আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে নিত্য যানজট, ভেঙ্গে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ কদমতলী রেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকি নিয়ে উল্টো পথে চলাচল করে বিভিন্ন যানবাহন। রিক্সা, অবৈধ ব্যাটারী রিক্সা ও মোটর সাইকেল থেকে শুরু করে সকল ধরণের গণ ও পণ্য পরিবহণ সুযোগ পেলেই সিগনাল পোস্ট অমান্য করে উল্টো পথে চলাচল করে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও হেলমেট, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সবিহীন মোটর সাইকেল চালিয়ে বেপরোয়াভাবে উল্টো পথে চালিয়ে রেল ক্রসিং পার হতে দেখা যায়। সিগনাল না মানার কারণে অনেক সময় ক্রসিংয়ের মাঝখানে রেলের সাথে বিভিন্ন যানবাহন মুখোমুখি হতে দেখা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ভেঙ্গে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সৃষ্টি হয় নিত্য যানজট। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের টিআই (সদরঘাট) মোশারফ হোসেন ও রেলওয়ের কিছু কিছু কর্মচারীর উদাসীনতার কারণে কদমতলী রেল ক্রসিং ও আশপাশের এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। সিগনাল অমান্য করে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর কারণে কদমতলী, আমবাগান, খুলশী ও পাহাড়তলীসহ অন্যান্য রেল ক্রসিংগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে ভূক্তভোগীরা জানান। তবে এসব অব্যবস্থাপনার জন্য ট্রাফিক বিভাগকে দায়ী করেছে রেলওয়ে।
জানা গেছে, কয়েক দিন আগে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে একজন আরএনবি সদস্যের হাত কাটা পড়েছে। কদমতলী রেল ক্রসিংয়ের উভয় পার্শ্বে ৪টি সিগনাল ব্যারিয়ার রয়েছে। এখানে ২৪ ঘন্টায় তিন শিফটে ৪ জন করে ১২ জন গেট কীপার সিগনাল ব্যারিয়ারে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও কর্তব্যরত রয়েছে মাত্র ৬ জন। রেল ক্রসিংয়ের উভয় পাশে আরও দু’টি সিগনাল ব্যারিয়ার ওপেন থাকার কারলে সিগনাল অমান্য করে চরম ঝুঁকি নিয়ে উল্টো পথ দিয়ে গাড়ি চলাচল করে। এদিকে এলাকার প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় যত্রতত্র গাড়ির রং পার্কিং, অবৈধ মোটর সাইকেল গ্যারেজ, টায়ারের দোকান ও অন্যান্য স্থাপনার বর্ধিত অংশে দখল হয়ে গেছে কদমতলী মূল সড়কের উভয় পাশ। একদিকে প্রভাবশালী মহল কর্তৃক সড়কে অবৈধ স্থাপনা তৈরী, অন্যদিকে লোকবল সংকটের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ায় কদমতলী মোড় থেকে উত্তর দিকে আর্টমাসিং মোড়, পূর্ব দিকে শুভপুর বাস স্ট্যান্ড হয়ে মাঝির ঘাট টু টং ফকিরের মাজার, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পাঠানটুলী ও পোস্তার পাড় এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রোববার সরেজমিনে এলাকা ঘুরে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিএমপি’র ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের টিআই (সদরঘাট) মোশারফ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, কদমতলী রেল ক্রসিংয়ে প্রায় সময় সিগনাল পোস্ট অমান্য করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উল্টো পথে গাড়ী চলাচলের বিষয়টি সঠিক। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে কেউ কারও কথা মানতে চায়না। জীবনের ঝুঁকি রোধে এ এলাকাসহ সর্বত্র হেলমেটবিহীন মোটর সাইকেল চালানো, উল্টো পথে গাড়ী চালানো, সড়ক থেকে অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়াসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সড়ক শৃঙ্খলা আনায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, এ ব্যাপারে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই, আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।
কদমতলী রেল ক্রসিংয়ে উল্টো পথে গাড়ী চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মরত গেট কীপার অর্জুন বড়ুয়া ট্রাফিক বিভাগকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ আন্তরিক হলে কেউ উল্টো পথে গাড়ী চলাচলের সাহস পাবেনা। রেল ক্রসিংয়ে যত দোষ সবগুলো রেল কর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার ফারুক আজম বলেন, লোকবল সংকটের কারণে সারাদেশে রেলওয়ের সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন রুটে রেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়েনি। বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৪৭ হাজার কর্মচারীর পদ রয়েছে। তন্মধ্যে কর্মরত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার কর্মচারী। রাজস্বখাতের বাইরে রেলে মাস্টার রোল ও আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেনা। কদমতলীসহ দেশের সকল রেল ক্রসিং ও রেলের অন্যান্য স্থাপনায় লোকবল নিয়োগ দিলে আমরা দুর্ঘটনামুক্ত জনগণের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে পারবো।
এ বিষয়ে মোবাইলে জানতে চাইলে ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, পিপিএম জানান, লোকবল সংকটের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সাময়িক কষ্ট হচ্ছে। শুধু কদমতলী রেল ক্রসিং নয়, অধীনস্থ সড়কে হেলমেট, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সবিহীন যারা উল্টো পথে গাড়ী চালায় কিংবা অবৈধ গাড়ী চালায় তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ প্রতিনিয়ত আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। আমি নিজেও সড়কে গিয়ে অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিয়েছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ