আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হস্তান্তর করলে বৃহত্তর সংগ্রাম: এ এম নাজিম উদ্দিন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর পোর্ট কলোনি ১২ নং রোডে শহীদ মিনার সামনে শুক্রবার বিকেলে সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বৈরাচারীর ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা মনোনীত আন্তর্জাতিক মাফিয়া ডি পি ওয়ার্ল্ড কে বন্দর এন সি টি হস্তান্তরের প্রতিবাদে বিশাল শ্রমিক জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ হারুন, সঞ্চালনা করেন তসলিমা হোসেন সেলিম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় শ্রমিক সম্পাদক চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ এম নাজিম উদ্দিন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয়বাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন।

বিশেষ বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম বন্দর সংযুক্ত শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী কাজী শেখ রুল্লাহ বাহার। আরও বক্তব্য রাখেন বন্দর শ্রমিক দলের শ্রমিক নেতা ইব্রাহিম খোকন, স্টাফ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, স্টাফ হাউজ গেইং আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, লাইসেন্স গেইং এর সভাপতি ইকবাল হোসেন, বন্দর শ্রমিক দলের সুমন, মোঃ হুমায়ুন, সামসু মিয়া টুকু, ডক শ্রমিক দলের নেতা আবুল কাশেম, মোহাম্মদ ফারুক, ওয়ার্চম্যানের কামরুল হাসান সহ অন্যান্য শ্রমিক

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রধান অতিথি এ এম নাজিম উদ্দিন তার বক্তব্য বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব অর্থায়নে আন্তর্জাতিক মানের একটি টানির্মাল নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নিয়ে কেন এত ষড়যন্ত্র মাফিয়াচক্র? ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেছে আজকে তার আদর্শ বাস্তবায়ন যারা করতে চায় তারা ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যার কারণে পালাতে ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে লুটপাট করার জন্য তারা বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সংযুক্ত ২৫ হাজার অধিক শ্রমিক কর্মচারী কর্মরত আছে। তাদের সাথে পরিবার পরিজন নিয়ে কয়েক লক্ষ রুটি রুজি স্থান সকলের যদি নিজেদের অধিকারের জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে রাজপথে নেমে আসে স্বৈরাচারিনী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মত পালাতে পথ খুঁজে পাবে না বর্তমান চাটুকার প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তিনি আরো বলেন কলোনিতে শ্রমিকদের যে সমস্যা তা প্রশাসন বন্দর কর্তৃপক্ষ একদিনের নির্দেশে সমাধান করতে পারেন। সভায় সকলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে বন্দর প্রতিনিধি অর্থাৎ সিবিএ নির্বাচনের দাবি জানান।

প্রধান বক্তা শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্য বলেন চট্টগ্রাম বন্দরের অতীতের অনেক ইতিহাস রয়েছে শ্রমিকের দাবি আদায়ের। শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দাবির প্রতি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে আদায় করে নিয়েছে দাবি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি অতীতের ন্যায় এখনো ভবিষ্যতেও সমর্থন ও সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। তাই প্রশাসনের প্রতি উদার্ত আহবান শ্রমিকের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম গড়ে তুললে আপনাদের পরিণতি অনেক খারাপের দিকে যেতে পারে সেদিকে না গিয়ে শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নিন।

বিশেষ বক্তা কাজী শেখরুল্লাহ বাহার বলেন, শ্রমিকেরা নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত কিন্তু তাদের দাবির প্রতি অকুত্যসমর্থন ব্যর্থ করে সকালে ঐক্যবদ্ধ প্রতিজ্ঞা শপথ নিয়েছেন। উপদেষ্টাদের যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তার দায়ভার বর্তমান উপদেষ্টা মন্ডলী ও সরকার প্রশাসন বন্দর কর্তৃপক্ষ সবকিছুর জন্য দায়ভার তাদের উপর বর্তাবে বন্দর অচলসহ সর্বাত্ম কর্মসূচি পালন করার জন্য প্রস্তুত আছে। আগামী ১৩ই মে শ্রমিক কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা বৈঠকের আশ্বাস

দিয়েছেন। তারপর ১৪ মে প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে আসছেন এরপরেও শ্রমিকদের দাবি, দেশবাসীর দাবি না মানলে ১৫ মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বন্দর বন্ধসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তার জন্য শ্রমিক কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ