আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে ৮০ শতাংশের বেশি চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ, প্রতি ১০ জনে আটজনই আক্রান্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নীরবেই বাড়ছে চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ। একের পর এক বাড়ছে এই মশাবাহিত ভাইরাস জ্বর চিকুনগুনিয়া। যে হারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, সমহারে পদেক্ষেপ নেয়া তো দূরে থাক, দৃশ্যমান তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না। নীরবেই বিস্তার ঘটছে এডিসবাহিত এই ভাইরাসটির।একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন একই পরিবারের একাধিক সদস্য। স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত তথ্য বিবরণীতে ডেঙ্গু ও কোভিড থাকলেও চিকুনগুনিয়ার কোন তথ্যই মিলে না। যদিও বেসরকারি ল্যাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চিকুনগুনিয়া সংক্রমণের হার ৮০ শতাংশের বেশি। যা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকগণ।

এদিকে বেসরকারি পর্যায়ের তথ্য স্পষ্ট করে বলছে, প্রতি ১০ জনে আটজনই এই ভাইরাসে আক্রান্ত। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকরী উদ্যোগ। স্বাস্থ্য বিভাগও এখনও এই রোগ নিয়ে কোন আলাদা বার্তা দেয়নি। ডেঙ্গু ও কোভিড নিয়ে প্রতিদিনের বুলেটিন থাকলেও চিকুনগুনিয়ার তথ্য সেখানে অনুপস্থিত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভিড় বাড়ছে জ¦র, গিঁটে ব্যথা ও র‌্যাশে আক্রান্ত রোগীদের। কেউ কেউ পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসছেন, অনেকেই বাড়িতে শুয়ে অচল হয়ে পড়েছেন। আতঙ্ক ছড়ালেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নেই কার্যকর কোন উদ্যোগ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল ফয়সাল মো. নুরুদ্দীন চৌধুরী বলেন, এবার একসঙ্গে একাধিক ভাইরাস ছড়াচ্ছে। উপসর্গ একই হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এটি চিকুনগুনিয়া। শুরুতে ধরা না পড়লেও পরে বোঝা যাচ্ছে রোগী আসলে চিকুনগুনিয়াতেই আক্রান্ত।

অন্যদিকে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রব বলেন, চিকুনগুনিয়া জ্বরকে হালকাভাবে নিলে বিপদ হতে পারে। জয়েন্টে এত তীব্র ব্যথা হয় যে, রোগী হাঁটতেই পারেন না। তাই লক্ষণ দেখামাত্র ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, আমাদের কাছে যে পরিমাণ জ্বরের রোগী আসছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই চিকুনগুনিয়ার লক্ষণধারী। পরীক্ষার খরচ বেশি হওয়ায় অনেকে ল্যাবে যাচ্ছেন না। তাই লক্ষণ বিবেচনায়ই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে এখন চিকুনগুনিয়ার রোগীই বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গু ও করোনার চেয়েও বেশি রোগী মিলছে চিকুনগুনিয়ার। যা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। মশার বিস্তার থেকেই এটি ছড়াচ্ছে। তাই এখনই মশার বিস্তার রোধ করতে হবে। তাদের মতে চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুহার কম হলেও রোগ-পরবর্তী জটিলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। বিশেষ করে গিঁটে ব্যথা, ত্বকে র‌্যাশ, শরীরের দুর্বলতা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাই এটি প্রতিরোধে এখনই কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণের তাগিদ নিতে হবে।

চট্টগ্রামে সরকারি পর্যায়ে এখনও চিকুনগুনিয়ার আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও তিনটি বেসরকারি ল্যাবের তথ্যমতে, প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের এক সপ্তাহের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, এপিক হেলথ কেয়ারে ১৮৫ জন রোগীর মধ্যে ১৫৩ জনের চিকুনগুনিয়া পজিটিভ এসেছে; শনাক্তের হার ৮২ শতাংশ। এভারকেয়ার হাসপাতালের ল্যাবে ১৩২ জনের পরীক্ষা করে ৬৫ জনের মধ্যে রোগটি ধরা পড়ে। পার্কভিউ হাসপাতালের পাঁচদিনের রিপোর্ট বলছে, ৫৩ জনের মধ্যে ৪২ জনের দেহে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গড়ে শতকরা ৭৯ ভাগ আক্রান্ত।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মশাবাহিত রোগ বাড়ছে; বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। নগর থেকে গ্রামপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। তবে প্রত্যেককে নিজ থেকে সচেতন হতে হবে।প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ঢাকায় প্রথম বড় পরিসরে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন ১৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ডিসেম্বরে ফের এই রোগে আক্রান্ত হন ৬৭ জন। চলতি বছরও সংক্রমণের চিত্র সেই মাত্রাকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ