আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

স্কুল ছাত্রকে অস্ত্রসহ আটক, দেশজুড়ে সমালোচনা

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের টেকনাফে ১৪ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রকে অস্ত্রসহ আটক করার দাবি করেছে পুলিশ। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার হ্নীলা দরগাহ পাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়। যদিও শিশুর পরিবারের দাবি শিশু থেকে কোন অস্ত্র পাওয়া যায়নি। অন্যের অস্ত্র শিশুর নামে দেখিয়ে তাকে আটক দেখানো হয়। শিশুকে অস্ত্রসহ আটকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।

আটক হওয়া স্কুলছাত্রের নাম তৌসিফুল করিম রাফি। আমাদের হাতে আসা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর। যদিও পুলিশ উল্লেখ করেছে ১৬ বছর। সে হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। তার বাবা রেজাউল করিম হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

এদিকে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাফির পরিবার। আমাদের হাতে আসা রাফির বাবা রেজাউল করিমের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের বাড়িতে পুলিশ কিছু না পেয়ে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে ভয়ভীতি দেখায়। তারপর আমার ছেলেকে গুলি করার হুমকি দিয়ে স্থানীয় মো. সেলিমসহ কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিলে অস্ত্র দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়েছে।’

মামলার এক নং সাক্ষী মাওলানা জামাল হোসেনের দাবি, তাকে মসজিদে যাওয়ার পথে আটকে একটি ঘরে ডুকিয়ে জোর পূর্বক সাক্ষী বানায়। তিনি এই শিশুর হাতে অস্ত্র দেখেন নি।

মামলার দুই নং সাক্ষী সুফাইদা আক্তারের বলেছেন, পুলিশ তার বাড়ি থেকে অস্ত্র পেয়েছে দাবি করেছেন এবং পরবর্তীতে এই শিশুকে নিজের বাড়ি থেকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে এবং অস্ত্র তার বলে ভিডিও স্টেটমন্টে নেন।

হ্নীলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মাদ রায়হান তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেন, রাফি অসম্ভব মেধাবী । ২০২২ সালে গুলফরাজ হাশেম ফাউন্ডেশন বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। এবছর সপ্তম শ্রেণিতে প্রতিভার আলো, ড.গাজী কামরুল ইসলাম মেধা বৃত্তি এবং হ্নীলা একাডেমি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতো। আমার কাছে প্রাইভেটে পড়ে। গতকাল সবাই বার্ষিক পরীক্ষা দিলো, রাফি ছাড়া। আমার ছাত্রের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং অনতিবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি চাই। প্রতিহিংসার নোংরা রাজনীতি একটা মেধাবী ছেলের জীবন তছনছ করে দিলো।

হ্নীলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ সোহেল এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে লিখেন, ‘তাওসীফুল করিম রাফি ছাত্র হিসেবে খুবই মেধাবী। একটু শ্যায় টাইপের। বড়দের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। মুখে অলওয়েজ হাসিঁ থাকে। সবে মাত্র কৈশোরে পা দিল। তার সাথে এটা বড় অবিচার হয়ে গেল। জানি না কিভাবে সে এই ট্রমা কাটিয়ে উঠবে। রাফির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি ।’

বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন টিটিএন-কে জানান, বুধবার রাতে অভিযান চলাকালীন পুলিশ দেখে ২ জন পালিয়ে যেতে চাইলে রাফিকে ধরে ফেলে তারা। তারপর তার ডান হাতে থাকা নীল রঙের শপিং ব্যাগ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি এবং ৪০ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করার দাবি করেন ওসি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আমাদের কাউকে হয়রানি করার কোন উদ্দেশ্য নেই। একজন শিশুর সাথে তো আমাদের কোন শত্রুতা থাকতে পারে না। তার বাবা তাকে দিয়ে অস্ত্রটা বহন করিয়েছে। যেটা জেনুইন ঘটনা সেটাই আমরা করেছি। রাফি বিষয়টি আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, তার বাবা তাকে দিয়ে বহন করিয়েছে। নিরীহ মানুষ কোনদিন আমাদের কাছে হয়রানির স্বীকার হবে না।

ওসি আরও জানান, মুলত শিশু রাফির বাবা রেজাউল করিম চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ইয়াবাকারবারের সাথে জড়িত। যার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এলাকায় এটা সবাই জানে। সন্ত্রাসী কাজের জন্য লাইসেন্সবিহীন এই অস্ত্র মজুদ করেছিল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ