আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’ নিয়ে শীর্ষক কমর্শালা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মোহাম্মদ জুনায়েদ জুলাই বিপ্লবের বীরযোদ্ধা। জুলাইয়ের ১৮ তারিখে তার ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ননায় উপস্থিত সকলের আবেগে আপ্লুত হয়ে যান। তাকে সেদিন সরকারি সিটি কলেজের সামনে ছাত্রলীগের সদস্যরা লোহার রড দিয়ে আঘাত করে পুরো শরীরটা ক্ষত-বিক্ষত করেছিলো। হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ভেবে মর্গে(লাশঘর) পাঠিয়ে দেন। ৭-৮ ঘন্টার পর আল্লাহ অশেষ কৃপায় লাশঘরে তার জ্ঞান ফিরে আসে। অতঃপর সে বেঁচে যায়। কিন্তু দুই পা এখনও ভালো হয়নি। হাঁটার জন্য কৃত্রিম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এরকম হাজারো তরুন-কিশোরের আত্মহুতির বিনিময়ে এই জুলাই বিপ্লব। তাই এই বিপ্লবকে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। এ জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
নগরীর একটি রেস্টুরেন্ট কনফারেন্স হলে বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন আইএসডিই বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) কর্তৃক আয়োজিত “পরিবর্তিত পরিস্থিতিঃ শিক্ষার্থী-যুব ভাবনায় ভবীষ্যত বাংলাদেশ” শীর্ষক কমর্শালায় অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন তরুনরা এভাবেই তাদের অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট(এএলআরডি) এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই’র নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি আবু হানিফ নোমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন, ছাত্র নেতা আল রাজী, আরমান শাহরিয়ার সৌরভ, করিমুল ইসলাম, সাফার আহমেদ, তানিয়া সুলতানা, ইমদাদুল ইসলাম, জাহিন আরমান, রাসেল উদ্দীন, রায়হান উদ্দীন, আবুল কাসেম, সুমইয়া, ইশরাফুল হক চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ, রাইসুল ইসলাম, নাফিজা নবী, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনায় জুলাই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যত্থানে অংশগ্রহনকারী ছাত্র ও যুব নেতারা তাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারা কি উদ্দ্যেশ্য অর্জনের জন্য এই আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন তার ব্যাখা প্রদান করেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা আশা করেন অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। অধিকার ভোগ করতে গিয়ে আবার কারও অধিকার যেন হরণ করা না হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। অর্ন্তবতীকালীন সরকার নানা সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে তেমন একটা সংস্কার না করায় হতাশ হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে কমিশন গঠন এবং শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কার আনার দাবি জানান। একই সাথে কর্মমূখি শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের আহবান জানান।
অংশগ্রহনকারীরা আরও বলেন কৃষি ও ভূমি সংস্কারে গুরুত্ব প্রদান করে কৃষি ও ভূমি সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন কৃষিতে রাসায়নিক সার ও বীজ ব্যবহারের কারনে একজনমানুষ প্রতিবছর ৪০০-৫০০ গ্রাম বিষ নিচ্ছে। তাই কৃষিতে জৈব সার ও প্রাকৃতিক কৃষির ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করার আহবান জানান।
শিক্ষার্থী ও তরুনদের জন্য খন্ডকালীন চাকুরীর ব্যবস্থা প্রবর্তন করে তাদেরকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করা ও পড়াশুনা শেষ করেই যেন প্রকৃত শিক্ষা লাভ করে চাকুরীতে যোগ দিতে পারে তার জন্য পরিবেশ তৈরীর আহবান জানান। কারণ প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হলেও বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে কর্মজীবনে যোগ দিতে পারে না।সেজন্য কারিগরী শিক্ষার প্রসারে আরও জোর দেয়া দরকার। তরুনদেরকে উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে মুলধন সরবরাহে জমানতবিহীন ঋন প্রদান, যারা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋন নিয়েছে তাদেরকে অগ্রাধিকার বিধান বাতিল করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত প্রথা সংস্কারের দাবিও জানান।
নিত্যপণ্যের বাজার সংস্কারে পৃথক সংস্কার কমিশন গঠন করা, কিছু সময়ের জন্য বাজারে তদারকির মিডিয়া ট্রায়েল বন্ধ করে সিন্ডিকেটের আসল হোতাদেরকে কঠোর আইনের আওতায় শাস্তির দাবির জানান। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বঞ্চিত ও মেধাবীদের পুনঃবহালের দাবি জানান। বিগত সরকারের আমলে সরকারি বেসরকারী অফিস আদালত, সেবপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় দালালি ও ঘুষবানিজ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান। একই সাথে সরকারি তথ্য প্রাপ্তিতে জঠিলতা দূর করা, সরকারি কর্মকর্তারা জনগনের প্রভু নয়, জনগনের সেবক ও জনগনের করের টাকায় তাাদের বেতন ভাতা প্রদান করা এই বিষয়টি যে কোন বুনিয়াদি প্রশিক্ষনে অর্ন্তভুক্ত করা ও তাদের মানষিকতা পরিবর্তনে প্রচলিত প্রথার সংস্কারের দাবি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অবৈধ স্থাপনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি অবৈধ দখল ও নাগরিক অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সোমবার সকালে মেয়র প্রথমে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন।

এ সময় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন মেয়র। পরে বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান খাল সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণেরও নির্দেশ দেন মেয়র।এরপর তিনি ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ফরিদার পাড়া এলাকায় পরিচালিত নালা ও খাল পরিষ্কার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেললে খাল-নালা আবারও ভরাট হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

মাত্র এক ঘণ্টায় পানি নেমে গেছে, এটি ইতিবাচক দিক—সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর চলমান খাল সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় পানি জমলেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “এবার পানি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে গেছে, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা।


শনিবার রাতে প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিদর্শনে এসে মেয়র বলেন, খাল সংস্কার ও বাঁধ অপসারণের কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। তবে নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও সিডিএ’কে অন্তত পাঁচ থেকে সাত দিন সময় দিতে হবে।তিনি জানান, হিজড়া খাল, জামালখান খাল, মুরাদপুর খাল ও রামপুর খালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৩০টি বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঁচ দিন সময় চাওয়া হলেও শনিবার আবারও বৃষ্টি হওয়ায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে তাই তিনি অতিরিক্ত আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে আরও কয়েকদিন সময় বাড়ানো হতে পারে।

মেয়র বলেন, “যেকোনো ভারী বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য পানি জমতেই পারে। কিন্তু সেটি দীর্ঘসময় স্থায়ী হলেই কেবল তাকে জলাবদ্ধতা বলা যায়। আগে অনেক এলাকায় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত পানি থাকত, এখন এক ঘণ্টার মধ্যেই নেমে যাচ্ছে। এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে।তিনি আরও বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চসিক ইতোমধ্যে ১৫ এপ্রিল থেকে নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে, যা আগামী ছয় মাস অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নগরীর ২১টি খাল খননের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, সিডিএর অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বিভিন্ন খাল ও সেতু সংলগ্ন এলাকায় কাজ করছে। তবে নগরবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় কিছু স্থানে সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত রেখে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।তিনি বলেন, “রিটেইনিং ওয়াল ও শিটপাইলের কিছু কাজ এখনই শেষ করা সম্ভব হবে না। কারণ এগুলো সরিয়ে ফেললে রাস্তা ও খালের ক্ষতি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

মেয়র আরও জানান, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে। তাই এর আগেই ২০ মে’র মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে।
জলাবদ্ধতায় সাময়িক ভোগান্তির জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, “আমরা সবাই মিলে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া জরুরি।”

তিনি দাবি করেন, আগে যেসব এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ছিল, তার অনেকগুলোতেই এবার পানি জমেনি। তবে হিজড়া খাল, কাট্টলী, গেইটস মোড়, চকবাজার ও জামালখান এলাকার কিছু অংশে পানি জমার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ