আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি ভিডিও সংবাদ নিয়ে বিতর্ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

যাচাইহীন প্রতিবেদনে রেলওয়ে জিএম-এর মানহানি, সংশোধনের দাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণমাধ্যমের অন্যতম বড় শক্তি হলো সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য উপস্থাপন। কিন্তু সম্প্রতি একটি দৈনিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি ভিডিও সংবাদ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ভিডিওটির মূল বিষয়বস্তু ছিল একজন নারী অভিযোগকারী এবং রেলওয়ের আইন কর্মকর্তাকে ঘিরে। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে ভিডিওটির কভার ফটো এবং ভেতরের ভিজ্যুয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তকীন-এর ছবি—যার সঙ্গে উক্ত ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. সুবক্তকীন বর্তমানে দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা, দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রেল খাতের বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তার নেতৃত্বে সফলতার দিকে এগোচ্ছে। অথচ কোনো সম্পৃক্ততা ছাড়াই তার ছবি ভিডিও সংবাদে ব্যবহার করায় তার ব্যক্তিগত সুনাম ও মর্যাদা যেমন ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভাবমূর্তিও।

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মো. সুবক্তকীন বলেন—
“আমি উক্ত ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নই। অথচ আমার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। এটি আমার ব্যক্তিগত মানহানি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের শামিল। আমি অবিলম্বে এ বিষয়ে সংশোধনী প্রচার ও প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, সংবাদ পরিবেশনে যথার্থতা ও সততা রক্ষা করা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। অথচ এ ঘটনায় তা রক্ষা করা হয়নি, যা গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে—
“রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. সুবক্তকীন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও দক্ষ কর্মকর্তা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। অথচ অহেতুক তার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রচার করায় তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এমন ভুল দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”

সুশীল সমাজের আরেকজন প্রতিনিধি বলেন—

“গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বদ্ধতার প্রধান বাহক। তাই সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই এবং দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। অসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি ব্যবহার শুধু ব্যক্তি নয়, একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও আঘাত করে। এই ঘটনায় দ্রুত সংশোধনী দেয়া উচিত।”

ঘটনাটি শুধু একটি ভিডিও সংবাদে ছবি ব্যবহারের ভুল নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত সততার প্রশ্ন তুলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকতা যেমন জরুরি, তেমনি নির্ভুলতা ও প্রাসঙ্গিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ছবি ব্যবহারের মতো ঘটনাগুলো দর্শকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।

বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ