চট্টগ্রাম অঞ্চলে এনসিপির পদযাত্রা শনি ও রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: আগামী শনিবার থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চলমান পদযাত্রা শুরু হচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম মহানগরীতে পদযাত্রা করবেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান এনসিপির চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা মিলিয়ে দুইদিনের পদযাত্রা কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে এনসিপি।

এর মধ্যে শনিবার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এনসিপির চলমান কর্মসূচি শুরু হবে। ওইদিন কক্সবাজারে কর্মসূচি শেষ করে বিকেলে বান্দরবান যাবেন এনসিপি নেতা-কর্মীরা।বান্দরবানের কর্মসূচি শেষ করে শনিবার রাতেই চট্টগ্রামে আসবেন এনসিপি নেতারা। রোববার (২০ জুলাই) সকালে রাঙামাটির উদ্দেশে নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম ছাড়বেন। দুপুরের মধ্যে রাঙামাটিতে কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাঙামাটিতে কর্মসূচি শেষ করে রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে এনসিপি নেতারা চট্টগ্রামে ফিরবেন। সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখান থেকে বহদ্দারহাট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা হয়ে নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট যাবেন। নিউমার্কেট থেকে টাইগারপাস হয়ে নেতাকর্মীরা যাবেন দুই নম্বর গেট এলাকায় বিপ্লব উদ্যানে। সেখানে মূল জমায়েত হবে। তবে যানজট ও অন্যান্য কারণে সূচি পরিবর্তন হতে পারে।

গোপালগঞ্জের মতো চট্টগ্রামেও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন কি না?- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, ‘চট্টগ্রামে হামলার শঙ্কার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রামে এরকম কিছু হলে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা প্রতিহত করবে। গোপালগঞ্জের পরে আমরা মনে করি না আওয়ামী লীগ আর নীরব ভূমিকায় আছে। এটা রাজনৈতিক দলগুলোর সামগ্রিক ব্যর্থতা বলে মনে করি। গোপালগঞ্জের পরে নিরাপত্তা নিয়ে আমরা নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য হচ্ছি।

দেশব্যাপী পদযাত্রার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ এখনো তৈরি করতে পারেনি সরকার। আমরা জনগণের দুয়ারে যাচ্ছি। তাদের চাওয়া-পাওয়া জানার চেষ্টা করছি। জুলাই সনদের বিষয়ে বক্তব্য শুনছি। এসব বক্তব্য আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরব।’

এদিকে গোপালগঞ্জে হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন এনসিপির চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ দায় এড়াতে পারে না। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার ব্যাপারগুলা এত বেশি চোখা হয়ে উঠছে যে, আমরা আমাদের গণঅভ্যুত্থানের ফসল কাদের হাতে তুলে দিয়েছি, তা নিয়ে নিজেরাই এখন চিন্তিত। আমরা নিজেরাই এখন এ বিষয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছি।’সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ইমন সৈয়দ ও যুব উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক টিপু সুলতান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই নিয়ে বিভাজন তৈরি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক বড়ো অশনিসংকেত – মুহাম্মদ শাহজাহান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে কেরানিহাটে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা । ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় আয়োজিত এই মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাইয়ের ছাত্রজনতার জীবন ও রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অভিশপ্ত ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। অসংখ্য মানুষ এই মুক্তির আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেসব নির্যাতিত, নিপীড়িত, অকুতোভয় মানুষদের আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। সেই বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের সেই অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আর সেই সুযোগে পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের বৃথা স্বপ্ন দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজকে তারই আগাম মহড়া দেখাচ্ছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল।

কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখেও এদেশের মানুষ নতিস্বীকার করেনি। সুতরাং যারা দ্বিতীয় ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই স্বপ্নকে জুলাইজনতা দুঃস্বপ্নে পরিণত করবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ আবারও রাজপথে নেমে আসবে। গণভোটের রায় মেনে না নিলে গণরোষের জন্য প্রস্তুত থাকুন। জুলাই নিয়ে বিভাজন তৈরি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক বড়ো অশনিসংকেত। গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নই বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, রক্তাক্ত জুলাই আমাদেরকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দিয়েছে। আর সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা পুনরায় লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তারা পুনরায় দুর্নীতির মহোৎসব করতে চায়। তারা পুনরায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকেই হাঁটতে চায়। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, এই বিপজ্জনক পথে হাঁটবেন না। বরং অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশকে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালনা করুন।

খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা নেছার উদদীন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেখিয়ে দিয়েছে, তারা কতটা সাহসী। তারা কতটা আত্মত্যাগী তাও তারা প্রমাণ করেছে। সুতরাং এরকম একটি জাতির গণরায়কে অসম্মান করার দুঃসাহস দেখাবেন না। অনতিবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি-দুঃশাসন থেকে বিরত থাকতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া শিমুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে। যে জাতি একবার বিজয়ী হতে শিখে গেছে, তাদের জনমতকে অশ্রদ্ধা করে পার পাওয়া যাবে না। অতএব, এখনও সময় আছে, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করুন। সবাই মিলে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে আসুন। যদি তা না করে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসন চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে পরিণতিও একই হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, এনসিপি নেতা সিফাত হোসেন, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জায়েদ হোসেন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, আ.ক.ম. ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, সাংগু থানা আমীর মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম, সাতকানিয়া পৌরসভার আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দিন আজাদ, উপজেলা সেক্রেটারি তারেক হোসাইন, কেরানীহাট সেক্রেটারি আবদুল মালেক, পৌরসভা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অন্যদিকে, পটিয়া উপজেলা আমীর জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সকাল ১১:৩০টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক। পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য জনাব জাফর সাদেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা গাজী আবুল কালাম, জাহাঙ্গীর আলম, পটিয়া শহর শিবিরের সভাপতি মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ ১১ দলীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

কর্ণফুলী উপজেলা আমীর মনির আবছার চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ০৫ টায় কর্ণফুলীর ক্রসিং মোড়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, নুরুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্ণফুলী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবরার হোসাইন, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের বায়তুলমাল সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ হারুন সহ প্রমুখ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

উপজেলা আমীর ডাঃ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরিফুর রশীদ, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইমাম উদ্দীন ইয়াছিন, বোয়ালখালী পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমীর জয়নাল আবেদীন, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ছাত্রশিবির বোয়ালখালী সদর শাখার সভাপতি আবু তাহের নোমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর সভাপতি মাওলানা নুরুল কবির, পৌরসভা সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান প্রমুখ।

আনোয়ারা উপজেলা আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আবদুল গণির সভাপতিত্বে বিকাল ০৫ টায় আনোয়ারা টানেল মোড়ে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, উপজেলা সেক্রেটারি আবুল হাছান সহ প্রমুখ ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

লক্ষ্মীপুরে কেয়ারটেকারকে প্রাণনাশের হুমকি ও বসতবাড়িতে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের দিঘলী ইউনিয়নে এক বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফারুক হোসেন, আকরাম হোসেন,| মহিন উদ্দিন, নাজমুল হোসেন, আরমান হোসেন, আমির হোসেন মুন্সি,আরিফ হোসেনসহ অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে।

গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দিঘলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বাবু রমাপুর গ্রামের ইউনুছ মাষ্টারের বাড়ির গ্রামের বাসিন্দা ও অভিযুক্তরা ০৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় সাইদুর রহমান মিলনের সাথে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলছিল। সাইদুর রহমান চাকুরীর সুবাদে চট্টগ্রামে বসবাস করায় তাঁর ভবনটির দেখভাল ও কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মেহেদী হাসান বাবু ও তাঁর ভাই আব্দুর রহিম।

বিরোধের জের ধরে গত সোমবার গভীর রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্ নিয়ে ওই ভবনে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভবনের নিচতলার থাই গ্লাসের ১০টি জানালা ভাঙচুর করে। পরে জানালার গ্রিল ও দরজার চৌকাঠে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বাবু জানান, অভিযুক্তরা বাড়িঘর ভাংচুর করতে এলে আমরা বাঁধা দেই। এতে হামলাকারীরা আমাদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ।

ভুক্তভোগী আরও জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ভবনের আসবাবপত্র, জানালা ও দরজার চৌকাঠ পুড়ে আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।উপায়ন্তর নাদেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের পর চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এদিকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে একাধিক বার মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চন্দ্রগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুর রব বলেন,একটি বাড়িতে হামলার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কেয়ারটেকার মেহেদী হাসান বাবু বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ