আজঃ রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপ তিন দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। তিন দিনে এই মহাসড়কে দূর্ঘটনায় ১৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই মহাসড়কের অনেকস্থানে পাহাড়ি এলাকার উঁচু নিচু সড়ক। ঢালু পাহাড়ি রাস্তা আর অপ্রশস্ত সড়কে ঘন ঘন বাঁক। সারা বছরই ওই সড়কে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এবারের ঈদযাত্রায় সেই সড়কে ৭২ ঘণ্টায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ। সারা বছর দুর্ঘটনা ঘটলেও ঈদযাত্রার তিন দিনে ১৫ মৃত্যুর খবরে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া সড়কটি।

এর মধ্যে সবশেষ গত বুধবার সকালে মাইক্রোবাস ও বাসের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। যে স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র ৩০-৩৫ গজ দূরে ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছিল। একই এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) ভোরে দুইটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে ৩০ ফুট খাদে পড়ে ৯ জন আহত হন।

গাড়ি চালক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই এলাকার উঁচু-নিচু সড়কে বাঁকগুলো খুব বিপদজনক। ঈদের ছুটির মৌসুমে দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আসা চালকরা অপ্রশস্ত এ অচেনা সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ছেন। পাশাপাশি চিংড়ি ও মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ওঠে; বেশিরভাগ সময় সকালেই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এবারের তিনটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে সকালবেলা। ঈদযাত্রায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘনটার পর স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।

লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার বাসিন্দা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অত্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এই এলাকার মহাসড়ক দিয়ে দুইটি গাড়ি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। এখানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। আমি বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একনেক মিটিং এ বাজেট প্রণয়ন করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জানাচ্ছি।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, ঈদের দিন থেকে পর পর ৩ দিন লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এই পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকাল বেলা।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কটির চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অন্য জেলার চালকের জন্য অপরিচিত। এখানকার সড়কটি প্রশস্ত না থাকা, সড়কে সিগন্যাল না থাকা, বিপজ্জনক বাঁক থাকা, সকালে লবণ- মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি: চসিক মেয়র।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের গত ১৬ মাসে নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

শুক্রবার রাতে নগরের আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হলে বাসন্তী পূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বসন্ত উৎসবে উদ্যোগে বসন্ত উৎসব ও মিলন মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রীতির শহর।এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমরা চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চট্টগ্রামকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। গত ১৬ মাসে আমরা অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পেরেছি, নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি।সব ধর্মের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

এজন্য সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।সনাতনী সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে শ্মশান উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, নগরীর কয়েকটি শ্মশানঘাটে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও নতুন শ্মশান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো ধরনের উসকানি বা সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ জানাতে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।আমার দরজাও সব সময় সবার জন্য খোলা। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, এই শহর শুধু আমার নয়, আমাদের সবার। তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নালা খাল পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজার নবমী ও মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দাশ সাগর। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কান্তি চৌধুরী, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এর সহধর্মিণী চলে গেলেন নাফেরার দেশে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এর সহধর্মিণী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজ- সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!

মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ভোলা জেলা সমিতি, চট্টগ্রাম এর নেতৃবৃন্দ। এক শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন – বাংলাদেশের ইতিহাসে ভোলা জেলার নন্দিত জননেতা মাননীয় স্পীকারের সহধর্মিণীর অকাল মৃত্যু আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুমা দিলারা হাফিজ জীবিতাবস্থায় সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন – সংগ্রামে জননেতা মেজর (অবঃ)উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের পাশে থেকে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছেন।আমরা তাঁহার বিদেহী আত্মার সদাগতি কামনা করছি।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ