আজঃ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপ তিন দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। তিন দিনে এই মহাসড়কে দূর্ঘটনায় ১৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই মহাসড়কের অনেকস্থানে পাহাড়ি এলাকার উঁচু নিচু সড়ক। ঢালু পাহাড়ি রাস্তা আর অপ্রশস্ত সড়কে ঘন ঘন বাঁক। সারা বছরই ওই সড়কে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এবারের ঈদযাত্রায় সেই সড়কে ৭২ ঘণ্টায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ। সারা বছর দুর্ঘটনা ঘটলেও ঈদযাত্রার তিন দিনে ১৫ মৃত্যুর খবরে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া সড়কটি।

এর মধ্যে সবশেষ গত বুধবার সকালে মাইক্রোবাস ও বাসের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। যে স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র ৩০-৩৫ গজ দূরে ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছিল। একই এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) ভোরে দুইটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে ৩০ ফুট খাদে পড়ে ৯ জন আহত হন।

গাড়ি চালক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই এলাকার উঁচু-নিচু সড়কে বাঁকগুলো খুব বিপদজনক। ঈদের ছুটির মৌসুমে দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আসা চালকরা অপ্রশস্ত এ অচেনা সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ছেন। পাশাপাশি চিংড়ি ও মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ওঠে; বেশিরভাগ সময় সকালেই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এবারের তিনটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে সকালবেলা। ঈদযাত্রায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘনটার পর স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।

লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার বাসিন্দা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অত্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এই এলাকার মহাসড়ক দিয়ে দুইটি গাড়ি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। এখানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। আমি বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একনেক মিটিং এ বাজেট প্রণয়ন করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জানাচ্ছি।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, ঈদের দিন থেকে পর পর ৩ দিন লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এই পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকাল বেলা।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কটির চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অন্য জেলার চালকের জন্য অপরিচিত। এখানকার সড়কটি প্রশস্ত না থাকা, সড়কে সিগন্যাল না থাকা, বিপজ্জনক বাঁক থাকা, সকালে লবণ- মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাঈদ আল নোমানের সমর্থনে ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর মত বিনিময় সভা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের সমর্থনে ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক মত বিনিময় সভা ৩০ জানুয়ারী রাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ হারুনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর উপদেষ্টা তোফাজ্জল হোসেন।

বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক চৌধুরী ফয়সাল, যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দিন লিটন, রাশেদুল হক জুয়েল, ব্যারিস্টার নাজমুল হক, রায়হান উদ্দিন চৌধুরী জুয়েল, ওমর ফারুক ভূঁইয়া, সিরাজুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন সুজন, হারুনুর রশীদ হারুন,

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ হাশেম, মোহাম্মদ বেলাল, মোহাম্মদ আব্দুল, ইব্রাহিম খলিল সুমন, নার্গিস আক্তার, রিয়াদ মোরশেদ, নুরুল আফসার টিটু, জাহেদুল আলম নিপু, শহিদুল ইসলাম পারভেজ, বাহার আহমেদ, মীর পারভেজ, আজফার ইকতিদার শাফি, ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী সুমন, ওসমান গনি তুষার, খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ এস্কান্দার, জসীম উদ্দিন, মোঃ সানজিদ, মোহাম্মদ আরিফ, মোহাম্মদ রকি, মোহাম্মদ জিয়া, মোহাম্মদ বাবর, নিজামুদ্দিন, সখিনা বেগম, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ ফিরোজ, মোহাম্মদ রিপন, সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাকি, ইয়াসমিন আক্তার সুমি, জানু আক্তার, শওকত হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, সাঈদ আল নোমান ক্লিন ইমেজের স্মার্ট রাজনীতিবিদ। তাকে বিজয়ী করার জন্য ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীকে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের আগামীর ভূমিকা চট্টগ্রামবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন,সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিরলস পরিশ্রম করে, মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য আহবান করতে হবে। সাঈদ-আল-নোমান দলের সম্পদ তথা দেশের সম্পদ। সাঈদ- আল- নোমানকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

বোয়ালখালীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে নিজ ঘরে মোঃ জমির উদ্দিন (২৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

জমির কেরানী বাজার শুক্কুর সওদাগরের বাড়ির জহির আহমদের ছেলে। তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। তার ভাইপো রুহুল উল্লাহ জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের কারণে জমির উদ্দিন মানসিক চাপে ছিলেন এবং পরিবারের অগোচরে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ