আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’ নিয়ে শীর্ষক কমর্শালা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মোহাম্মদ জুনায়েদ জুলাই বিপ্লবের বীরযোদ্ধা। জুলাইয়ের ১৮ তারিখে তার ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ননায় উপস্থিত সকলের আবেগে আপ্লুত হয়ে যান। তাকে সেদিন সরকারি সিটি কলেজের সামনে ছাত্রলীগের সদস্যরা লোহার রড দিয়ে আঘাত করে পুরো শরীরটা ক্ষত-বিক্ষত করেছিলো। হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ভেবে মর্গে(লাশঘর) পাঠিয়ে দেন। ৭-৮ ঘন্টার পর আল্লাহ অশেষ কৃপায় লাশঘরে তার জ্ঞান ফিরে আসে। অতঃপর সে বেঁচে যায়। কিন্তু দুই পা এখনও ভালো হয়নি। হাঁটার জন্য কৃত্রিম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এরকম হাজারো তরুন-কিশোরের আত্মহুতির বিনিময়ে এই জুলাই বিপ্লব। তাই এই বিপ্লবকে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। এ জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
নগরীর একটি রেস্টুরেন্ট কনফারেন্স হলে বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন আইএসডিই বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) কর্তৃক আয়োজিত “পরিবর্তিত পরিস্থিতিঃ শিক্ষার্থী-যুব ভাবনায় ভবীষ্যত বাংলাদেশ” শীর্ষক কমর্শালায় অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন তরুনরা এভাবেই তাদের অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট(এএলআরডি) এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই’র নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি আবু হানিফ নোমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন, ছাত্র নেতা আল রাজী, আরমান শাহরিয়ার সৌরভ, করিমুল ইসলাম, সাফার আহমেদ, তানিয়া সুলতানা, ইমদাদুল ইসলাম, জাহিন আরমান, রাসেল উদ্দীন, রায়হান উদ্দীন, আবুল কাসেম, সুমইয়া, ইশরাফুল হক চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ, রাইসুল ইসলাম, নাফিজা নবী, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনায় জুলাই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যত্থানে অংশগ্রহনকারী ছাত্র ও যুব নেতারা তাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারা কি উদ্দ্যেশ্য অর্জনের জন্য এই আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন তার ব্যাখা প্রদান করেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা আশা করেন অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। অধিকার ভোগ করতে গিয়ে আবার কারও অধিকার যেন হরণ করা না হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। অর্ন্তবতীকালীন সরকার নানা সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে তেমন একটা সংস্কার না করায় হতাশ হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে কমিশন গঠন এবং শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কার আনার দাবি জানান। একই সাথে কর্মমূখি শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের আহবান জানান।
অংশগ্রহনকারীরা আরও বলেন কৃষি ও ভূমি সংস্কারে গুরুত্ব প্রদান করে কৃষি ও ভূমি সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন কৃষিতে রাসায়নিক সার ও বীজ ব্যবহারের কারনে একজনমানুষ প্রতিবছর ৪০০-৫০০ গ্রাম বিষ নিচ্ছে। তাই কৃষিতে জৈব সার ও প্রাকৃতিক কৃষির ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করার আহবান জানান।
শিক্ষার্থী ও তরুনদের জন্য খন্ডকালীন চাকুরীর ব্যবস্থা প্রবর্তন করে তাদেরকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করা ও পড়াশুনা শেষ করেই যেন প্রকৃত শিক্ষা লাভ করে চাকুরীতে যোগ দিতে পারে তার জন্য পরিবেশ তৈরীর আহবান জানান। কারণ প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হলেও বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে কর্মজীবনে যোগ দিতে পারে না।সেজন্য কারিগরী শিক্ষার প্রসারে আরও জোর দেয়া দরকার। তরুনদেরকে উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে মুলধন সরবরাহে জমানতবিহীন ঋন প্রদান, যারা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋন নিয়েছে তাদেরকে অগ্রাধিকার বিধান বাতিল করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত প্রথা সংস্কারের দাবিও জানান।
নিত্যপণ্যের বাজার সংস্কারে পৃথক সংস্কার কমিশন গঠন করা, কিছু সময়ের জন্য বাজারে তদারকির মিডিয়া ট্রায়েল বন্ধ করে সিন্ডিকেটের আসল হোতাদেরকে কঠোর আইনের আওতায় শাস্তির দাবির জানান। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বঞ্চিত ও মেধাবীদের পুনঃবহালের দাবি জানান। বিগত সরকারের আমলে সরকারি বেসরকারী অফিস আদালত, সেবপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় দালালি ও ঘুষবানিজ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান। একই সাথে সরকারি তথ্য প্রাপ্তিতে জঠিলতা দূর করা, সরকারি কর্মকর্তারা জনগনের প্রভু নয়, জনগনের সেবক ও জনগনের করের টাকায় তাাদের বেতন ভাতা প্রদান করা এই বিষয়টি যে কোন বুনিয়াদি প্রশিক্ষনে অর্ন্তভুক্ত করা ও তাদের মানষিকতা পরিবর্তনে প্রচলিত প্রথার সংস্কারের দাবি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে এলেন নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen এর নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরে আগমনের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। চেয়ারম্যান জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জন সমূহ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

তিনি বিগত সময়ের নানা অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য, অগ্নী দূর্ঘটনা ও ডিজিটাইজেশনে বাধাসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সমূহ মোকাবেলা করে বন্দরের নানা যুগোপযুগি সংস্কার করেছেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং রেকর্ড, জাহাজের টার্ন এরাউন্ড টাইম হ্রাস, ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি, সর্বাধিক মুনাফা অর্জন, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, ডিজিটাইজেশন, ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএস এর জিরো অবজারভেশন প্রভৃতি বিষয়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি প্রতিনিধিদলকে আরো জানান যে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরটি বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচল ও প্রতিবেশী দেশের মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নৌ বাণিজ্যি হাবে পরিনত হবে যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে । এতে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে । চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানীকৃত রেফার কন্টেইনার সংরক্ষনে কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের ব্যাপারে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তাছাড়া বন্দরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ইতিবাচক ভূমিকা থাকার কারনে বন্দরে নির্বিঘ্নে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মর্মে মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ও ভবিষ্যত কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বন্দরকে আরো দক্ষ, অধুনিক ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বাংলাদেশে বন্দর কেন্দ্রিক বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাস্ট্র থেকে রপ্তানীকৃত পণ্য খালাস কাজে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিত কামনা করেন। সৌজন্য সাক্ষাতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধিদলেরে Micheal Pennell, Economic Unit Chief, Paul Frost, Commercial Counselor, Firoze Ahmed, Political Specialist, Asif Ahmed, Economic Specialist চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ ওমর ফারুক ও সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলাসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

নতুন প্রজন্মের হাত ধরে কাঙ্খিত সাফল্যের বন্দরে নোঙর করতে পারবো : মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অনেকদূর এগিয়ে এসেছি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেছেন, মোবাইলে স্ক্রলিং করছিলাম। দেখলাম একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী অভিযোগ করছেন, তোমরা বিনিয়োগ বিনিয়োগ করো, বিনিয়োগের জন্য রোড শো করো।

সোমবার রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা করেন। এ সময় তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন অনুকূল পরিবেশ পাবেন তখন তাঁরা আমাদের অ্যাম্বাসাডর হবেন বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অনেকদূর এগিয়ে এসেছি। আমরা এগোচ্ছি, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমার মনে হয় যে গতিতে এগোনোর কথা সেটা পারছি না। তাই সিরিয়াস হতে হবে। আমি আশাবাদী, নতুন প্রজন্ম আমাদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ। আমি আশা করি, তাদের হাত ধরে আমাদের কাঙ্খিত সাফল্যের যে বন্দর তাতে নোঙর করতে পারবো। জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবো।

সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি পাবলিক ট্রাস্ট ও কনফিডেন্ট অর্জন করতে না পারে, আমরা যদি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা অর্জন করতে না পারি তাহলে আমাদের অস্তিত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। তাই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় অধিকতর দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক হতে হবে।

পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গ খাপ খাইয়ে উন্নয়নের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে হবে। মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হবে। যারা সেবা দিচ্ছি, যারা নিচ্ছেন সবাই দেশের নাগরিক। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যদি আমরা কাজ করি, হৃদয়ে ধারণ করি হৃদয়ঙ্গম করি তাহলে আমরা উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কাস্টমস’ প্রতিপাদ্যে এবার কাস্টমস দিবস উদযাপিত হচ্ছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম। প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশ কাস্টমসের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাস্টমস বন্ড কমিশনার মো. মাহফুজুল হক ভূঞা বলেন, ২২ বছর কাস্টমস ও ভ্যাটে চাকরি করছি। শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীদের কাছে সময় গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরে আমদানি পণ্য পড়ে থাকা মানে ডেমারেজ। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের স্টাফদের আইনি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। তাহলে আর সময়ক্ষেপণ হবে না।

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সাল মো. মুরাদ বলেন, আমি যে চেয়ারে বসেছি তার বিপরীতে যিনি বসেছেন তিনি আমার চেয়ারেও বসতে পারতেন। সেটি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করলে সমস্যা থাকে না। মাইন্ডসেট চেঞ্জ করতে হবে।

কক্সবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. ফজলুল হক বলেন, কাস্টমসের মূল কাজ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন। এনবিআর অটোমেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এবার আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল হয়েছে। আমার অনুরোধ, সবাই সঠিক কাজটি করবো।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাস্টমস রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ করে। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। তাই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাস্টমসের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, সমৃদ্ধ করতে হবে।
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবিদা সুলতানা বলেন, আশা করি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কাস্টমস সেবা আরও বিস্তৃত হবে। নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করতে হবে। রপ্তানিতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই আমরা।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন বলেন, কাস্টমস বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন আর্থসামাজিক প্রতিষ্ঠান। এটি বর্ডার ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। মানি লন্ডারিং বন্ধে কাস্টমসের ভূমিকা দৃঢ় হচ্ছে। ই অকশন কার্যক্রম গতিশীল করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়নে কাস্টমস নিরন্তর কাজ করছে। জাতীয় সুরক্ষায় কাজ করছে কাস্টমস।

সভাপতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক ও কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনার আবুল বাসার মো. শফিকুর রহমান বলেন, কাস্টমসকে জাতীয় ও সমাজের সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হয়। অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় আমাদের ব্যবসায়ীদের। তাই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সর্বোত্তম চেষ্টা করবো দেশের উন্নয়নের জন্য। এ দেশকে ভালোবাসতে হবে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ