে বাড়তে থাকে। পূর্বাচলের প্রত্যেকটি এলাকাই দুর্গম। পূর্বাচল উপশহরে ঘটে চলছে একের পর এক অপরাধ। পূর্বাচল উপশহর যেন এখন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’।
পূর্বাচলের পলখান, গোবিন্দপুর, বাগলা, চাপড়ি, ধামছি, মাঝিপাড়া, রঘুরামপুর, গুতিয়াবো, পশি, হাড়ারবাড়ী, আলমপুরা, খাইলসা, পিংনাল, কালনি, সুলপিনাসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ডাকাত আতঙ্কে থাকেন। চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদী পশুর মালিকরা থাকেন আতঙ্কে।
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে গড়ে উঠা পূর্বাচল উপশহর এখন নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে । শহরের ব্যস্ততা থেকে একটুখানি অবসরে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসে পূর্বাচলে। দৃষ্টিনন্দন ৩০০ ফুট সড়ক এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। পূর্বাচলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হরেক রকমের কয়েক হাজার দোকানপাট। গড়ে ওঠেছে শতাধিক নার্সারী। স্থান পেয়েছে দেশী-বিদেশী নানা রকমের খাবারের দোকান। নৌ-ভ্রমন আর সামুদ্রিক মাছ খেতে ছুটেচ আসেন রসনাবিলাসিরা। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বাচলে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সন্ধার পর সময় ভাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে নীরবতা। রীতিমতো গা ছমছমে পরিবেশ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি জসিম উদ্দিনের সাত টুকরো লাশ পূর্বাচলের ৫নং সেক্টরের একটি লেক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরকীয়ার জের ধরে তাকে ঢাকার কোনো এক স্থানে হত্যা করা হয়। তারপর নিরাপদ স্থান হিসাবে পূর্বাচলে লাশ ফেলে রাখে। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সেতুর নিচ থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের বেশ কিছু কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ জুলাই পূর্বাচলের ১৯নম্বর সেক্টর থেকে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ২৪ আগস্ট পূর্বাচলের ২০নম্বর সেক্টর এলাকার একটি সবজি ক্ষেত থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০২২ সালের ১৯মে পূর্বাচলের ২৫ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে মজিবুর রহমানের নামের এক ব্যাক্তির লাশ ও একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টর থেকে মিলন মিয়ার লাশ, একই বছরের ২৩ আগস্ট ৪ নম্বর সেক্টর থেকে ৭ মাসের নবজাতকের লাশ, ৮ অক্টোবর পূর্বাচলের ৭ নম্বর সেক্টর থেকে হৃদয় হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর পূর্বাচলের ২৬ নম্বর সেক্টর থেকে সাইফুল ইসলাম নামের এক ইজিবাইক চালকের লাশ ও অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্বাচলের ৮ নম্বর সেক্টর থেকে মজুর উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৯ সালে পূর্বাচলের ভোলানাথপুর এলাকার কাশফুলের ঝোপ থেকে এক ধর্ষিতা তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই বছরের ১৬ নভেম্বর নিখোঁজের ৪ দিন পর মাওলা নামের অটোচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের ১১ নম্বর সেতুর নিচ থেকে গুলিবিদ্ধ সোহাগ, শিমুল ও আজাদ নামের তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৭ নভেম্বর পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৭ সালের ২জুন পূর্বাচলের গুতিয়াবো এলাকা থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মারাত্মক ধরণের বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল পূর্বাচলের ১৩ নম্বর সেক্টরে ব্রিফকেসের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর হযরত শহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক সৌদী প্রবাসীকে গাড়ি করে পূর্বাচলে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে জিম্মি করের তার সঙ্গে থেকে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ ১৫লক্ষাধিক টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পূর্বাচলে ছিনতাইয়ে সক্রিয় রয়েছে ৮টি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে ৪৫ জন সদস্য রয়েছে। ২০১৯ সালের ১০মে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট রোডের ছমু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সাইফুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান, ওবায়দুর রহমান এবং বেলায়েত হোসেনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া ২০১৭ সালের ৩ জুন পূর্বাচল উপ-শহরের ৫নং সেক্টরের একটি খাল থেকে ৬১টি চায়না মেশিনগান, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের ৫টি পিস্তল, ২টি রকেট লঞ্চার, ৪২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি মর্টারশেল, ২টি ওয়্যারলেস সেট, ১৫২৭ রাউন্ড গুলি, ৪৪টি ম্যাগাজিন ও ৪৯টি রকেট লঞ্চার প্রজেক্টর উদ্ধার করা হয়। পূর্বাচল সুনসান হওয়ায় এখানে ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।
মানুষ হত্যার পর নিরাপদ স্থান হিসেবে পূর্বাচলের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘেœ লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। পূর্বাচল দুপুরের পর থেকে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত পর্যটকে মুখোরিত থাকে। এর পর সময় ভাড়ার সাথে সাথে নিরব হতে থাকে পুরো এলাকা। ৩০০ ফুট সড়কে সড়কবাতি থাকলেও পূর্বাচলের ভেতরে শাখা-উপশাখা রাস্তাগুলোতে কোনো সড়কবাতির ব্যবস্থা নেই। এ কারণে পূর্বাচলের ভেতরের রাস্তাগুলো থাকে অন্ধকার, নির্জন, নীরব ও সুনসান। সুযোগ পেয়ে অপরাধীরাও অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। কেউ চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতি করে। কেউবা সঙ্গীয় পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে নারীদের উপর নির্যাতন চালায়। কেউবা অন্যত্র হত্যা করে এখানে লাশ ফেলে দেয়।
পূর্বাচলের বাঘবের গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজউকের অধীনে পূর্বাচলের জমি অধিগ্রহণ করার পর আদিবাসিন্দাদের অনেকেই অন্যত্র বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। পূর্বাচলের কোন কোন স্থানে প্লট প্রাপ্তরা ভবন নির্মাণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাঁকা জমি পড়ে আছে। সুযোগ পেয়ে রাতে এখানে বেশিরভাগ সময় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।
পূর্বাচলের মধুখালী গ্রামের জিন্নাত আলী বলেন, সন্ধ্যার পরেই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়তে থাকে। পূর্বাচলের প্রত্যেকটি এলাকাই দুর্গম। পূর্বাচল উপশহরে ঘটে চলছে একের পর এক অপরাধ। পূর্বাচল উপশহর যেন এখন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’।
পূর্বাচলের কাদিরাটেক গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া বলেন, পূর্বাচলে পুলিশের নিয়মিত টহল থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। অবিলম্বে পুলিশের টহল এখানে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
রূপগঞ্জ থানা ওসি লিয়াকত আলী বলেন, জনবল সংকট থাকায় আমাদের টহল কার্যক্রমে কিছুটা বিঘœ ঘটছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, পূর্বাচলের পুলিশ ক্যাম্প পুণরায় চালু করা হবে। পুর্বাচলে শিগগিরি পুলিশের টহল বাড়ানো হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ