আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’ নিয়ে শীর্ষক কমর্শালা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মোহাম্মদ জুনায়েদ জুলাই বিপ্লবের বীরযোদ্ধা। জুলাইয়ের ১৮ তারিখে তার ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ননায় উপস্থিত সকলের আবেগে আপ্লুত হয়ে যান। তাকে সেদিন সরকারি সিটি কলেজের সামনে ছাত্রলীগের সদস্যরা লোহার রড দিয়ে আঘাত করে পুরো শরীরটা ক্ষত-বিক্ষত করেছিলো। হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ভেবে মর্গে(লাশঘর) পাঠিয়ে দেন। ৭-৮ ঘন্টার পর আল্লাহ অশেষ কৃপায় লাশঘরে তার জ্ঞান ফিরে আসে। অতঃপর সে বেঁচে যায়। কিন্তু দুই পা এখনও ভালো হয়নি। হাঁটার জন্য কৃত্রিম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এরকম হাজারো তরুন-কিশোরের আত্মহুতির বিনিময়ে এই জুলাই বিপ্লব। তাই এই বিপ্লবকে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। এ জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
নগরীর একটি রেস্টুরেন্ট কনফারেন্স হলে বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন আইএসডিই বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) কর্তৃক আয়োজিত “পরিবর্তিত পরিস্থিতিঃ শিক্ষার্থী-যুব ভাবনায় ভবীষ্যত বাংলাদেশ” শীর্ষক কমর্শালায় অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন তরুনরা এভাবেই তাদের অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট(এএলআরডি) এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই’র নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি আবু হানিফ নোমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন, ছাত্র নেতা আল রাজী, আরমান শাহরিয়ার সৌরভ, করিমুল ইসলাম, সাফার আহমেদ, তানিয়া সুলতানা, ইমদাদুল ইসলাম, জাহিন আরমান, রাসেল উদ্দীন, রায়হান উদ্দীন, আবুল কাসেম, সুমইয়া, ইশরাফুল হক চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ, রাইসুল ইসলাম, নাফিজা নবী, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনায় জুলাই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যত্থানে অংশগ্রহনকারী ছাত্র ও যুব নেতারা তাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারা কি উদ্দ্যেশ্য অর্জনের জন্য এই আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন তার ব্যাখা প্রদান করেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা আশা করেন অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। অধিকার ভোগ করতে গিয়ে আবার কারও অধিকার যেন হরণ করা না হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। অর্ন্তবতীকালীন সরকার নানা সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে তেমন একটা সংস্কার না করায় হতাশ হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে কমিশন গঠন এবং শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কার আনার দাবি জানান। একই সাথে কর্মমূখি শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের আহবান জানান।
অংশগ্রহনকারীরা আরও বলেন কৃষি ও ভূমি সংস্কারে গুরুত্ব প্রদান করে কৃষি ও ভূমি সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন কৃষিতে রাসায়নিক সার ও বীজ ব্যবহারের কারনে একজনমানুষ প্রতিবছর ৪০০-৫০০ গ্রাম বিষ নিচ্ছে। তাই কৃষিতে জৈব সার ও প্রাকৃতিক কৃষির ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করার আহবান জানান।
শিক্ষার্থী ও তরুনদের জন্য খন্ডকালীন চাকুরীর ব্যবস্থা প্রবর্তন করে তাদেরকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করা ও পড়াশুনা শেষ করেই যেন প্রকৃত শিক্ষা লাভ করে চাকুরীতে যোগ দিতে পারে তার জন্য পরিবেশ তৈরীর আহবান জানান। কারণ প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হলেও বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে কর্মজীবনে যোগ দিতে পারে না।সেজন্য কারিগরী শিক্ষার প্রসারে আরও জোর দেয়া দরকার। তরুনদেরকে উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে মুলধন সরবরাহে জমানতবিহীন ঋন প্রদান, যারা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋন নিয়েছে তাদেরকে অগ্রাধিকার বিধান বাতিল করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত প্রথা সংস্কারের দাবিও জানান।
নিত্যপণ্যের বাজার সংস্কারে পৃথক সংস্কার কমিশন গঠন করা, কিছু সময়ের জন্য বাজারে তদারকির মিডিয়া ট্রায়েল বন্ধ করে সিন্ডিকেটের আসল হোতাদেরকে কঠোর আইনের আওতায় শাস্তির দাবির জানান। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বঞ্চিত ও মেধাবীদের পুনঃবহালের দাবি জানান। বিগত সরকারের আমলে সরকারি বেসরকারী অফিস আদালত, সেবপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় দালালি ও ঘুষবানিজ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান। একই সাথে সরকারি তথ্য প্রাপ্তিতে জঠিলতা দূর করা, সরকারি কর্মকর্তারা জনগনের প্রভু নয়, জনগনের সেবক ও জনগনের করের টাকায় তাাদের বেতন ভাতা প্রদান করা এই বিষয়টি যে কোন বুনিয়াদি প্রশিক্ষনে অর্ন্তভুক্ত করা ও তাদের মানষিকতা পরিবর্তনে প্রচলিত প্রথার সংস্কারের দাবি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই নিচু এলাকা প্লাবিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মাত্র ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকাতে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার রাস্তাগুলো নোংরা পানিতে ডুবে আছে। ফলে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠে। কোথাও হাঁটু, কোথাওবা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালের মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার সড়কগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো মাঝপথেই আটকে যাচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই পথচারীদের কষ্ট করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

তবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য চিরচেনা এলাকা প্রবর্তক মোড়ে অবশ্য এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানকার হিজড়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলমান কাজের সুবাদে প্রবর্তক মোড়ে আগের মতো পানি জমেনি। তবে প্রবর্তক মোড় রক্ষা পেলেও এর আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো ঠিকই পানিতে ডুবে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভোগান্তি খুব একটা কমেনি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের বিএফও মাহবুবুল আলম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মেঘের ঘনত্বের কারণে অল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টি হওয়ায় নিচু এলাকায় পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি ও খালগুলোর সংস্কার কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামকে এখনো ডুবতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বহু বছর ধরে আমরা একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছি। একের পর এক মেগা প্রকল্প আসে, কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয়, সামনের দিনগুলোতে কী হবে?
ভোগান্তিতে পড়া রিকশাচালক মো. জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহুদিন ধরে আমরা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ছুটির দিন হলেও আমাদের তো আয়ের আশায় বের হতে হবে। কিন্তু রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।

আদালতে জামিন চাইতে এসে প্রতারণার মামলায় কারাগারে গেলেন শিক্ষক দম্পতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার ৫৫নং রহমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার (৪২) ও তার স্ত্রী হ্যাপী রানী নন্দী (৩৫) নামের শিক্ষক দম্পতি জাল জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় জামিন চাইতে এসে আত্মসমর্পন করলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ থাকায় শুনানী শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আদালত। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এস.এম আলাউদ্দিন মাহমুদ এই আদেশ দেন। শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ৩নং ওয়ার্ডের মৃত ধীরেন্দ্র মজুমদারের ছেলে।

আদালত সূয়ত্রে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে সন্দ্বীপ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৪২৯ নং পাওয়ার অব অ্যাটর্নিমূলে জমি রেজিস্ট্রি করেন এবং ২০২৩ সালের ৯ মে তারিখে ১৯৫৭ নং রেজিস্ট্রিকৃত সাফ কবলা ও একই সালের ৮ জুন তারিখে ২৩৩১ ও ২৫৩২ নং সাফ কবলা রহমতপুরের একটি জায়গার রেজিস্ট্রি করান শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার গং। তারা প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিলকে বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার করে সন্দ্বীপ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আবেদন কওে ৪৩১০ নং বি.এস খতিয়ান সৃজন করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট জমি বিক্রি করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করায় ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর হাউজিং সোসাইটি এলাকার আই-্ব্লক এলাকায় একা পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি দাশের উপর হামলা করেন শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার গং।

এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রতন দাশ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন, যাহার মামলা নং-৭২৪/২৫ (হালিশহর)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্টোকে নির্দেশ দেন। পিবিআই নিরপেক্ষ দীর্ঘ তদন্তে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ও মারধরের ঘটনা প্রমাণিত হয় এবং পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। পরে আদালত মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক দম্পতি সহ

অপরাপর আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পর সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার চিকিৎসাজনিত দুই বার ছুটিতে থাকেন। গত ১৭ জুন শিক্ষক দম্পতি আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জামিন চাইলে, আদালত শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এ মামলার অপরাপর আসামীরাও কারাভোগ করেছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ