আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

গাজীপুরের সালনায় অস্ত্রসহ ৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

সুরুজ্জামান রাসেল গাজীপুর প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুরুজ্জামান রাসেল গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার দক্ষিণ সালনা ইপসা গেইট এলাকায় ডাকাতির প্রস্ততি গ্রহন করাকালীন অস্ত্রসহ ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলামের দিক-নির্দেশনায় সদর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার দ্বীন-ই-আলমসহ ওসি মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ মহানগরীর সদর থানার দক্ষিণ সালনা ইপসা গেইট এলাকায় পুলিশ অভিযানে যায়। এসময় এসআই কামরুলের নিরলস প্রচেষ্টায় ইপসা গেইটের সামনে ময়মনসিংহ টু ঢাকা মহাসড়কের পূর্ব পাশে পাকা রাস্তার উপর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ১৫/১৬ জন ডাকাত ছুটাছুটি করে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মধ্যে ০৩ জনকে আটক করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জন ডাকাত দৌড়ে পালিয়ে যায়। উপস্থিত জনসাধারণের সামনে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক আলো ও টর্চ লাইটের আলোতে সাবধানতার সাথে আটককৃতদের দেহ তল্লাশী করে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র
উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্যরা হল- (১) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার নয়নপুর এলাকার মোঃ খোকন মিয়ার ছেলে সেলিম আহাম্মেদ (২৩),
(২) মুক্তাগাছা থানার আমোদপুর খাঁন বাড়া এলাকার মোঃ জাহেদ আলীর ছেলে মোঃ তোফাজ্জল হোসেন (২৭) এবং (৩) শেরপুর সদর থানার জুগনীবাগ এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে মোঃ হানিফ (৪২)।

গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, তারা গভীর রাতে এই এলাকা সহ মহাসড়কের আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন অলিগলি ও মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা ও ইজিবাইক যোগে যাতায়াতকারী যাত্রীদের থামিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আঘাত করে তাদের নিকট হতে নগদ টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মালামাল ডাকাতি করে চলে যায়। মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের টার্গেট করে তাদের সর্বস্ব ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে গিয়ার, চাপাতি, চাকু সহ বর্ণিত ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছিল। আসামীরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটি বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এঘটনায় গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারায় সদর থানায় ৩৯ নং মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান পিপিএম জানান, চুরি, ছিনতাই, মাদক, ডাকাতিসহ যেকোনো অপরাধ দমনে সদর থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ