আজঃ বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬

কেন্দুয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য, রিমান্ডে মাস্টারমাইন্ডের নাম ফাঁস।

মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। চীনা নাগরিকসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হউয়া দুই আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।

বাদী রুবেল (৪৫), সাং কমলপুর, কেন্দুয়া পৌরসভা থানায় অভিযোগ করেন—তার মেয়ে ও দুই বান্ধবীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

এ ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর মামলা রুজু হয়। মামলায় স্থানীয় ফরিদুল ইসলাম (৩৫) ও চীনা নাগরিক Li Weihao (৩২) সহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

ওইদিনই কেন্দুয়া থানা পুলিশ ফরিদুল ইসলাম ও Li Weihao-কে আটক করে। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২১ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ রিমান্ডে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, পুরো চক্রের মাস্টারমাইন্ড দুজন। একজন চীনা নাগরিক নারী ইলা (Ella), যিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার উত্তরা এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করছেন। অপরজন তার দোভাষী সাগর, যিনি গাজীপুরের মালেকের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আরও জানায়, গত তিন-চার মাস আগে একই কৌশলে গাজীপুরের মালেকের বাড়ি এলাকার গার্মেন্টস কর্মী লিমা ও সুমাইয়াকে চীনে পাঠানো হয়েছে। তাদেরও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়।

মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, এজাহারে উল্লিখিত ছয় আসামির মধ্যে দুজন বর্তমানে চীনে অবস্থান করছে। আমরা ইলা ও সাগরের সন্ধান করছি। তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে মামলার তদন্তে আরও অগ্রগতি হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর আওতায় মামলাটি তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণীহাটি ইউনিয়নের কুথালিপাড়া গ্রামে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বসতবাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক চলাকালে রানিহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সমর্থক ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার চান্দুর লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে অর্ধশতাধিক ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোজাফফর নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মসজিদ-ঈদগাহ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত -৪।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের কলকতির ঝবঝবিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-মোঃ কামিল ইসলাম (৩০), মোঃ হাসমত আলী (৩৬), মোঃ বাকি বিল্লাহ এবং মোঃ আব্দুল হাকিম (৩৫)। আহতরা সকলেই জামায়াতের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সেটি বহাল ছিল। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে পূর্বের কমিটির সভাপতি পুনরায় একই পদে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে অন্য পক্ষ আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ এস এম আরাফাত ফয়সাল জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের আঘাত গুরুতর নয় এবং চিকিৎসা নিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ