আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

জলাবদ্ধতা নিরসণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বর্ষাকালের আগেই দ্রুত এবং কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সোমবার পরিচ্ছন্ন ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয় সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন তিনি। সভায় তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য নির্ধারিত হটস্পটগুলোতে আগামী বুধবারের মধ্যেই খনন কাজ শুরু করতে হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে হুইল স্কেভেটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির যে ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত পূরণ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ব্যাকহোলোডার গাড়ি সংগ্রহ করেছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪০ হাজার বিন বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি ওয়ার্ডগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করছি।
“যেসব যন্ত্রপাতি সংস্কারের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে, সেগুলো মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।কিছু এলাকায় রাস্তাঘাট ভাঙ্গা থাকায় যেগুলো মানুষ জায়গায় হাটতে পারছে না। অনেক জায়গায় ওয়াসা রাস্তা খনন করে রেখেছে সেখানে আমরা কাজ করতে পারছি না। ক’মাস পরেই বর্ষাকাল কাজেই এই ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যে যতটুক কাজ করা যায় ততটুক এর মধ্যে করতে হবে। সড়ক সংস্কারে ভালো মানের বিটুমিনসহ নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। ”
সভায় শীতকালীন মশার উপদ্রব কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মেয়র। তিনি বলেন, “মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশার ওষুধ স্প্রে করতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।”

প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে নালা পরিষ্কারের জন্য ২০ জন করে পরিচ্ছন্ন কর্মী বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় সভায়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নালা পরিষ্কারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভার সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেমসহ পরিচ্ছন্ন ও প্রকৌশল

বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় নগরীর জলাবদ্ধতার উপর মতামত দেন সমাজকর্মী শাহরিয়ার খালেদ।
সভার আলোচনায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বিভাগীয় প্রতিবন্ধকতা এবং সমাধানের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। মেয়র কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে হবে।” এমন উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চবি প্রশাসনিক ভবনে তালা প্রো-ভিসির ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন। সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চবি উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সংহতি জানিয়ে এসময় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, প্রচার সম্পাদক মুশরেফুল হক রাকিব, সদস্য ও অতীশ দীপংকর হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদ শাহরিয়ার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক চন্দনা রানী, ছাত্র ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

ভবনে তালা লাগানো শেষে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলে সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। জামাতিদের টাকায় নয়। বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনায় সভায় উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খান স্যার পাকিস্তানিদের যোদ্ধা বলেছে। অথচ এই পাকিস্তানি বাহিনী এদেশের জনগণকে হত্যা করেছে। আমাদের মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে। তার এ বক্তব্যর জন্য ক্ষমা চেয়ে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ ছাড়া আমরা তালা খুলব না।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, শামীম স্যারের বক্তব্যকে আমরা ঘৃণাভরের প্রত্যাখ্যান করেছি। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বুঝা যায় তিনি ১৯৭১ সালে যদি তিনি থাকতেন, তাহলে রাজাকারের ভূমিকায় পালন করতেন। আমরা অবশ্যই তার পদত্যাগ দাবি করছি।

এর আগে, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে গত রোববার চবি প্রশাসনের আলোচনা সভায় অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দিন নির্ধারিত ছিল। তারা (পাকিস্তান সেনাবাহিনী) ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা জীবিত না মৃত অবস্থায় ফিরবে- সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে- এই ধারণা রীতিমতো অবান্তর। এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এই দেশকে অন্য একটি দেশের করদরাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। অনুষ্ঠানে মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ আনিস জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জামাল উদ্দিন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র সহ সভাপতি মুস্তফা নঈম, কার্যকরী সদস্য সালেহ নোমান, গ্রন্থগার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও অপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ ও সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল পাশা প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ফিরে এসেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটে। পরে অর্ন্তর্র্বতী সরকারের নেতৃত্বে জাতি নতুন এক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করে। জুলাই বিপ্লবে ছাত্র জনতার নেতৃত্বে সকল পেশার, সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে এই ঐক্যের আলোকে আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ